চাঞ্চল্যকর সাকিব হত্যার রহস্য উদঘাটন

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১২ ১৪২৭,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

চাঞ্চল্যকর সাকিব হত্যার রহস্য উদঘাটন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১৫ ১৮ জুন ২০১৯  

সাকিব হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারকৃতরা। ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

সাকিব হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারকৃতরা। ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর উত্তরখানের বাটুলিয়ায় নদীর পাড়ে সাকিব হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব। নেশার টাকা জোগাড় করতে মোবাইল ছিনতাইয়ে বাঁধার সম্মুখীন হয়ে হত্যা করা হয় সাকিব হোসেনকে (২০)। আহত হন সাকিবের বন্ধু মো. শিপন মিয়া (১৯)। তিনি মৃত্যুর সঙ্গে হাসপাতালের বেডে পাঞ্জা লড়ছেন। 

এ ঘটনায় জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। এরা হলো- শাহীন মিয়া ওরফে ব্ল্যাক শাহীন (২৪), মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে মিজু (২৪) ও ফরহাদ হোসেন (২৬)। এরা শুধু ছিনতাই-ই নয়, চুক্তিতে টাকার বিনিময়ে জমি দখল-খুনের মতো অপরাধ করতো অনায়াসেই। 

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার-বিন-কাশেম।

তিনি বলেন, গত ১৫ জুন বাটুলিয়ার নদীর পাড়ে ছুটির দিনে দুই বন্ধু ঘুরতে এসে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে সাকিব নিহত হন। তার বন্ধু শিপন (১৯) আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

ঘটনাটি সারাদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় উত্তরখান থানায় একটি মামলা করা হয়। ঘটনার পর মাঠে নামে র‌্যাব। পরে গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা বাটুলিয়া এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ওই ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 

তিনি জানান, নিহত সাকিব উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ফড়িং নামে একটি পোশাক শোরুমের কর্মচারী ছিলেন। 
এছাড়া, চিকিৎসাধীন তার বন্ধু শিপন উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের সাইনটেক্স নামে অপর একটি পোশাক শোরুমের কর্মচারীর কাজ করেন। তারা দু’জনেই গরিব ঘরের সন্তান। পরিবারের অর্থের জোগান দিতেন তারা। কিন্তু ছুটির দিনে বেড়াতে এসে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় সাকিবকে প্রাণ দিতে হলো, আর বন্ধু শিপন এখনো চিকিৎসাধীন।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার শাহীন জানায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকাসক্ত। ঘটনার দিন তারা ৭/৮ জন বন্ধু ঘটনাস্থলের পাশে ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করছিল। একপর্যায়ে মিঠু নামে তার এক সহযোগী সাকিব-শিপনকে দেখে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধায়। বাকবিতণ্ডার মধ্যে তারা সাকিব ও শিপনের মোবাইল ফোন এবং টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিতে চায়। কিন্তু সাকিব-শিপন বাঁধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় শাহীনের সহযোগী রুবেল একটি স্ল্যুইচ গিয়ার ছোড়া বের করে। শাহীন রুবেলের কাছ থেকে ছোড়াটি নিয়ে সাকিব ও শিপনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। পরে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।

অপরদিকে গ্রেফতার মঞ্জুরুল ও ফরহাদ জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, তারা দু’জনও দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত। ওই ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপন করেছিল।

অধিনায়ক আরো জানান, গ্রেফতার ৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক, নারী নির্যাতন ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ তারা সবাই ওই এলাকা ও আশপাশে ঘুরতে আসা লোকজনের মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার, টাকা-পয়সা ছিনতাই করে আসছে। শাহীন এর আগে কারাভোগ করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/এসআই