বছর না পেরোতেই বন্ধ ‘র‍্যাপিড পাস’, হতাশ যাত্রীরা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

বছর না পেরোতেই বন্ধ ‘র‍্যাপিড পাস’, হতাশ যাত্রীরা

মো: ইদ্রিস আলম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫১ ১৬ অক্টোবর ২০২০  

‘র‍্যাপিড পাস’ কার্ডের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে - ডেইলি বাংলাদেশ

‘র‍্যাপিড পাস’ কার্ডের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে - ডেইলি বাংলাদেশ

কার্ড পাঞ্চের মেশিন দুর্বল। দু'থেকে তিন ঘণ্টা সার্ভিস না দিতেই নেই চার্জ। নেই কোনো নিয়ম শৃঙ্খলা। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে, তা কর্মেই পরিলক্ষিত। এমন অভিযোগ করেছেন রাজধানীতে চলা বিআরটিসির এসি বাস ও ‘ঢাকা চাকা’ বাসে ‘র‍্যাপিড পাস’ কার্ড ব্যবহারকারী যাত্রীরা। একই অভিযোগে সায় দিয়েছেন এ দুটি বাস সার্ভিসের বেশ কয়েকজন চালক ও হেলপাররা। তবে, পরিকল্পনাটি নিঃসন্দেহে ভালো ছিল, সেটিও জানিয়েছেন তারা।

যাত্রীরা মনে করেন, সময় ক্ষেপণ, লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা, ভাড়ার জন্য খুচরা টাকা রাখার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে ‘র‍্যাপিড পাস’ কার্যক্রম হাতে নিলেও তা গতিশীল করতে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ। 

কাউন্টারের সামনে বাসের জন্য কিংবা টিকিট কাটার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা। যাত্রীরা বাসে বসেই কার্ডে পরিশোধ করতে পারবেন ভাড়া। এমন উদ্যোগ নিয়ে রাজধানীর মতিঝিল থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত বিআরটিসির এসি বাস এবং গুলশান, বনানী ও নতুন বাজারের মধ্যে চলাচলকারী ‘ঢাকা চাকা’ বাসে চালু হয়েছিল ‘র‍্যাপিড পাস’ কার্ডের ব্যবহার। শুরুর দিকে এ কার্যক্রম বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে। 

সরেজমিন দেখা যায়- কার্ড নয়, সেই পুরনো পদ্ধতি দাঁড়িয়ে থেকে কিনতে হচ্ছে টিকিট। শুরু না হতেই যেন শেষ হওয়ার অবস্থা। টিকিট কাটা শেষে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বাসেরও।  

২০১৭ সালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) অধীন বিআরটিসি বাসে ও ২০১৮ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীন ‘ঢাকা চাকা’ পরিবহন চালু করা হয় ‘র‍্যাপিড পাস’ কার্যক্রম। শুরুর দিকে কয়েক হাজার যাত্রী কার্ডে ভাড়া পরিশোধ করতেন। আগ্রহ ছিল বেশ। কিন্তু তা বেশি দিন স্থায়ী না হওয়ায় হতাশ যাত্রীরা। কার্ডে থাকা টাকা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

র‍্যাপিড পাস’ কার্ড

কার্ড ব্যবহারকারী মোহসীন নামের একজন চাকরিজীবীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এ সেবা শুরুতে ভালো ছিল। সহজেই কার্ডে ভাড়া পরিশোধ করা যেত। দীর্ঘ লাইনে থেকে টিকিট কাটার কষ্ট দূর হয়েছিল। আবার গাড়িতে ভাড়ার জন্য খুচরা টাকা রাখারও ঝামেলা পোহাতে হয়নি। কিন্তু সেবাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন কার্ডে থাকা টাকা নিয়ে চিন্তায় আছি। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে আবার সেবাটি চালু হলে আমাদের জন্য উপকার হয়।

‘র‍্যাপিড পাস’ কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কাউন্টার মাস্টার বলেন, ‘জাইকার সঙ্গে চুক্তি করে এই সেবাটি পরিচালনা করা হয়। শুরুতে ভালো সাড়া পড়েছিল। ধীরে ধীরে তাদের যে পাঞ্চ মেশিন ছিল তা দুর্বল হয়ে পড়ে। আবার চার্জ থাকতো মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা। এমন নানা সমস্যা দেখা দেয়াতে চালু হওয়ার এক বছরের মাথায় বন্ধ হয়ে যায় সেবাটি।

কার্ড ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে প্রতিদিনই এসে কার্ডের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন জিজ্ঞাসা করতেন যাত্রীরা। এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কার্ডে পড়ে থাকা টাকা কীভাবে উত্তোলন করবেন তা জানতে চায় অনেকে। কিন্তু বিষয়টি আমাদের জানা না থাকায় কিছু বলতে পারি না। 

 ‘ঢাকা চাকা’ বাসে চালু হয়েছিল ‘র‍্যাপিড পাস’ কার্ডের ব্যবহার - ডেইলি বাংলাদেশ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ‘ঢাকা চাকা’ বাসের একজন চালক বলেন, ভাই উদ্যোগটা খুব ভালো ছিল। যাত্রী এবং আমরা সহজেই ভাড়ার কাজ সারতে পারতাম।

‘র‍্যাপিড পাস’ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘এটি একটি ভালো উদ্যোগ ছিল। ভাড়া নৈরাজ্য কমাতে কাজ করতো। সেবাটি চালু রাখা জরুরি। যদি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে থাকে তা দ্রুত সমাধান করা উচিত।’ 

সঠিক পরিকল্পনা করে ‘র‍্যাপিড পাস’ সেবাটি ভবিষ্যতে মেট্রোরেল, রেল, বিআরটিসির সব রুট, বিআইডব্লউটিসি, পাবলিক পরিবহনে চালুর উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানান তিনি। 

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, আমাদের যান্ত্রিক কিছু ত্রুটি দেখা দেয়ায় সেবাটি সাময়িক বন্ধ রয়েছে। ত্রুটিগুলো দ্রুত সংশোধন করে আবার চালু করা হবে। ভবিষ্যতে মেট্রোরেল, রেল, বিআরটিসির সব রুট, বিআইডব্লউটিসিসহ পাবলিক পরিবহনে ‘র‍্যাপিড পাস’ এর মাধ্যমে পরিবহন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন যাত্রীরা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/টিআরএইচ