বিএনপির প্রতিটি জেলা কমিটিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল

ঢাকা, শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১০ ১৪২৭,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিএনপির প্রতিটি জেলা কমিটিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৫ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:১৩ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, নেতৃত্বের সংকট, নেতাকর্মীদের দলত্যাগসহ বিভিন্ন হতাশায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত হয়ে পড়েছে বিএনপির প্রতিটি জেলা কমিটি।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বগুড়া শহরের নবাববাড়ি সড়কের জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রতিনিধি সভায় সংঘর্ষ, ভাংচুর ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মীর শাহে আলম বলেন, শুধু শিবগঞ্জ নয়, সব কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বহিরাগত লোকজন নিয়ে শিবগঞ্জের কমিটি করায় প্রতিনিধি সভা চলার সময় হট্টগোল করার চেষ্টা করেছিল।

জানতে চাইলে বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে তাদের যৌথসভা চলছিল। সেখানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এবং উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়করা উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে হঠাৎ করে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সিপার আল বখতিয়ারের পক্ষে তার ছোটভাই শান্ত ও টোকাই শ্রেণির লোকজন তাদের সভা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করে। তখন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায় তারা।

তিনি আরো বলেন, পদবঞ্চিত ও বিতাড়িতরা ষড়যন্ত্র করে তাদের যৌথ প্রতিনিধি সভা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেছিল।

সম্প্রতি পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দলীয় প্রতিনিধি সভা শেষে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিমেল রানাসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, সংঘর্ষের ঘটনা নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়। যুবদলের সাবেক ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, বড় করে দেখার মতো কিছু নয়।

এছাড়া, জামালপুরে প্রতিটি ইউনিটই দলীয় কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি এবং জেলা বিএনপির সভাপতি কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন না এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ারেস আলি মামুন জানান, বিষয়টি একেবারেই ভিত্তিহীন।

তিনি বলেন, এখানে যারা বিএনপি কর্মী আছে তারা সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ। আমরা দলের নির্দেশ অনুযায়ী এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সব কর্মসূচি পালন করে থাকি।

তিনি আরো বলেন, জেলার সভাপতি একটি আসনে নির্বাচন করেন আমি অন্য একটি আসনে নির্বাচন করি। স্বভাবতই তিনি তার আসনে কার্যক্রম পরিচালনা করেন আর আমি আমার আসনের কার্যক্রম পরিচয় করে থাকি। আমাদের নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হয়ে থাকে। এই কারণেই হয়তো ছোট ছোট প্রোগ্রামের তিনি সদরে আসতে পারেন না কিন্তু জাতীয় সব প্রোগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

দলীয় কোন্দলের কারণেই প্রায় শ’খানেক নেতা বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বলেন, যারা বিএনপি ছেড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন তারা নিজেদের স্বার্থেই দল ত্যাগ করেছেন।

জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম বলেন, জামালপুর জেলা বিএনপি নেতাদের মধ্যে বড় ধরনের কোনো কোন্দল নেই। 

তিনি বলেন, আমরা যারা কমিটিতে আছি। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সুন্দর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে আছি। এখানে দলের সাধারণ সম্পাদকের তো এককভাবে কোন কর্মসূচি পালন করার সুযোগই নেই। আমাদের গঠনতন্ত্রে তাই উল্লেখ আছে। আমরা যা কিছুই করি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করি। 

বিএনপি একটি বড় দল। সেখানে তো ছোটখাটো কিছু কোন্দল থাকতেই পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যারা সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি, সবাই ঐক্যবদ্ধ। যারা নিজেদের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি করে সুবিধা নিতে চায়। তাদের মুখ থেকেই এ ধরনের আলাপ-আলোচনা ডালপালা মেলেছে।

দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, সাংগঠনিক দুর্বলতা আর দলের মধ্যে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে বিএনপিতে।

সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে বিএনপি। আন্দোলন-সংগ্রামের নামে বারবার শক্তি ক্ষয় করে তারা এখন রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়তে শুরু করেছে।

একসময়ে বিএনপির মূল শক্তি ছিলো ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং মহানগর কেন্দ্রীয় কমিটি। যোগ্য, মেধাবী ও চৌকস নেতার অভাবে সেই সংগঠনগুলো আজ প্রায় অকেজো। নেই কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম। নেই কোনো ছন্দ। এছাড়াও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকায় বিপর্যস্ত প্রতিটি জেলা কমিটির নেতা কর্মীরা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এমআরকে/এইচএন