বিএনপির গলার কাঁটা জাফরুল্লাহ

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৭,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

বিএনপির গলার কাঁটা জাফরুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩২ ২৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:১১ ২৮ অক্টোবর ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

‘তারেক রহমানকে বিএনপির দায়িত্ব দেয়াটা ঠিক হয়নি। জাইমা রহমানকে দেশে আনা উচিত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বয়স হয়েছে, তাদের কোমরে শক্তি নেই। বিএনপি মেরুদণ্ডহীন রাজনৈতিক দল।’

বিএনপি সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এমন মন্তব্যে বিরক্ত দলটির শীর্ষ নেতারা। কিন্তু সাহস করে তারা জাফরুল্লাহর বিরোধিতা করতে পারছেন না। জাফরুল্লাহ বিএনপি নেতাদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছেন বলেও বিএনপিতে গুঞ্জন উঠেছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিনিয়র নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা ও অদক্ষতার কারণে বিএনপির হয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুলদের ব্যর্থতার কারণে জাফরুল্লাহ অনেকটা বিএনপির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছেন। শুরুর দিকে তার বক্তব্যে সরকারবিরোধীতা ফুটে উঠলেও ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বিএনপিকেই আক্রমণ করা শুরু করেন তিনি। 

জাফরুল্লাহকে ভরসা করে তাকে দলের পক্ষে কথা বলার সুযোগ করে দিলেও তিনিই এখন মির্জা ফখরুলদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছেন। কিন্তু সৌজন্যবোধ ও সিনিয়রিটির খাতিরে জাফরুল্লাহর কটু কথার প্রতিবাদ করতে পারেন না বিএনপির সিনিয়র নেতারা। 

জাফরুল্লাহর কথা-বার্তায় এখন তারা সন্দেহ প্রকাশ করছেন। বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করার বদলে তিনি এখন বিভেদের বিষ ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ দলটির নেতাদের।

নিজেদের অযোগ্যতা, নিষ্ক্রিয়তা ঢাকতে জাফরুল্লাহকে নাড়তে চান না দলটির সিনিয়র নেতারা, কারণ এতে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে বলেও ভয় তাদের। জাফরুল্লাহর লাগামহীন বক্তব্যে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন মির্জা ফখরুলরা।

তার এসব লাগামহীন বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির এক সিনিয়র নেতা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, জাফরুল্লাহকে নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি। দলের ভালো করার চেয়ে ক্ষতিই বেশি করছেন তিনি। অনেক সময় দাওয়াত না দিলেও অযাচিতভাবেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিএনপিকে দোষারোপ করে নেতিবাচক কথা বলেন।

তিনি বলেন, জাফরুল্লাহকে থামানো উচিত এখনই। কিন্তু তার খুঁটির জোর সম্ভবত বেশি, আর না হয় তিনি কোনো বিশেষ মহলের এজেন্ট, যার কারণে তাকে নাড়াতে স্বয়ং খালেদা জিয়া ও তারেকও ভয় পান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এমআরকে/এসআর