উপার্জন ছাড়াও লন্ডনে তারেকের বিলাসী জীবনের রহস্য

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১ ১৪২৮,   ০৭ সফর ১৪৪৩

উপার্জন ছাড়াও লন্ডনে তারেকের বিলাসী জীবনের রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১১ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৩:৪১ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

তারেক রহমান- ফাইল ছবি

তারেক রহমান- ফাইল ছবি

উপার্জন না করেও দীর্ঘদিন লন্ডনে আয়েশি জীবনযাপন করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক এই আসামির চোখ-ধাঁধানো জীবনযাপনের অর্থ মেলে কোন উৎস থেকে, আর কারাই বা দেয় টাকা- এমন প্রশ্ন অনেকের মনে।

এবার সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে শিগগিরই শুরু হচ্ছে তদন্ত। তার আগে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর মিলেছে, দেশ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার হচ্ছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার এই মাস্টারমাইন্ডের কাছে। যার সিংহভাগই যাচ্ছে সিলেট থেকে। পাশাপাশি লন্ডনে অবস্থানরত সিলেটি রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও মোটা অংকের টাকা পাচ্ছেন তিনি।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য মতে, দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানের অর্থ সরবরাহকারীদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এবার সেই কাজ আরো জোরদার করতে শিগগিরই বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আলাদাভাবে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করবে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব দ্রুত তলব এবং জব্দও করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বিভিন্ন সংস্থার একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারেক রহমানের অর্থের জোগানদাতা ও পাচারকারীদের পুরো চেইন নিয়ে এবার আমরা কাজ করব। দেশে ও বিদেশে বসে যারা টাকা পাচার করছেন ও তারেক রহমানকে টাকা দিচ্ছেন, পুরো চক্রকেই এবার আইনের আওতায় আনা হবে।

তারা বলেন, যতদূর খবর পেয়েছি সিলেট থেকে প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হয়। পাশাপাশি লন্ডনে অবস্থানরত বিভিন্ন সিলেটি রেস্টুরেন্টের মালিক ও বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীরাও তাকে ‘মাসিক চাঁদা’ হিসাবে মোটা অংকের অর্থ দেন। আমরা তাদেরও নজরদারিতে রাখবো। যেমনটা রাখা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে যারা (বিএনপির নির্বাহী সদস্য তাবিথ আউয়ালসহ আরো অন্তত ১০ জন ব্যবসায়ী) তারেককে টাকা পাঠাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে। দ্রুতই পুরো এই চেইনটা আইনের আওতায় আসবে। মুখোমুখি হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির।

রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, ‘চোরের দশ দিন, গৃহস্থের এক দিন’ প্রবচনটি যে মিথ্যা নয়, তা অচিরেই প্রমাণিত হবে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কে বা কারা দুর্নীতির বরপুত্র তারেক রহমানকে লন্ডনে টাকা পাঠান আর কেনইবা পাঠান। তাই থলের বিড়াল যতক্ষণ না বেরিয়ে আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ধৈর্যধারণ করে থাকুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/আরএইচ/এইচএন