তৃণমূলে অস্তিত্ব নেই বিএনপির

ঢাকা, শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

তৃণমূলে অস্তিত্ব নেই বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:১৭ ২৫ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৭:৪৯ ২৫ অক্টোবর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এমন নড়বড়ে ও এলোমেলো সময় দেখেনি বিএনপি। সিনিয়র নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা, অদূরদর্শিতা ও নীতি-নৈতিকতার অভাবে তৃণমূল বিএনপির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপি এখন রাজধানী কেন্দ্রিক দলে পরিণত হয়েছে। দলে তৃণমূল পর্যায়ে কোনো কার্যক্রম না থাকায় বিএনপি নামের যে একটি দল রয়েছে, সেটিই ভুলতে বসেছে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ।

দলীয় সূত্র জানায়, দলকে সুসংহত ও সংগঠিত না করে যেকোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার দলীয় সিদ্ধান্তে নাখোশ বিএনপির তৃণমূল নেতারা। দল না গোছানোর পাশাপাশি নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব না মিটিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কারণে বিএনপির এমন শোচনীয় পরাজয় হয়েছে বলে মনে করে সূত্রটি। 

দলের ক্রমাগত পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনে ব্যর্থ সিনিয়র নেতাদের বহিষ্কারেরও দাবি তুলেছে সূত্রটি। দল রক্ষায় স্বজনপ্রীতি বাদ দিয়ে যোগ্যদের পদায়নেরও দাবি তুলেছেন তৃণমূল নেতারা।

বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, জাতীয় নির্বাচন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ- সব ধরনের নির্বাচনেই বিএনপি যাচ্ছেতাই ভাবে পরাজিত হচ্ছে। দলে শৃঙ্খলা না থাকায় তৃণমূলের রাজনীতিও খেই হারিয়ে ফেলেছে।

তারা বলেন, তৃণমূলকে জাগ্রত করতে কেন্দ্রের কোনো তৎপরতাই নেই। অদৃশ্য কারণে তৃণমূলের পুনর্গঠন নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের নীরবতা নেতা-কর্মীদের ভাবিয়ে তুলছে। শীর্ষ নেতারা লোভে পড়ে বিএনপিকে বিশৃঙ্খল করে রেখেছেন।

গুঞ্জন উঠেছে, নিজেদের স্বার্থে ইচ্ছাকৃতভাবে বিএনপির তৃণমূলকে নিষ্প্রভ করে রেখেছেন দলের কিছু সুবিধাবাদী নেতা। তাই দল বাঁচাতে এসব সুবিধাবাদী নেতাদের খুঁজে বের করে বহিষ্কার করারও দাবি উঠছে।

তৃণমূলের পুনর্গঠন নিয়ে হাইকমান্ডের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, তৃণমূল পুনর্গঠন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। 

তিনি বলেন, বিএনপির প্রাণ ছিল তৃণমূল। সেই তৃণমূল এখন মৃতপ্রায়। বিষয়টি কষ্ট দেয় আমাকে। কিন্তু কিছু বলতে গেলে পদে পদে বাধা আসে। তাই কষ্ট লাগলেও নীরবে এসব সহ্য করতে হয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/জেডআর/এসআর/এইচএন