লাখ টাকায় প্রতিদিন লাভ ১৩০০! আটক ৩

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৯ ১৪২৭,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

লাখ টাকায় প্রতিদিন লাভ ১৩০০! আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২২ ২৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২১:২৩ ২৭ অক্টোবর ২০২০

ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ায় জড়িত প্রতারক চক্রের তিনজন আটক-ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ।

ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ায় জড়িত প্রতারক চক্রের তিনজন আটক-ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ।

রাজধানীতে এক হাজার ৪২৭ জনের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ায় জড়িত প্রতারক চক্রের তিনজনকে আটক করেছে পুলিশের সিআইডি বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলো-গাজী মহিউদ্দিন, আনিছুর রহমান ও মো. হারুনুর রশীদ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি কম্পিউটার, নগদ ৪৭ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতারণার ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ৫৯৪ টাকা জমা পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার।

তিনি বলেন, সোপান প্রোডাক্ট লিমিটেড ও সোপান প্রপার্টিজ লিমিটেড নামে দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারণা করতো এ প্রতারক চক্র। মূলধনসহ মোট ২৫০ শতাংশ টাকা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সদস্য সংগ্রহ করে চক্রটি। তাদের কাছে লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতিদিন লাভ হবে এক হাজার ৩০০ টাকা। এমন প্রলোভনে গত আট মাসে এক হাজার ৪২৭ জনের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্রটি। চক্রটি অনলাইনের মাধ্যমে কার কত টাকা মূলধন ও কত টাকা লভ্যাংশ তা সরাসরি দেখতে পারতো। এসব প্রতারণার  অভিযোগ পেয়ে চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে আটক করেছে সিআইডি।

অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য চক্রটি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসে অফিস নেয়। এতে মানুষ তাদের কাছে বিনিয়োগ করতে কোনো সংকোচবোধ করতো না। 

তিনি বলেন, গত আট মাসে মূলধনসহ ২৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সদস্য সংগ্রহ করে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল প্রতারক চক্রটি। তারা সরকারি চাকরিজীবী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে সদস্য করতো।

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকের লগইন স্লট খুলে সদস্যদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন প্যাকেজে লভ্যাংশ দিতো। চক্রটি আড়াই হাজার টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ৩০ টাকা লভ্যাংশ দিতো। সাত হাজার ৫০০ টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ১০০ টাকা লভ্যাংশ, ২২ হাজার ৫০০ টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ৩০০ টাকা, ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ৯০০ টাকা, এক লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন এক হাজার ৩০০ টাকা লভ্যাংশ দেবার প্রলোভন দেখাতো।

রেজাউল হায়দার বলেন, একজন সদস্য বিনিয়োগের জন্য তিনজনকে নিয়ে এলে তাকে ১০ শতাংশ বোনাসসহ ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত লাভ দেয়া হতো। এভাবে তিন মাসে এক হাজার ৪২৭ জনের কাছ থেকে প্রায় ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ প্রতারক চক্র।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এমকেএ