কর্ম দোষেই ফিরোজায় নিঃসঙ্গ দিন কাটছে খালেদার

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৯ ১৪২৮,   ১৫ সফর ১৪৪৩

কর্ম দোষেই ফিরোজায় নিঃসঙ্গ দিন কাটছে খালেদার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:২৩ ১ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৪:৫০ ১ আগস্ট ২০২১

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় নিঃসঙ্গ দিন কাটাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারছেন না তিনি। 

এদিকে ঘরোয়াভাবে দলের কিছু কর্মকাণ্ড করতে চাইলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং নিজ সন্তান তারেক রহমানের জন্য তাও করতে পারছেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালেদার এ নিঃসঙ্গ অবস্থার জন্য সমস্ত দায় তার নিজেরই। কেননা তারেক রহমানের হাতে দলের ক্ষমতা তিনিই তুলে দিয়েছেন।

খালেদার ঘনিষ্ঠ এক বিএনপি নেতা জানান, গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মাসেরও বেশি সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর বাসায় ফিরে আসলেও কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছেন না। 

তিনি বলেন, দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর তারেক রহমান দলের সব দায়িত্ব হাতে নেন। এরপর খালেদার জেলে থাকার সুযোগে দলের সব কমিটিতে নিজের অনুসারীদের বসিয়ে বিএনপিতে একক রাজত্ব কায়েম করেছেন তারেক। সরকার বিশেষ বিবেচনায় দণ্ড স্থগিত করে বাসায় থাকার অনুমতি দিলেও তারেকের বাধার কারণে বিএনপির কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছেন না খালেদা।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বাসায় একা বসে থাকতে থাকতে হতাশা ঘিরে ধরেছে খালেদাকে। এক সময় বড় বড় নেতারা তার কথায় উঠবস করতেন, হাজার হাজার মানুষ তার নামে স্লোগান দিতেন, কিন্তু এখন পাশে কেউ নেই। এসব কথা ভেবে বিষণ্ন হয়ে পড়ছেন খালেদা জিয়া।

এক সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, আমি কিছুদিন আগে ম্যাডামকে দেখতে গিয়েছিলাম। তারেক রহমানের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ তিনি। তার আজকের এ খারাপ অবস্থার জন্য তারেককে দায়ী করে ম্যাডাম বলেছেন, তারেকের যদি একটু লাগাম ধরতে পারতাম, তাহলে আজকের এ খারাপ দশায় পড়তে হতো না। ছিলাম প্রধানমন্ত্রী, এখন জেল খাটছি। সব দোষ এ কুলাঙ্গারটার। তার যত অপকর্মের জন্য এখন আমাকে সাজা পেতে হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/জেডআর/এইচএন