ফরেনসিক রিপোর্ট বলে দেবে দিহানের তিন বন্ধুর ভাগ্য

ঢাকা, শনিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭,   ১৪ রজব ১৪৪২

ফরেনসিক রিপোর্ট বলে দেবে দিহানের তিন বন্ধুর ভাগ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৭ ১১ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:০২ ১১ জানুয়ারি ২০২১

তানভীর ইফতেখার দিহান। ছবি: সংগৃহীত

তানভীর ইফতেখার দিহান। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কলাবাগানে ‘ও’ লেভেল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত তানভীর ইফতেখার দিহানের তিন বন্ধুকে নিয়েও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে এসব প্রশ্নের জবাব মিলবে ফরেনসিক রিপোর্ট ও দিহানের ডিএনএ টেস্টের পর।

এদিকে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি দিহানের তিন বন্ধুর বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হয়। তবে প্রয়োজনে আবারো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে থানায় ডাকা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আনুশকার এক স্বজন রোববার গণমাধ্যমকে বলেন, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের ভাষ্য ও পুলিশের সুরতহাল প্রস্তুতকারী পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, মেয়েটির যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথে গভীর ক্ষত ছিল। দেহের দুই অংশ থেকেই রক্তপাত হচ্ছিল। একজনের পক্ষে এমন নৃশংসতা চালানো সম্ভব নয়। দিহান যদি একাই এমন নৃশংসতা চালায়, তাহলে সে কি নেশাগ্রস্ত ছিল? নাকি নিজে ও মেয়েটাকে উত্তেজনাকর কিছু খাইয়েছিল?

আরো পড়ুন: অপু বিশ্বাসের সঙ্গে এক হচ্ছেন শাকিব খান

তবে দিহান একা, নাকি তার সঙ্গে তিন বন্ধু জড়িত তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার কারাগারে থাকা আসামি দিহানের ডিএনএ পরীক্ষার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি দিহানের তিন বন্ধুর বিরুদ্ধে। মামলার এজাহারেও দিহান ছাড়া অন্য কাউকে আসামি করা হয়নি। মুচলেকা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেয়া হয় ৩ জনকে। তবে তদন্তের স্বার্থে যে কোনো তথ্যের জন্য জিজ্ঞাসাবাদে তাদের ডাকা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

আরো পড়ুন: দেরি করে ফেরায় স্বামীর মুখে গরম তেল ঢেলে দিলেন স্ত্রী

আনুশকার মরদেহ ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেছেন, ‘মেয়েটি বিকৃত ও কুরুচিপূর্ণ যৌনাচারের শিকার হয়েছিল। তার যৌনাঙ্গ এবং পায়ুপথে ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।’ এর পরই স্বজনরা প্রশ্ন তুলছেন- চিকিৎসকের বিবরণ অনুযায়ী এমন বর্বরোচিত পাশবিকতা একজনের পক্ষে করা সম্ভব কিনা?

এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা অভিযোগ করেন, তারা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছেন, মেয়ের ওপর যে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে।

গত ৭ জানুয়ারি কলাবাগানে অভিযুক্ত দিহানের নিজ বাসায় ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ও লেভেলের শিক্ষার্থীকে। দিহানের বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। পরে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নিহতের বাবা বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে