রাজধানীসহ দুদকের তিন স্থানে অভিযান

ঢাকা, সোমবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১২ ১৪২৭,   ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রাজধানীসহ দুদকের তিন স্থানে অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫৫ ২০ জুন ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঢাকাসহ দেশের তিন স্থানে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চার জেলা প্রশাসককে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট।

পুরোন ঢাকার বংশালে শহীদ বুদ্ধিজীবী খালেক সর্দার পার্কের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। রক্ষণাবেক্ষণের লোক নিয়োগ না দেয়ার কারণে সংস্কারের এক মাসের মাথায় পার্কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম বৃহস্পতিবার এ অভিযান পরিচালনা করে। 

অভিযানকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ওই অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করে দুদক টিম।
 
পরবর্তীতে ডিএসসিসি ও দুদকের সমন্বিত টিম সরেজমিনে পার্কটি পরিদর্শন করেন। দুদক টিম জানতে পারে, পর্যাপ্ত সংখ্যক রক্ষণাবেক্ষণের জনবল না থাকায় স্থানীয় লোকজনের যত্রতত্রভাবে পার্কে প্রবেশ এবং ব্যবহারের ফলে পার্কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থা উত্তরণে অবিলম্বে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লোক নিয়োগের সুপারিশ প্রদান করে দুদক টিম।

এদিকে দুদকের অন্য একটি টিম দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার কামদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কর্তৃক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। সমন্বিত জেলা কার্যালয়, দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক আহসানুল কবির পলাশের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

দুদক টিম বিদ্যালয়ের আর্থিক নথিসমূহ যাচাই করে প্রাথমিকভাবে জানতে পারে, ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সেলিম রিজার্ভ ফান্ডের এক লাখ সাতাশ হাজার দুইশ’ পঞ্চাশ টাকা অবৈধভাবে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করেছেন। 

এ সংক্রান্ত তথ্যাবলি সংগ্রহপূর্বক অনিয়মের বিষয়ে টিম কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানান দুদক টিমটি।

যশোর জেলা কারাগারে নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাতের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। 

অভিযানের সময় টিম জানতে পারে, ওই কারাগারে কোনো স্থায়ী ডাক্তার নেই। কারাগারে কর্মরত সরকারি ফার্মাসিস্ট হাজতিদের মেডিকেল বোর্ডের ট্রান্সফার নিয়ন্ত্রণ করেন। সিভিল সার্জন অফিসের একজন ডাক্তার মাঝেমধ্যে কারাগারে আসলেও মেডিকেল ওয়ার্ডে বদলির প্রত্যয়নপত্রে কোনো ডাক্তারের স্বাক্ষর পায়নি দুদক টিম। ফলে এক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের সুযোগ রয়েছে মর্মে দুদক টিম অভিমত ব্যক্ত করে। 

টিম এ অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কারাগারের জেলারকে অবহিত করলে তিনি অবিলম্বে ওই হাসপাতালে নিয়মিত ডাক্তার পদায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে দুদক টিমকে আশ্বস্ত করেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ দাবির অভিযোগ, পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি ও ঘুষ দাবি, বিআরটিএ অফিসের বিরুদ্ধে সেবা প্রদানে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণ এবং ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যথাক্রমে কুমিল্লা, মাগুরা, মানিকগঞ্জ ও পিরোজপুরের জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এসআই