কানাডায় পলাতক বিএনপি নেতা ফিরোজের রাজসিক জীবন

ঢাকা, রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১০ ১৪২৭,   ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কানাডায় পলাতক বিএনপি নেতা ফিরোজের রাজসিক জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৮ ৪ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:২৫ ৪ ডিসেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাবেক অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার ও ১৩ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ডা. ফিরোজ মাহমুদ ইকবাল বর্তমানে কানাডায় রাজসিক জীবন-যাপন করছেন।

ডা. ফিরোজ মাহমুদ ইকবাল মূলত আলোচনায় আসেন ২০০১ সালে। খালেদা জিয়া দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলে ফিরোজ অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এরপর থেকেই শুরু হয় তার দাপট। এ সময় হাওয়া ভবনের সঙ্গে মিলে কমিশন বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য এবং টেন্ডার বাণিজ্যে মনোযোগী হন তিনি। মাত্র কয়েকদিনেই বনে যান শত কোটি টাকার মালিক।

নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির পর ২০০৭ সালে পালিয়ে যান ফিরোজ। এরপর তিনটি মামলায় দণ্ডিত হন বিএনপি চেয়ারপার্সনের ঘনিষ্ঠ এই কর্মকর্তা। 

রমনা থানার মামলা নং ৪ -এ (তারিখ ০৫-৮-০৭) তিনি তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তেজগাঁও থানার মামলা নং ২৩ -এ (তারিখ ১৩-১১-০৭) তিনি ৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এছাড়াও রমনা থানায় করা আরো এক মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফিরোজ সর্বশেষ জেড-০০৬৯৩৪৯ নম্বরের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। এই পাসপোর্টের মেয়াদ ২০০৯ সালে শেষ হয়ে যায়। এরপর সেটি আর নবায়ন করা হয়নি।

বর্তমানে তিনি কানাডায় অবস্থান করছেন। তার বিশাল বাংলো বাড়ি ভ্যাঙ্কুভারে। শুধু কানাডা নয়, বিশ্বের অন্যতম এই ব্যয়বহুল শহরের পয়েন্ট গ্রে রোডে একটি বিলাসবহুল ভিলার মালিক তিনি। তবে সেখানে তিনি থাকেন না। মাঝে মাঝে আসেন। 

এছাড়া স্ত্রী ইমতিয়াজ বেগমের নামে বেলমোন্ট এভে এলাকায় আছে বিলাসবহুল বাড়ি। টরেন্টোতে মেয়ে জেরীন তাসনিমের নামে আছে একটি অ্যাপার্টমেন্ট। ছোট মেয়ে ফাতিমা তাসনিমের নামে অ্যাপার্টমেন্ট আছে লন্ডনে। এখানেই ফিরোজ থাকেন। কানাডায় ইমিগ্র্যান্ট হওয়ার কারণে লন্ডন-কানাডা যাতায়াত তার জন্য ডাল-ভাত। 

অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, বাড়ি ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশে তার শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। লন্ডনে রয়েছে তার দুটি রেস্টুরেন্ট। ম্যানচেস্টারের একটি আবাসিক হোটেলও রয়েছে তার। 

উল্লেখ্য, ফিরোজ এখনও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। তারেক জিয়ার অন্যতম সহযোগী হিসেবে এখনো বিএনপির মধ্যে তার প্রভাব রয়েছে বলেও জানা গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/টিআরএইচ