ছুটির দিনে জমজমাট বইমেলা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

ছুটির দিনে জমজমাট বইমেলা

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৭ ২৬ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৯:৩৪ ২৬ মার্চ ২০২১

ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণ আজ দর্শনার্থীদের জমজমাট উপস্থিতি দেখা গেছে। 

ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণ আজ দর্শনার্থীদের জমজমাট উপস্থিতি দেখা গেছে। 

নবম দিনের মতো চলছে অমর একুশে বইমেলা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মানুষের ভিড় বেড়েছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণ আজ দর্শনার্থীদের জমজমাট উপস্থিতি দেখা গেছে। 

‘শিশু প্রহর’ না থাকলেও দর্শনার্থীদের পদচারণা বেশ লক্ষণীয়। শুক্রবার সকালে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায় মানুষের আনাগোনা তেমন নেই। তবে বিকেলে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে মানুষ আনাগোনার চিত্র সকালের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। 

স্টলের মালিকরা বলছেন, সাধারণত সকালে লোক সমাগম কম থাকে তবে বিকেলে সেটি বাড়ে। 

প্রতিবছরের বিশেষ আয়োজন বইমেলার শিশু প্রহরে ফলে হালুম, টুকটুকি-ইকরিদের সঙ্গে খেলার আনন্দ চলতি বছরে মহামারির কারণে পাচ্ছে না শিশুরা। ফলে শিশু দর্শনার্থীদের ভিড় নেই তাই অভিভাবকদেরও তেমন আগ্রহ নেই বলে মনে করছেন মেলা সংশ্লিষ্টরা। 

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষজন মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে অনেকের মাঝে উদাসীনতাও লক্ষ্য করা যায়। অনেকে মাস্ক পরিধান করে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেও মেলা প্রাঙ্গণে এসে মাস্ক খুলে ফেলছে। 

ছোট্ট মেয়ে তাসনুভা তামারা। রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছে বইমেলায়। মেলায় এসে শিশু প্রহর না থাকায় মনটা খারাপ তার। এর আগে কখনও আসা হয়নি বইমেলায় আর করোনার মধ্যে বাড়িতে খুব বোরিং সময় কাটছে তাই বইমেলায় এসেছেন তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশকে তিনি বলেন, গতবছর টিভিতে দেখেছিলাম হা হালুম, টুকটুকি-ইকরিদের। সবাই কত আনন্দ করে কিন্তু আমি তো এবার তা পেলাম না। তবে করোনা শেষ হইলে আগামী বছর তাদের সাথে খেলা করবো। একটা শিশুতোষ বই কিনেছি আরও কয়েকটা কিনবো। 

সিসিমপুর প্রকাশনার কর্মকর্তারা বলেন, মহামারির কারণে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ এবার অনুমতি দেননি শিশু প্রহর করার। তাই এবার সেটির আয়োজন করা হয়নি। 

তাসনুভার বাবা ইকবাল হোসেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। তিনি বলেন, বইমেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। কিছু উপন্যাস কিনেছি। আরও কিছু বই কিনবো। বইমেলা প্রতিবছর খুব আনন্দ দেয়। বইয়ের ঘ্রাণ নিতে পারি প্রাণ ভরে। করোনার কারণে একটু রক্ষণশীল হয়ে মেলায় চলাফেরা করতে হচ্ছে, সবারই উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। তাহলেই সুন্দরভাবে শেষ হবে বইমেলা। 

ঘাসফুল প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি তানজিল হাসান বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকে মানুষের আনাগোনা অনেক বেশি। মেলার প্রথম দিকে দর্শনার্থী কম আসলেও দিন যত বাড়ছে পাঠক তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাথে বিক্রিও আগের থেকে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের এখানে কবিতা ও উপন্যাস বেশি বিক্রি হচ্ছে। 

তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি ইসলাম ভূইয়া বলেন, পাঠকরা উৎসাহের সঙ্গে আসতেছে। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমাদের কাছে আসতেছে। আমাদের এখানে একটি বঙ্গবন্ধু কর্নার রয়েছে। যেখানে বঙ্গবন্ধুর ৪৬টি বই রয়েছে। সেখানে মানুষের ভিড় একটু বেশি থাকে। পাশাপাশি আয়মান সাদিক, তাহসান খান, মুনজেরিন শাহীদের বইয়ের প্রতিও আলাদা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম