সরকারি নির্দেশনা ‘অমান্য করেই’ বিএনপির সমাবেশ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২,   ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

সরকারি নির্দেশনা ‘অমান্য করেই’ বিএনপির সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২০ ১২ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৯:৫৬ ১২ জানুয়ারি ২০২২

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দে‌শে করোনার নতুন ধরণ ওমিক্রন প্রতিরোধে আগামী ১৩ জানুয়ারি থেকে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। এতে উন্মুক্ত স্থানে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সরকারি এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

এই কর্মসূচি ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। 

বিশিষ্টজনরা বলছেন, বিএনপি ৩৭ জেলায় যে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা এই সময়ের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। গোটা জাতিকে এর ফল ভোগ করতে হবে। আর সে দায় বিএনপি কিভাবে এড়াবে?

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, দেশে আবারো করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতি এবং তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সরকার। এ সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিএনপি এসব বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করেই ১২ জানুয়ারি রাজশাহী, কুমিল্লা, রংপুর, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে সমাবেশের আয়োজন করছে। 

পাশাপাশি ১৫ জানুয়ারি নীলফামারী, ফেনী, নওগাঁ, কুষ্টিয়া, বরগুনা, শেরপুর এবং বাগেরহাট; ১৭ জানুয়ারি রাঙামাটি, নেত্রকোনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজবাড়ী, নড়াইল, পিরোজপুর, চুয়াডাঙ্গা; ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ; ২২ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, নাটোর, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর, শরীয়তপুর; ২৪ জানুয়ারি ঝালকাঠি, মাগুরা, মাদারীপুর, বান্দরবান, মৌলভীবাজার এবং পঞ্চগড়ে সমাবেশ করবে বলে জানা গেছে।

তবে এসব সমাবেশে স্বাস্থ্যবিধি কতটা মানা হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তারা বলেন, সরকার জনস্বার্থে বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও বিএনপি তা না মেনে কর্মসূচি চালালে করোনা সংক্রমণের দায় তাদেরই নিতে হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঘোষিত সমাবেশ কর্মসূচি চলবে। কোনোভাবেই বন্ধ হবে না। এসব সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন। প্রত্যেক জেলার জন্য এরই মধ্যে পৃথক কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার যতই বিধিনিষেধ আরোপ করুক, আমরা সমাবেশ কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। আর এ নির্দেশ দলের অধিকর্তা তারেক রহমানের। তার নির্দেশ অমান্য করি কিভাবে?

বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরকার যখন দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে জনমানুষের সুরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে, ঠিক তখনই বিএনপির জেলায় জেলায় সমাবেশ করাটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ তারা চাইছে সমাবেশের মাধ্যমে লোক সমাগম করতে। আর সেখান থেকেই করোনা ছড়িয়ে দিবে। এতে চাপে পড়বে সরকার। আর তারা সেই সময়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এমএস/আরএইচ

English HighlightsREAD MORE »