বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যেসব মামলা
15-august

ঢাকা, শুক্রবার   ১২ আগস্ট ২০২২,   ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯,   ১৩ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যেসব মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:২৫ ২০ জুন ২০২২   আপডেট: ১৫:৩৬ ২০ জুন ২০২২

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দুর্নীতি, দুঃশাসন, কালো টাকা ও আর্থিক কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বিএনপির বহু নেতার বিরুদ্ধে। ক্ষমতায় থাকাকালীন তারা করেছেন সীমাহীন দুর্নীতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লুটপাট, কমিশন বাণিজ্য, উন্নয়নের নামে বরাদ্দের টাকা ভাগাভাগি, অর্থের বিনিময়ে দেশে অবাধে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার প্রসার ঘটানোর অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

এসব কারণে দেশ-বিদেশে দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করেছেন বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা। একইসঙ্গে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছিলেন তারা।

এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৫টি মামলা আছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালে কয়েকটি মামলার বিচারকার্যও শুরু হয়েছে। সব মামলাতেই তিনি জামিনে আছেন। এসব মামলায় সপ্তাহে দুইদিন তাকে আদালতে হাজিরা দিতে হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১১টি মামলা রয়েছে। মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে দুদকের করা মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতারও একটি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। ওমরাহ পালনের নামে সৌদি আরবের মক্কায় গিয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর এজেন্টের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন মর্মে মামলা চলমান রয়েছে। এ সংক্রান্ত কয়েকটি ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যায়।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ৯৬টি মামলা রয়েছে। অবৈধ প্লট বরাদ্দ দিয়ে সরকারের সাড়ে ১৫ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি সাধনের অভিযোগে তার নাম চার্জশিটে যুক্ত করেছে দুদক।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ৪০টি মামলার কয়েকটিতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার নামে ১৯টি ও সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে ৪৭টি মামলা রয়েছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ৭টি, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামে ৩৭টি, এজেডএম জাহিদ হোসেনের নামে ১৫টি, বরকতউল্লা বুলুর বিরুদ্ধে ৮৮টি, আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামে ১২টি, শামসুজ্জামান দুদুর নামে ২২টি, শওকত মাহমুদের নামে ৪৫টি, আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে ১৩টি, সেলিমা রহমানের নামে ১১টি, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের ১৮টি, হাফিজউদ্দিন আহমেদের নামে ৬টি মামলা রয়েছে।

এছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের নামে ১২৬টি, জয়নুল আবদিন ফারুকের নামে ৩১টি, মিজানুর রহমান মিনুর নামে ১৩টি, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নামে ৫২টি, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নামে ১৩০টি, হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামে ১১০টি, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বিরুদ্ধে ৫০টি, ফজলুল হক মিলনের নামে ১২টি ও নাদিম মোস্তফার নামে ২৭টি মামলা রয়েছে।

এসব মামলার বেশিরভাগেরই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের নামে ২১৫টি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে ২১২টি মামলা রয়েছে। এসব নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা অনেক মামলায় এরই মধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বিচারকাজও চলছে।

এদিকে দুদকের মামলায় দণ্ডিত হয়ে এখন সাজা ভোগ করছেন খালেদা জিয়া। দলের যেসব নেতার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে তারা হলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এম মোর্শেদ খান ও আবদুল আওয়াল মিন্টু, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, এম মোর্শেদ খানের ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খান, ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/জেডআর/এইচএন

English HighlightsREAD MORE »