ছেলের জন্য কান্না থামছেই না বৃদ্ধ বাবার

ঢাকা, শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১০ ১৪২৭,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ছেলের জন্য কান্না থামছেই না বৃদ্ধ বাবার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৫ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:২৬ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছেলে ইমাম হোসেনের জন্য কাঁদছেন বাবা শেখ আলাউদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

ছেলে ইমাম হোসেনের জন্য কাঁদছেন বাবা শেখ আলাউদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

বার্ন ইউনিটে দগ্ধ ছেলের আর্তনাদ, হাসপাতালের বাইরে কান্না থামছেই না বাবার। ‘ও ইমামরে ইমাম, কবে ফিইরা আইবিরে বাজান’ এ বলেই সারাদিন হাসপাতালের সামনে বৃদ্ধ বাবার আহাজারি। শত চেষ্টা করেও তাকে শান্ত করতে পারেনি কেউ।

রোববার রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থাপিত শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের সামনে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য সবাইকে কাঁদিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইমাম হোসেন। তার জন্যই কাঁদছেন বাবা শেখ আলাউদ্দিন। বিস্ফোরণে ইমামের শরীরের ৯০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। তার অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।

আরো পড়ুন: মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের বর্ণনা দিলেন ১৭ প্রত্যক্ষদর্শী

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছেলের জন্য সারাদিনই হাসপাতালের গ্রিল ধরে কেঁদেছেন শেখ আলাউদ্দিন। তার আত্মীয়-স্বজনরা খাবার নিয়ে এলেও কোনো কিছুই মুখে দেননি তিনি। সারাদিন শুরু আহাজারি করেই যাচ্ছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে দেখা গেছে এমন অনেক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধদের স্বজনরা কেউ নফল নামাজ আদায় করছেন, কেউ দোয়া করছেন, আবার কেউ স্বজনের মৃত্যু সংবাদ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পুরো হাসপাতালে শুধুই কান্না-আহাজারির শব্দ। যেন তাদের সান্ত্বনা দেয়ার কেউ নেই।

শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিমতল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তে মসজিদের ভেতরে থাকা ৩৭ জন দগ্ধ হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু হয়।

আরো পড়ুন: মাত্র পাঁচ হাজার টাকার জন্য ১৮ মাসের শিশুকে অপহরণ

বিস্ফোরণে প্রাণহানী ও দগ্ধের ঘটনায় শনিবার সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা হয়েছে। এতে অবহেলাজনিত কারণে বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন ফতুল্লা থানার এসআই হুমায়ুন। এছাড়া বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন চারটি কমিটি গঠন করেছে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকেই মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে