জিনিয়া অপহরণের সূত্র যেভাবে বের করে দেন ঢাবি শিক্ষার্থী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭,   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জিনিয়া অপহরণের সূত্র যেভাবে বের করে দেন ঢাবি শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৪ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র আরাফাত চৌধুরীর কোলে উদ্ধার হওয়া শিশু জিনিয়া।  ছবি: সংগৃহীত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র আরাফাত চৌধুরীর কোলে উদ্ধার হওয়া শিশু জিনিয়া। ছবি: সংগৃহীত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি এলাকা থেকে ফুল বিক্রেতা শিশু জিনিয়া নিখোঁজের পর ক্যাম্পাসসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই পড়ে যায়। অবশেষে পুলিশের তৎপরতায় জিনিয়াকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু জিনিয়াকে উদ্ধারের সূত্রটি খুঁজে বের করতে ভূমিকা রেখেছিলেন ঢাবির এক শিক্ষার্থী। কে এই শিক্ষার্থী, কীভাবে তিনি জিনিয়া উদ্ধারে ভূমিকা রেখেছিলেন তা অনেকেরই অজানা। 

গত ১ সেপ্টেম্বর সকালে টিএসসি এলাকা থেকে নিখোঁজ হন শিশু জিনিয়া। এলাকার সবার পরিচিত মুখ জিনিয়া নিখোঁজের ঘটনায় সোচ্চার হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা। সবাই শিশু জিনিয়ার খোঁজে ব্যাকুল হয়ে উঠে।

জিনিয়া নিখোঁজের ঘটনায় কয়েকদিন তদন্ত করে শাহবাগ থানা পুলিশ। কিন্তু শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। অন্যান্যদের মতোই বিষয়টি জানতে পারেন ঢাবির আইন বিভাগের ছাত্র আরাফাত চৌধুরী। ঘটনার চারদিন পর তিনি জিনিয়া নিখোঁজের ক্লু উদঘাটন করতে টিএসসি এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলেন।

শিক্ষার্থী আরাফাত চৌধুরী প্রথমে কেউ জিনিয়াকে দেখেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি টিএসসি এলাকা ও চারপাশের সড়কগুলোর যত ক্লোস সার্কিট ক্যামেরা রয়েছে তা শনাক্ত করেন।

আরাফাত চৌধুরী বলেন, জিনিয়া নিখোঁজের চারদিন পর অর্থ্যাৎ ৫ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সব প্রত্যক্ষদর্শীকে মিলিত করেছি। আমি সবার কাছ থেকে বিস্তারিত জেনেছি। এর মধ্যে ছিল -জিনিয়া কখন কোথায় বসেছে, কোথায় চটপটি খেয়েছে, ওর সঙ্গে যারা কথা বলেছে তারা দেখতে কেমন, তাদের পরনে কী ছিল- ইত্যাদি।

সব তথ্য জোগাড় করে নিজেই উদ্যোগী হয়ে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে যান আরাফাত। সব তথ্য দেয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপর চারদিনের মাথায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ জিনিয়াকে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার করে।

ঢাকার রমনা জোনের পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) এসএম শামীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আরাফাত চৌধুরী তথ্য দিয়ে সহায়তা করায় শিশু জিনিয়াকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ছেলেটা শুরু থেকেই ঘোরাঘুরি করে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে। 

তিনি আরো বলেন, লোকজন সহায়তা করেছে বলেই জিনিয়াকে উদ্ধার করতে পেরেছি। এমনিতেই পারতাম হয়তো। কিন্তু তাতে আরো সময় লাগার সম্ভাবনা ছিল।

তিনি বলেন, তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তার ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে এক ধরনের ভয় কাজ করে। কিন্তু পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে তথ্য প্রদানকারীর সঙ্গে পুলিশের একটি ভালো সম্পর্ক থাকে। 

জিনিয়া নিখোঁজের ঘটনাকে আমরা অপহরণ বলেই ধরে নিচ্ছি। কারণ মেয়েটাকে কাজের কথা বলে নিয়ে গেলেও অন্য কোনো মোটিভ থাকতে পারে। সময় গড়িয়ে গেলে হয়তো বিষয়টি ধরা যেতে পারতো। তবে আগেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ