আব্বাসের নামে চাঁদাবাজি, সন্দেহের তীর ফের ছাত্রদলের দিকে

ঢাকা, শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৬ ১৪২৭,   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আব্বাসের নামে চাঁদাবাজি, সন্দেহের তীর ফের ছাত্রদলের দিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৭ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৪৯ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকায় প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। 

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি তৈরি করে চাঁদাবাজি করছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কিছু নেতা। 

এবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নামে আইডি খুলে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করে দলের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন ছাত্রদলের পদবঞ্চিত কিছু নেতা। বিষয়টি জানতে পেরে নিজেই একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মির্জা আব্বাস।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের নামে ফেসবুক আইডি খুলে তৃণমূল নেতাদের পদ-পদবি বিতরণ, দলীয় অনুষ্ঠানের নামে অনৈতিকভাবে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠেছিলো ছাত্রদলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে। এমনকি ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জারে তারেক ও মির্জা ফখরুলের কণ্ঠ নকল করে নেতা-কর্মীদের পদ-পদবি বিতরণের নামে চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। 

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অভিনব প্রতারণায় চরম ক্ষুব্ধ বিএনপির হাইকমান্ড। অতীতের ন্যায় একইভাবে এবার মির্জা আব্বাসের কিছু ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক আইডি খুলে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, মির্জা আব্বাসের ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে দেশ ও বিদেশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে চাওয়া হচ্ছে বড় অংকের চাঁদা। 

যেহেতু অতীতে ছাত্রদলের একটি অংশ তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের নামে চাঁদাবাজি করেছে, তাই ধারণা করা হচ্ছে- একই চক্র পুনরায় সক্রিয় হয়ে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নতুন করে প্রতারণা করছে। মির্জা আব্বাসের আইডি থেকে বন্যা, করোনা বা কখনো পার্টি ফান্ডের কথা বলে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আসছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেন, এই ধরনের অভিযোগ মির্জা আব্বাসও করেছেন। তিনি এই প্রতারণার জন্য ছাত্রদলের দিকে সন্দেহের আঙুল তুলেছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। যদি কেউ দায়ী থাকে তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা জন্ম নিয়েছে। যার ফলে তারা এসব অপকর্মে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এর ব্যর্থতার দায়ভার কেন্দ্রীয় নেতাদের উপর বর্তায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এমআরকে/এইচএন