কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্টে পাওয়া গেল পচা মাংস-নুডুলস-ভাত

ঢাকা, শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৯ ১৪২৭,   ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্টে পাওয়া গেল পচা মাংস-নুডুলস-ভাত

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:২২ ২০ জুন ২০১৯   আপডেট: ০০:৪৮ ২০ জুন ২০১৯

রাজধানী ঢাকার তাজমহল রোডের বাইরে থেকে কুটুমবাড়ি যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি ভেতরের পরিবেশটাও গোছানো। কুটুমকে আপ্পায়নের মতো করেই এখানে আপ্পায়ন করা হয় খদ্দেরদের। অথচ কুটুমবাড়ির নামিদামি খাবারে এবার পাওয়া গেল দুষমনির ছোপ। বিষয়টা স্পষ্ট হয়েছে কুটুমবাড়ির রান্নাঘরে ঢুকতেই। 

বুধবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ জরিমানা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। 

অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিএনসিসি’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর নাহিদ আহসান।

তিনি বলেন, রেস্টুরেন্টের রান্না ঘরে ঢুকতেই দেখা গেছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র। রান্না চুলার ওপর জমে আছে এক ইঞ্চি পরিমাণ ময়লা। চুলার আশপাশে যে ময়লার আস্তরণ। পুরো রান্না ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শুধুই আবর্জনা। আর তার মধ্যেই রান্না করা হচ্ছে খাবার। খাওয়ানো হচ্ছে কুটুমবাড়িতে খেতে আসা খদ্দেরদের। এসব অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা ও ফুটপাতের উপর নির্মাণ করা তাদের সিঁড়িটি ভেঙে দিয়েছে ডিএনসিসি।

খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য তৈরি করার অপরাধে মোহাম্মদপুরের চারটি রেস্টুরেন্ট ও একটি মিষ্টির কারখানাকে জরিমানা করা হয়েছে। আর অভিযানে সবচেয়ে বেশি অস্বাস্থ্যকর খাবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া গেছে নামকরা রেস্টুরেন্ট কুটুমবাড়িতে। 

কুটুমবাড়ির রান্নাঘরে অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্যরা আরো খুঁজে পান, মুরগির পচা মাংস, পচা বুট, নুডুলস, ভাতসহ নানা খাদ্যসামগ্রী। এরমধ্যে বেশ কিছু খাবার এতটাই পচা ছিল যে তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। 

অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের বলেন, এখানে যা পাওয়া গেছে তাকে খাবার বলা যায় না।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর নাহিদ আহসান বলেন, আজ আমরা যেকটি জায়গায় অভিযান করেছি এরমধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কুটুববাড়িতে। এখানে সবচেয়ে বেশি সমস্যা পাওয়া গেছে। 

তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর বাসস্টান্ড এলাকা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে প্রথমেই জরিমানা করা হয় ক্যাফে বাগদাদ নামের একটি রেস্টুরেন্টকে। সেখানে পাওয়া যায় পঁচা-বাসী খাবার। মানহীন খাদ্যদ্রব্য বিক্রির দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং সতর্ক করা হয়। 

ঠিক তার পাশেই একটি মিষ্টি ও মিষ্টিজাত খাদ্যসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সেখানেও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মুসলিম সুইট মিট নামের ওই প্রতিষ্ঠানটিতে মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত তেল খাবার অনুপযোগী ছিল। তাই জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে তেলগুলো ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

এরপর অভিযানকারী দলটি পৌঁছায় মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড এলাকায়। সেখানে তাজ কিচেন নামের একটি রেস্তোরাঁয় উন্মুক্তভাবে খাদ্যসামগ্রী রাখার দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রেস্টুরেন্টের রান্না ঘরে ফ্রিজে রাখা আছে আইসক্রিম। ক্রেতাদেরও খাওয়ানো হচ্ছে সেসব। অথচ আইসক্রিমের বাটির উপর উৎপাদকের নাম নেই। রেস্টুরেন্টে হাত ধোয়ার কাজে রাখা হ্যান্ডওয়াসের গায়েও নেই বিপনন প্রতিষ্ঠানের নাম। এমন চিত্র পাওয়া গেছে মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডের বিএফসি রেস্টুরেন্টে। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্সও দেখাতে পারেনি রেস্টুরেন্টির কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয় এক লাখ টাকা।

এসব বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, নিয়মিত অভিযানের কারণে রেস্টুরেন্ট, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে ভেজাল ও মানহীন খাদ্যসামগ্রী বিক্রির পরিমাণ আগের তুলনায় কমছে। আমরা আজ মোট পাঁচটি রেস্টুরেন্টে অভিযান করেছি। সবগুলোতে প্রায় একই ধরনের সমস্যা পাওয়া গেছে। নিয়মিত অভিযানের কারণে সমস্যা আগের তুলনায় কমে এসেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ