‘নারী কেলেঙ্কারি রোধে’র অজুহাতে যাত্রী ছাউনিতে জমজমাট ব্যবসা!

ঢাকা, রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭,   ১৫ রজব ১৪৪২

‘নারী কেলেঙ্কারি রোধে’র অজুহাতে যাত্রী ছাউনিতে জমজমাট ব্যবসা!

জাফর আহমেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০২ ১৫ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:০৫ ১৫ জানুয়ারি ২০২১

আজিমপুর এতিমখানা যাত্রী ছাউনি দখল করে দোকান বসানো হয়েছে- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আজিমপুর এতিমখানা যাত্রী ছাউনি দখল করে দোকান বসানো হয়েছে- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানী ঢাকা মহানগরীর আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড। এখান থেকেই শুরু ও শেষ ঢাকার গণপরিবহনের যাত্রা। এই স্ট্যান্ডে যাত্রীদের বিশ্রামের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি যাত্রী ছাউনি স্থাপন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

তবে ‘নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অপকর্ম রোধে’র অজুহাতে স্থানীয় কাউন্সিলরের নির্দেশনায় আজিমপুর যাত্রী ছাউনিতে বসানো হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলে এই ছাউনিসহ অন্যান্য ছাউনি ঘিরে চলছে জমজমাট ব্যবসা।

সরেজমিনে দেখা যায়, আজিমপুরের যাত্রী ছাউনিগুলো চরম অব্যবস্থাপনায় রয়েছে। ছাউনিগুলো দখল করে গড়ে উঠেছে ভাসমান দোকান। সেসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে চা, পান, সিগারেট। আবার কেউ পুরি, পেঁয়াজু, সিঙ্গারা, ফুচকা ও চটপটি বিক্রি করছে। ছাউনিতে চলছে আড্ডা। সামনে রাখা হয়েছে গাড়ির বিভিন্ন মালামাল। কোনো কোনো জায়গা আবার দখল করে পসরা সাজিয়ে বসেছে হকাররা। বাইরে থেকে বুঝার উপায় নেই ছাউনিগুলো পরিবহন যাত্রীদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে। 

আজিমপুরের এতিমখানা যাত্রী ছাউনিতে দোকান খুলে বসেছেন আব্দুর রহমান। ছাউনি দখল করে পুরি, পিয়াজু, সিঙ্গারা বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এক মাস হয়েছে দোকান খুলেছি। এখানকার পরিবেশ ভালো করতেই দোকানটি খোলা হয়েছে।

দোকান পাওয়ার বিনিময়ে কত টাকা চাঁদা দিতে হয়-এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমান বলেন, কোনো টাকা দিতে হয় না। কাউন্সিলর মানিক ভাইয়ের অনুমতি পেয়ে দোকান খুলেছি। কেউ যদি চাঁদা চায় তাহলে তাকে অবগত করতে তিনি বলেছেন।

বিকাশ পরিবহনের কন্টাকটর বেলাল বলেন, যাত্রী ছাউনি দখলে সবচেয়ে বেশি জড়িত স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ছাউনিতে যাত্রীদের বসার কোনো সুযোগ নেই। কেউ কিছু বলতেও পারে না। কিছু বলতে গেলেই প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়তে হয়।

এ ব্যাপারে ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আজিমপুর যাত্রী ছাউনির টিকিট কাউন্টারে আমি দোকান খুলতে বলেছি। কারণ রাতে ছাউনিতে বাসচালক, হেলপাররা নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন সময় মাদকের আড্ডা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, যাত্রী ছাউনিতে একজন কাউন্সিলর কাউকে দোকান খোলার অনুমতি দিতে পারেন না। আমরা এই দোকান অবশ্যই উচ্ছেদ করে দেব। ঠিকানা দিন, আমরা ব্যবস্থা নেব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/এমকেএ