দোকান ভর্তি ফোন থাকার পরও চোর নিয়ে গেল একটি, রেখে গেল টাকা-চিরকুট

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

দোকান ভর্তি ফোন থাকার পরও চোর নিয়ে গেল একটি, রেখে গেল টাকা-চিরকুট

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৪ ২৯ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:০৫ ২৯ অক্টোবর ২০২০

চোর রেখে গেল টাকা ও চিরকুট। ছবি: সংগৃহীত

চোর রেখে গেল টাকা ও চিরকুট। ছবি: সংগৃহীত

সৎ মানুষ যখন প্রয়োজনের তাগিদে চুরি করতে যায়, তখন কিছু চিহ্ন রেখে আসে। ঢাকার দোহারে বুধবার রাতে এমনই এক ঘটনা ঘটলো। টিনের চালা কেটে দোকানে ফোন চুরি করার পর টাকা ও চিরকুট রেখে গেছে এক চোর। এ ঘটনা অবাক করেছে অনেককেই।

দোহার উপজেলার কার্তিকপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, দোকানে একাধিক মোবাইল থাকলেও চোর নিয়েছেন ভিভো ওয়াই থ্রি মডেলের একটি ফোন। চুরির পর ওই দোকানেই রেখে গেছেন একটি চিরকুট ও তিন শ’ টাকা।

চোরের রেখে যাওয়া ওই চিরকুটে লেখা ছিল, ‘তোমার দোকানের ক্ষতি না করে একটি ভিভো ফোর জি মোবাইল নিলাম। আমার কাছে টাকা নাই। পরে কমিয়ে কমিয়ে দিয়ে যাবো। ক্ষমা করবেন।’

বৃহস্পতিবার সকালে ব্যবসায়ী মিজান দোকান খুলে উপরের সিলিং ও টিনের চালা কাটা দেখে ভয় পেয়ে যান। তিনি ধারণা করেন হয়তো তার দোকানের সব মালামালই চোরে নিয়ে গেছেন। কিন্তু চিরকুট পাওয়ার পরে অনেকটাই ভয় কমেছে তার। দোকানের চালা কেটে মাত্র একটি ফোন নিয়ে সঙ্গে তিন শ’ টাকা দেখে নিজেও অবাক হয়েছেন ওই ব্যবসায়ী।

ব্যবসায়ী মিজান বলেন, বুধবার রাতে আমার দোকানের টিনেরচালা কেটে একটি মোবাইল নিয়ে গেছে। সঙ্গে একটি চিরকুট ও তিন শ’ টাকা রেখে গেছে। এ আবার কেমন চোর! এমন চুরির ঘটনা তিনি আগে কখনো দেখেননি কিংবা শোনেননি।

এ বিষয়ে বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, চোরটির হয়তো একটি অ্যানড্রয়েড মোবাইলের প্রয়োজন ছিল তাই ফোনটি নিয়ে গেছে। তাছাড়া ভিভো কোম্পানীর স্মার্টফোন তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এই চোর তরুণই হতে পারেন। তবে তিনি যেহেতু কিছু টাকা রেখে গেছেন, আস্তে আস্তে বাকি বিলও পরিশোধ করতে পারেন।

জানা যায়, ভিভো ওয়াই থ্রি মডেলের বর্তমান বাজার মূল্য ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এই ডিভাইসের পেছনে রয়েছে ১৩ ও ২ মেগাফিক্সেলের দুটি ক্যামেরা। সেলফি ক্যামেরাটি 8 মেগাফিক্সেলের। তবে ওই দোকানে এর চেয়েও ভালো মডেলের মোবাইল ফোন ছিল। কিন্তু চোর বেশি দামি স্মার্টফোনের দিকে নজর দেয়নি।

অনেকের ধারণা, চোর মশাই হয়তো প্রেমে পড়েছেন; ফলে প্রেমিকাকে উপহার দেয়ার জন্যই এমন কাণ্ড করেছেন। তবে চোর যদি বিষয়টি আরেকটি চিরকুটে লিখে যেতেন তবেই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে