দিন দিন একা হয়ে পড়ছে বিএনপি

ঢাকা, রোববার   ২৮ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৮,   ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

দিন দিন একা হয়ে পড়ছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৩২ ৪ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ২০:০২ ৪ অক্টোবর ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জাতীয় পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট কিংবা খেলাফত মজলিস- একে একে ছেড়ে গেছে সবাই। বাকি আছে শুধু জামায়াতে ইসলামী। অচিরে এ দলটিও বিএনপির সঙ্গ ত্যাগ করবে বলে অভিমত বিশিষ্টজনদের।

তাদের ভাষ্য, ২২ বছর আগে বিএনপির নেতৃত্বে যে চারটি দলের সমন্বয়ে জোটবদ্ধ রাজনীতির শুরু হয়েছিল, তা এখন একেবারেই শেষের পথে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোট ত্যাগে বাকি থাকা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী দল জামায়াতও যেকোনো সময় খালেদা-তারেকদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। আর কেনইবা করবে না, জোটে তাদের গুরুত্বই বা কী? অবহেলিত থাকার চেয়ে তাই তারা শিগগিরই নিজেদের গুটিয়ে নেবে। শুরু করবে নতুন করে পথচলা।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য মতে, ১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, জামায়াতের তৎকালীন আমির গোলাম আযম এবং ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আজিজুল হককে সঙ্গে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠনের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। পরে ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে জোটত্যাগ করেন এরশাদ। ওই সময় জাপার মহাসচিব নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে একটি অংশ থেকে যায় জোটে। এ জোটের মাধ্যমে নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। ক্ষমতায় এসে কেবল জামায়াতকে নিয়ে সরকার গঠন করে তারা।

কিন্তু কিছুতেই যেন নিজেদের শক্তিশালী ভাবতে পারছিল না বিএনপি। তাই পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল চারদলীয় জোটকে বর্ধিত করে ‘১৮ দলীয় জোট’ এর ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া। এই জোটে প্রতিষ্ঠাকালীন শরিক জামায়াত, খেলাফত মজলিসসহ আরো কয়েকটি দল অংশ নেয়। সর্বশেষ গত ১ অক্টোবর (শুক্রবার) তারিখে ২২ বছরের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছে খেলাফত মজলিস।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের দলসহ জামায়াতকে নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। তাছাড়া সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে বলেও জরিপে জানা গেছে। পাশাপাশি তাদের সাংগঠনিক তৎপরতাও এখন নেই বললেই চলে। তাই সব মিলিয়ে তাদের কপালে কী অপেক্ষা করছে, তা খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানই বলতে পারবেন। তবে হ্যাঁ, এ কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের পক্ষে ও বিপক্ষে দুটো গ্রুপ বিএনপিতে এখনো বিদ্যমান। যাদের এক পক্ষ বলছে, জামায়াত বিএনপির জন্য বড় একটি ব্যাকআপ। কারণ, তাদের বড় অর্থায়নেই বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম চলে। অপর মহলের দাবি, জামায়াত না থাকলেও বিএনপি চলবে। কারণ কারো জন্য কোনো কিছু থেমে থাকে না। আর বিতর্কিত এ রাজনৈতিক দলটির জন্য তো না-ই।

জামায়াত জোট ছাড়ছে কিংবা তারা জোট থেকে বাদ পড়ছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা ঠিক নয়। তাছাড়া বিএনপির নীতিনির্ধারণী পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য আমরা পাইনি। তবে হ্যাঁ, এ কথা মিথ্যা নয় যে, দুই দলের মধ্যে বহু বিষয়ে মতের ভিন্নতা রয়েছে। আর ভিন্নতা থাকাও স্বাভাবিক। তাই বলে জোট থেকে বেরিয়ে যেতে হবে, কিংবা বের করে দিতে হবে, এটা কোন ধরনের কথা?

এ বিষয়ে বিএনপির এক নীতিনির্ধারক বলেন, ধৈর্যের ফল সুমিষ্ট হয়, এ কথাটা ভুলে গেলে চলবে না। তাই সবাইকে বলবো, জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির কী মনোভাব, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে। এরই মধ্যে জোরালো আলোচনাও শুরু হয়েছে। এখন দলীয় সিদ্ধান্ত দিলেই আপনারা বিস্তারিত জানতে পারবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এইচএন/টিআরএইচ