ড্রাইভার মালেকের অঢেল সম্পদের হদিস নেই

ঢাকা, শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৬ ১৪২৭,   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ড্রাইভার মালেকের অঢেল সম্পদের হদিস নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০০ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:০৩ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার মালেক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার মালেক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজির ড্রাইভার আব্দুল মালেক তথ্য গোপন করেও আয়কর রিটার্নে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার কোন বৈধ উৎসই তিনি দেখাতে পারেননি। তার সম্পদের বেশিরভাগই পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করেন।

আয়করে দেখানো তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, স্ত্রী নার্গিস বেগম ও আত্মীয়-স্বজনের নামেই বেশি সম্পদ গড়েছেন। ২০১৭-১৮ সালে মালেক ও তার স্ত্রীর সম্পদ পাওয়া যায় ২ কোটি ৩০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।

এর মধ্যে পারিবারিক ব্যয় ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। অথচ মালেক ও তার স্ত্রীর আয় দেখান ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বাকি ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার কোন বৈধ উৎসই তিনি দেখাতে পারেননি।

এছাড়া মালেকের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের মধ্যে হাতিরপুল এলাকায় নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবন রয়েছে। আদালতের হস্তক্ষেপে এর কাজ স্থগিত আছে। মেয়ের নামে রয়েছে ১৫ কাঠার ওপর ডেইরি ফার্ম। এছাড়া আরেক স্ত্রীর সম্পদের বিবরণী দাখিল করেননি তিনি।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফরে ডাক্তারদের বদলি ও পদোন্নতি এবং তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্যে আদায় করা বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামান্য একজন ড্রাইভার থেকে কোটিপতি হওয়ার বিষয়টি এলাকার মানুষের কাছে সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে। অধিদফতরে আধিপত্য বিস্তার, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, অস্ত্র ও জাল টাকার ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের ব্যবসা করতেন মালেক। এসব করেই গাড়ি, বাড়ি ও কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন মালেক। তার এতো সম্পদের কথা শুনে এলাকার লোকজনও বিস্মিত। 

মাত্র অষ্টম শ্রেণি পাস আব্দুল মালেক। ১৯৮২ সালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ড্রাইভার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক এক ডিজির গাড়ির ড্রাইভার হন। এরপর থেকেই তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। 

শুরু করেন অধিদফতরে আধিপত্য বিস্তার। একে একে অধিদফতরে নিয়োগ দিয়েছেন মেয়ে, মেয়ের জামাইসহ প্রায় ৫০ জন আত্মীয়-স্বজনকে। অধিদফতরের একটি পাজেরো গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি তিনি তার পারিবারিক প্রয়োজনে ব্যবহার করতেন। গড়ে তুলেছেন শত কোটি টাকার সম্পদ। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর