ঢাকাতে বড় কোনো অপরাধ নেই: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১২ ১৪২৭,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ঢাকাতে বড় কোনো অপরাধ নেই: ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৩ ১৯ জুন ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকাতে বড় কোনো অপরাধ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, নগরবাসী জানমালের নিরাপত্তার জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বুধবার দুপুর ১২টার সময় উত্তরা ৪নম্বর সেক্টরে বাংলাদেশ ক্লাবে উত্তরা এলাকায় চলমান চক্রাকার বাসের সেবার মান উন্নয়নকল্পে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় উত্তরাকে মডেল সিটি হিসেবে তৈরি সম্পর্কে কমিশনার বলেন, এটার জন্য সিটি কর্পোরেশন, রাজনৈতিক নেতাসহ সবার প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

কমিশনার বলেন, আইন মানবো শৃঙ্খলা আনবো, বলে প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্দেশনা রয়েছে। সিটি কর্পোরেশন একটি টিম, আমাদের একটি টিম, সেক্টর ভিত্তিক একটি টিম তৈরি করে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব। সেক্টর ভিত্তিক রিকশার রং করে দেয়া হবে।

ইজিবাইক সম্পর্কে কমিশনার সরাসরি বলেন, ডাইরেক্ট স্টপ করুন। কোথায় চলবে আমি জানি না, আমার ডিএমপিতে চলবে না। লেগুনা স্ট্যান্ড সরিয়ে আরো ভেতরে নেয়া হবে। অনুমতি ছাড়া নিয়ম না মেনে যারা গ্যারেজের জায়গাতে বিউটি পার্লার, দোকান পার্ট করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ফুটপাত দখলমুক্ত সম্পর্কে কমিশনার বলেন, সিটির সহযোগিতা ও সেক্টর ভিত্তিক কল্যাণ সমতির সহযোগিতা নিয়ে ফুটপাত মুক্ত করতে সহজ হবে।

এ সময় মেয়রকে উদ্দেশ করে কমিশনার বলেন, স্যার আপনার কাছে আমার অনুরোধ বৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। এরইমধ্যে আমরা ডিএমপির হেড কোয়াটারে বহুতল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছি, চাইলে বাইরেও করা সম্ভব।

নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সম্পর্কে তিনি বলেন, এই প্ল্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন। নাগরিক তথ্য সেবার বাইরে কোনো বাড়ি যেন না বাদ পরেন। ঘরে ঘরে, দোকানে দোকানে সবখানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেছে আমাদের পুলিশ ভাইয়েরা। 

কমিশনারের কথার সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, যারা নগরীতে অনুমতি ছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, সেগুলো উচ্ছেদের জন্য অনুষ্ঠানের পর অভিযান চালানো হবে। 

এ সময় উত্তরাবাসী ও এলাকার কাউন্সিলর নিজ নিজ সেক্টরের নানান সমস্যার কথা  তুলে ধরেন। তাদের দাবি- বেশ কয়েকটি জায়গাতে চক্রাকার বাসের স্টপেজ যেন করা হয়।

সভায় বেশির ভাগ অভিযোগ আসে পরিচ্ছন্ন উত্তরা গড়তে হলে ব্যাটারি চালিত রিকশা, লেগুনা, ইজিবাইকগুলো নিয়ন্ত্রণে আনলে চলাচল অনেকটা সহজ হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দর উত্তরা গড়তে ও সুন্দর নগরী গড়তে কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এ সময় চক্রাকার বাস সুন্দরভাবে না চলার কারণ হিসেবে মেয়র উত্তরাবাসীকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, আমাদের উত্তরায় অনেক চওড়া রাস্তা থাকার পরও আমার চালাতে পারছি না। কার ফুটপাত দখল করে রেখেছে রাস্তাগুলো।

মেয়র বলেন, ৬০টি অ্যাভিনিউতে কোনো ধরনের হিউম্যান হলার, লেগুনা, ইজিবাইক, ব্যাটারি চালিত রিকশা  চলবে না।

কুকুর সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা জীব হত্যা করতে পারব না। সেই জন্য ভ্যাকসিন দিচ্ছি যেন কুকুর কামড় দিলে কোনো সমস্যা না হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি বলেন, আমার ঢাকা-১৮ আসনে ৪টি ইউনিয়ন পরিষদ ছিল। রাস্তাগুলো সংস্কার করা দরকার। এখন সিটি কর্পোরেশনের অধীনে। সেই রাস্তাগুলো সংস্কার কাজের জন্য চার হাজার ২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। 
 
ব্যাটারি চালিত রিকশা সম্পর্কে এমপি বলেন, উত্তরাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে রিকশাগুলো তুলে দিলেই ভালো হয়।

উত্তরা ট্রাফিক বিভাগে নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে এই জোনের ট্রাফিকের ডিসি প্রবির কুমার বলেন, জসিম উদ্দিন এয়ারপোর্টে তিনটি লেগুনার রোড পারমিট আছে। তিনি আরো বলেন,আমাদের একটি নির্দিষ্ট  এলাকা দেয়া আছে তার বাইরে এলেই গাড়ি ধরে নিয়ে ডাম্পিং করছি।

সভায় উত্তরা জোনের ডিসি নাবিদ কামাল শৈবালসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এসআই