পুরান ঢাকায় রাত যত গভীর যানজট তত তীব্র

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৭,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

পুরান ঢাকায় রাত যত গভীর যানজট তত তীব্র

জাফর আহমেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৪ ২৩ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:৪৪ ২৪ অক্টোবর ২০২০

মধ্যরাতে পুরান ঢাকার সড়কে যানজট। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মধ্যরাতে পুরান ঢাকার সড়কে যানজট। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানী ঢাকায় যানজট নতুন কিছু নয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আইন না মানা, যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কের কারণে ঢাকায় যত্রতত্র প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এই জট ছাড়তে ছাড়তে দিন শেষে মধ্যরাত অবধি পার হয়ে যায়। তবে রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় রাতে মালবাহী ট্রাক প্রবেশ করে সেই যানজটকে আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। 

সরেজমিনে দেখে গেছে, বিশেষ করে রাজধানীর পুরান ঢাকায় অর্থাৎ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্মরণী, মালিটোলা, সুরিটোলা, বংশাল, নয়াবাজার ও বাবুবাজারে এই জট তীব্র আকার ধারণ করে।

রাজধানীর ফুলবাড়িয়া থেকে রায় সাহেব বাজার পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার দোকান গড়ে উঠেছে। এসব ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মালামাল পাঠানো হয়। আর এসব মালামাল রাস্তার পাশে রাখা হয়। একটু রাত হলেই ট্রান্সপোর্টের গাড়িগুলো আসতে থাকে মালামাল ওঠানোর জন্য। রাস্তার মাঝে ট্রান্সপোর্টের বড় বড় ট্রাকগুলো সারি সারি করে দাঁড় করিয়ে মাল ওঠানো হয়। রাতভর চলতে থাকে এই কাজ। এতে করে অন্যান্য যানবাহন চলাচলের সুযোগ একদম বন্ধ হয়ে যায়। 

রাজধানীর অন্য কোনো জায়গায় রাতে যানজটের দেখা না মিললেও এসব জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট পোহাতে হয় গণপরিবহনসহ অন্যান্য বাহনের। এছাড়া এলোমেলোভাবে গাড়ি রাখার কারণে একটি রিকশা যাওয়ারও সুযোগ থাকে না। যার কারণে এই রোডে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। 

এই কারণে অত্র এলাকার ব্যবসায়ী ও দোকানিদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিয়মিত। কিন্তু দেখার কেউ নেই। স্থানীয় দোকানি ও লোকজনের এই নিয়ে ক্ষোভেরও শেষ নেই। অভিযোগ আছে, প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়েই বছর পর বছর এ ধরনের এলাহি কাণ্ড ঘটলেও কিছুই বলেন না তারা। সবকিছু প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এজন্য প্রতিটা গাড়িকে আলাদাভাবে চাঁদাও দিতে হয়।

ট্রান্সপোর্ট গুলো হলো- শিমুল ট্রান্সপোর্ট, নরসিংদী মধুরিমা ট্রান্সপোর্ট, ভৈরব ট্রান্সপোর্ট, এশিয়া ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী ,আফজাল পার্সেল এন্ড কুরিয়ার সার্ভিস,ভি আই পি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী, দৈনিক ট্রান্সপোর্ট এন্ড পার্সেল সার্ভিস, এ জে আর পার্সেল এন্ড কুরিয়ার সার্ভিস, এ আর, ট্রান্সপোর্ট এন্ড পার্সেল সার্ভিস, নিউ হোমনা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, সাধনা ট্রান্সপোর্ট, দি যমুনা ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড  পার্সেল সার্ভিস, এসএ পরিবহন পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস, জননী পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসসহ এরকম আরো শতাধিক ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড পার্সেল সার্ভিসের দোকান গড়ে উঠেছে।

স্থানীয় পথচারীদের অভিযোগ, এরা কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই রাস্তা দখল করে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। 

পুরান ঢাকার সড়কে মধ্যরাতে গাড়ি থেকে মালামাল ওঠানো-নামানো। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এশিয়া ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি স্বত্বাধিকারী মো. খোকন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, মালের বস্তা ও ওজন অনুযায়ী টাকা নেয়া হয়। বিকেল হলে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় থেকে বিভিন্ন ধরনের মাল আসতে থাকে। মাল কম হলে দোকানে রাখা হয়। বেশি মাল হলে রাস্তায় রাখা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী খলিল অভিযোগ করে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বিকেল হলে বিভিন্ন গাড়িতে করে মাল এনে রাস্তা ও দোকানের সামনে রাখে। এজন্য কোনো কাস্টমারও আসতে পারে না। এসব মাল রাস্তায় রাখার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়।

এদিকে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী আরিফুজ্জামান বলেন, এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে মালামাল পাঠানো হয়। মাল ওঠানোর জন্য গাড়ি রাস্তায় রেখে মাল ওঠানো হয়।

সড়কের মাঝে গাড়ি রেখে মাল উঠালে দায়িত্বরত পুলিশ মামলা দেয় কী না জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাক চালক জানান, না কোনো মামলা দেয় না। এগুলো ট্রান্সপোর্ট মালিকেরা সামাল দেয়। আমাদের কাছে থেকে মাঝে মাঝে একশ’ করে টাকা নেয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বংশাল থানার ওসি শাহিন ফকির ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারে এজন্য আমরা নিয়মিত মনিটরিং করি। ট্রান্সপোর্টের গাড়ি রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মালামাল ওঠানো-নামানোর জন্য যে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, এজন্য এর আগে ২৫ জনকে গ্রেফতার করে জেলে দিয়েছি। গত বুধবার ২১ জনকে জেলে দেয়া হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।

ওসি শাহিন ফকির আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি দেয়া হয়েছে যাতে ট্রান্সপোর্টের গাড়ি রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মালামাল ওঠানো-নামানোর অনুমতি না দেয়। রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে মালামাল ওঠানোর জন্য এসব এলাকায় রাতে যানজট আরো বেশি হয়। এই সুযোগে অন্যান্য অপকর্মও বেড়ে যায়।

এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে মালামাল ওঠানো ও নামানোর জন্য সিটি কর্পোরেশন থেকে কাউকে অনুমতি দেয়া হয় না। যারা রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে মালামাল ওঠানো-নামানো করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/জেডআর/জেএইচ/আরএইচ