ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেকায়দায় বিএনপি 

ঢাকা, শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেকায়দায় বিএনপি 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:২৬ ২২ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২১:১৪ ২২ অক্টোবর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুষ্ঠু মীমাংসা করতে না পারায় ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরম বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি। এ পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংকট দিন দিন আরো বাড়ছে।

ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থিতা নিয়ে প্রথমবারের মতো বিক্ষুব্ধরা দলীয় মহাসচিবের বাসায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গ দলের ১৮ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হলেও বিক্ষোভ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি, বরং বিক্ষোভকারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঝাড়ু মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ ও নগরজুড়ে পোস্টার সাঁটিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরার বিক্ষুব্ধদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে দলের হাইকমান্ড। তাদের দমাতে আপাতত কোনো পথই পাচ্ছে না তারা। এজন্য নির্বাচন পরিচালনায় ৩৪ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে থাকা কেন্দ্রীয় নেতারা অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় কোন এলাকায় নিরাপদে প্রচারণা চালানো যাবে, তার সন্ধান করছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আমান উল্লাহ আমান বলেন, ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচন আমাদের জন্য একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা মোকাবিলা করার প্রস্তুতি গ্রহণ করব।

এর আগে, ১২ সেপ্টেম্বর গুলশান কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানের বাইরে আগ্রহী দুই প্রার্থী এম কফিল উদ্দিন আহমেদ ও এসএম জাহাঙ্গীরের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় পুরো আসনের বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়ে কফিলকে মামলা করা থেকে বিরত রাখেন। 

এছাড়া আগ্রহী সাত প্রার্থী জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন না দিতে হাইকমান্ডের কাছে লিখিত আবেদনও করেন। এরপরও দলের হাইকমান্ড এসএম জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেয়। 

এরপরই বিচারবঞ্চিতরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরদিন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে জাহাঙ্গীরের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানায়। এ সময় মির্জা ফখরুল বাসভবনেই ছিলেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা মহাসচিবের বাসায় উপর্যুপরি ডিম নিক্ষেপ করে। পরদিনই ভিডিও ফুটেজ দেখে সেখানে থাকা বিএনপি ও অঙ্গ দলের ১৮ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। ফলে তারা আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করে রাজপথে কর্মসূচি পালন করে।

পাশাপাশি 'সন্ত্রাসী ও ঘরজামাই এসএম জাহাঙ্গীর ও তার গুণ্ডাবাহিনীর বিচার ও বহিষ্কার চাই' শিরোনামে নগরজুড়ে পোস্টার সাঁটায়। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, জজকোর্ট, বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়, মহানগর কার্যালয় ও কারওয়ান বাজার এলাকায় এসব পোস্টার দেখা গেছে।

বিক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা জানান, ১২ সেপ্টেম্বরের হামলার ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। ২২ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণার শুরু থেকে তারা নির্বাচনী এলাকায় কর্মসূচি পালন করবে। যেখানেই জাহাঙ্গীর সমর্থকরা প্রচারণা চালাবে, সেখানেই কালো পতাকা নিয়ে তারা মিছিল করবে বলেও জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন দলের নীতি নির্ধারকরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/জেডআর/এআর/টিআরএইচ