‘টি-বয়’ থেকে যেভাবে ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইলার রাতুল

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১২ ১৪২৭,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘টি-বয়’ থেকে যেভাবে ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইলার রাতুল

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫১ ১৭ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৮ ১৭ নভেম্বর ২০২০

গ্রেফতার মোহাম্মদ ইয়াসিন রাতুল

গ্রেফতার মোহাম্মদ ইয়াসিন রাতুল

মোবাইল চুরি করে ফেসবুক আইডি দখলে নিয়ে মেয়েদের ব্ল্যাকমেইল করা নেশায় পরিণত হয় মোহাম্মদ ইয়াসিন রাতুলের। অবশেষে রাতুল নামের ওই প্রতারককে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানী বাংলামোটর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার ক্রাইম। 

মঙ্গলবার সিআইডির সদর দফতরের সাইবার ইন্টিলিজেন্স (সিপিসি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

এসপি মাসুদ বলেন, প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতো রাতুল। এরপর সেই দৃশ্য ভিকটেমের মোবাইলে ধারণ করে মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যেত। মোবাইল বিক্রির আগে ভিকটিমের ভিডিও কন্টেন্ট এবং ফেসবুক আইডির দখল নিয়ে রাখতেন রাতুল। সেটা দেখিয়ে দিনের পর দিন ওইসব তরুণীদের ব্লাকমেইল করতেন। এমন একাধিক অভিযোগে রাতুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারের সময় তার কাছে থাকা প্রতারণা এবং ব্ল্যাকমেইলে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল সেট, দশটি সিম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মোবাইলগুলোতে চারটি ফেক ফেসবুক আইডি এবং নয়টি জিমেইল অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়।

জানা গেছে, মোহাম্মদ ইয়াসিন ওরফে রাতুল নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে ঢাকার মিরপুরে চলে আসে। প্রথমে স্থানীয় এক নেতার বাসায় টি-বয় বা চা বয় হিসেবে কাজ নেয়। পরে মোহাম্মদপুর রিংরোডে এক শো রুমে সেলসম্যানের চাকরি নেয়। হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দিয়ে অপরাধের পথে পা বাড়ায় এ তরুণ। এক পর্যায়ে সে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজে জড়িয়ে পড়ে।

রাতুলের প্রতারণার স্বীকার হয় যেভাবে

রাতুলের প্রতারণার স্বীকার একজন ভিকটিমের বরাত দিয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, ছয় মাস যাবত রাতুলের সঙ্গে মেয়েটির পরিচয়, ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় তারা দেখা করতো। একদিন মেয়েটিকে চাঁদপুর যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। মেয়েটি তার দুই বন্ধুসহ রাতুলের সঙ্গে লঞ্চে চাঁদপুর যান। 

লঞ্চে থাকাকালীন বন্ধুদের অনুপস্থিতে কৌশলে মেয়েটির মোবাইলে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে রাতুল। লঞ্চ থেকে ঢাকায় নামার পর মোবাইলে ব্যালেন্স না থাকার অজুহাতে মেয়েটির মোবাইল নিয়ে কল করতে আড়ালে যায় রাতুল। অনেক সময় রাতুলের অপেক্ষা করেন ওই মেয়ে। তবে রাতুল আর ফিরে আসেনি। 

মেয়েটির অভিযোগ, তার মোবাইলে থাকা বিকাশের ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন রাতুল। পরের দিন ২৫ হাজার টাকা দাবি করে, না দিলে ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এমনকি মেয়ের ফেসবুক আইডিও রাতুল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। মেয়েটির বাবা-মায়ের কাছেও এ বিষয়ে ফোন করে প্রতারক রাতুল।

এসপি মাসুদ বলেন, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে রাতুলকে গ্রেফতার করে তার মোবাইল থেকে আরো দশজন ভিকটিমের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ফেক কল ও ফেক হিস্ট্রির অ্যাপসসহ প্রতারণায় ব্যবহৃত নানা টেকনোলজি বিষয়ে রাতুলের মোবাইলে প্রচুর তথ্য পাওয়া গেছে।

যেভাবে রাতুলের ফাঁদে পড়েন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

একজন ভিকটিমের তথ্য সম্পর্কে সাইবার ক্রাইমের এই কর্মকর্তা বলেন, ভিকটিম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছয় মাস আগে এক ইউটিউবার মেয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক মিডিয়া ব্যক্তির সন্ধান পান ভিকটিম, যা ছিলো িআসামি রাতুলেরই ফেক আইডি। ভিকটিম ফেসবুকে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন। প্রথমে ফেসবুক চ্যাটিং এবং পরবর্তীতে ফোনালাপ হয়। ফোনালাপগুলোতে আসামি বিশেষ সফটওয়ারের মাধ্যমে ভিকটিমের সঙ্গে মেয়ে কণ্ঠে কথা বলে। 

পরবর্তীতে ফেক আইডিটির মাধ্যমে রাতুলের সঙ্গে ভিকটিমের পরিচয় হয়। এভাবে ভিকটিমের সঙ্গে রাতুলের সুসম্পর্ক তৈরি হয়। এক পর্যায়ে তাদের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। রাতুল এমন বিভিন্ন উপায়ে ভিকটিমদের বিশ্বাস-আস্থা অর্জন করে। সে ভিকটিমদের ভিডিও কলে আসার প্ররোচনা দেয় এবং পরবর্তীতে ন্যুড ভিডিও স্ক্রিন রেকর্ড করে রাখে।

এরপর আসামি ভিকটিমদের দেখা করার জন্য ডেকে আনে। প্রথম দেখাতেই রাতুল ভিকটিমের মোবাইল চুরি করে পালিয়ে যায়। চুরিকৃত মোবাইল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে ফরমেট দিয়ে মোবাইল বিক্রি করে দেয়। বিক্রির আগে ভিকটিমের ফোনের ফেসবুক, মেইল দখল করে নেয়। সেই হ্যাককৃত ফেসবুকের সহায়তা নিয়ে প্রতারণা করতে থাকে রাতুল।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/আরএইচ