নির্বাচন এলেই বিভেদে জড়ায় বিএনপি নেতারা

ঢাকা, রোববার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ২২ ১৪২৭,   ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

নির্বাচন এলেই বিভেদে জড়ায় বিএনপি নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১৩ ৩১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:১৮ ৩১ অক্টোবর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

যেকোনো নির্বাচন এলেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল জোরালো হয়। শুধু তাই নয়, বিভেদের জেরে সংঘাতে জড়িয়ে রক্তারক্তির ঘটনা প্রায়ই ঘটায় বিএনপি নেতারা। সম্প্রতি ঢাকা-১৮ আসন উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একই ঘটনা ঘটছে। 

জানা গেছে, উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পাশে গুটি কয়েক নেতা থাকলেও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অধিকাংশ সদস্য মাঠে নেই। ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটির বেশিরভাগ নেতা এখন ভার্চুয়ালি দিক-নির্দেশনা দিয়েই দায় সারছেন। 

দলীয় সূত্র মতে, ঢাকা-১৮ আসন উপ-নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীরকে নিয়ে শুরু থেকেই দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ছিল। এর পরিণামও ভোগ করতে হয়েছে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। তাকে মনোনয়ন দেয়ার পর বিক্ষুব্ধরা তার ঢাকার বাসায় ইট-পাটকেল ও ডিম ছুঁড়ে মেরেছেন। এদিকে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও এসএম জাহাঙ্গীর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা বলেন, পরিচালনা কমিটির দেখাদেখি স্থানীয় নেতারাও কৌশলে এসএম জাহাঙ্গীরের নির্বাচনী গণসংযোগ থেকে নিজেদের বিরত রাখছেন। ফলে নিজ আসনের বাইরে থেকে কিছু নেতা-কর্মীকে এনে মাঠে সরব রয়েছেন তিনি। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তার গণসংযোগে ধারাবাহিকভাবে হামলার ঘটনাও ঘটছে। 

তিনি বলেন, স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় ও বহিরাগতদের দিয়ে নির্বাচনী শোডাউন করছেন বিএনপি প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর প্রথম দুদিন বড় শোডাউন করতে পারলেও এসএম জাহাঙ্গীর ও তার সমর্থকরা এখন বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের আশপাশেই অবস্থান করছেন। মূলত বিক্ষুব্ধ নেতাদের রোষানলে পড়ার শঙ্কায় গণসংযোগ কর্মসূচি এড়িয়ে চলছেন জাহাঙ্গীর। কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি এই আসনে বিএনপির থানা পর্যায়ের নেতারা শুরুর দিকে সক্রিয় থাকলেও এখন নিষ্ক্রিয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির সিনিয়র ও দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি এখনো এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। কোন্দল-বিভেদ দূর করে এক ছাতার নিচে আসতে পারেননি কর্মীরা। বিষয়টি বিএনপি প্রার্থী জাহাঙ্গীরও টের পেয়েছেন। তবে এই আসনে তার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা না থাকায় বিএনপি কর্মীদের মাঝে তিনি সাড়া ফেলতে পারছেন না। এ অবস্থা বিরাজমান থাকলে উপ-নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর শোচনীয় পরাজয় ঘটবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/জেডআর/টিআরএইচ/এমকেএ