বগুড়া জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সভায় সংঘর্ষ

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বগুড়া জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সভায় সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৭ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:৩৯ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বগুড়া জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সভায় সংঘর্ষ, ভাংচুর ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার শহরের নবাববাড়ি সড়কের দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া শহরের নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের যৌথ প্রতিনিধি সভা আয়োজন করা হয়। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়করা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন। সভায় জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপির সব আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। সভা চলাকালে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে কথা বলতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কারাবন্দি বিএনপি নেতা এমআর ইসলাম স্বাধীনের ১০-১৫ জন সমর্থক জেলা বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

তারা কমিটি নিয়ে কথা বলতে চাইলে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে অফিসের মধ্যে হট্টগোল ও চেয়ার ভাংচুর শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের ধাওয়া দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়। এ সময় বহিরাগতদের ওপর লাঠিশোটা নিয়ে হামলা করে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও বলেন, বিএনপি নেতা এমআর ইসলাম স্বাধীন জেলে থাকায় তার পক্ষে কাউকে কথা বলতে দেয়া হয়নি। বিএনপি নেতা মীর শাহে আলম একতরফাভাবে শিবগঞ্জ উপজেলা কমিটি নিয়ে কথা বলেন। এ নিয়ে স্বাধীন সমর্থকরা হট্টগোল ও চেয়ার ভাংচুর করেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মীর শাহে আলম বলেন, শুধু শিবগঞ্জ নয়, সব কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বহিরাগত লোকজন শিবগঞ্জের কমিটি নিয়ে প্রতিনিধি সভা চলাকালে হট্টগোল করার চেষ্টা করেছিল।

জানতে চাইলে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে তাদের যৌথসভা চলছিল। সেখানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এবং উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়করা উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে হঠাৎ করে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সিপার আল বখতিয়ারের পক্ষে তার ছোটভাই শান্ত ও টোকাই শ্রেণির লোকজন তাদের সভা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করে। তখন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, পদবঞ্চিত ও বিতাড়িতরা ষড়যন্ত্র করে তাদের যৌথ প্রতিনিধি সভা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেছিল।

বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কিছু যুবক বিএনপি অফিসে হট্টগোল করে। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এমআর/এইচএন