খালেদার পর এবার তারেকের মাইনাস চায় বিএনপির তৃণমূল

ঢাকা, শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৬ ১৪২৭,   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

খালেদার পর এবার তারেকের মাইনাস চায় বিএনপির তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৫ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:৩৯ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক বিদায়ের পর তার ছেলে তারেক রহমানকেও রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে চায় দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

তাদের মতে, বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে এখন টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে। নতুন নেতৃত্বের কথা বারবার বলা হচ্ছে। যোগ্য এবং সাবর্ক্ষণিক নেতৃত্ব ছাড়া বিএনপির পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে এমন একজন নেতা দরকার, যার ভালো ও স্বচ্ছ ইমেজ রয়েছে। 

বিএনপির তৃণমূল নেতারা মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে নেতৃত্বে ব্যর্থতা এবং একজন যোগ্য নেতার অভাবের কারণেই বিএনপি বিভ্রান্ত, দিশেহারা এবং একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে। আর এ কারণেই বিএনপিতে একজন যোগ্য নেতার প্রয়োজনীয়তার কথা এখন বেশ জোরেশোরেই বলা হচ্ছে। 

বিএনপিতে দলের চেয়ারপার্সনই হলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে মনে করা হয় মহাসচিবকে। বিএনপির গঠনতন্ত্র এমনভাবে সাজানো, যেখানে একজন মহাসচিবের দায়িত্ব শুধু দলের চেয়ারম্যানের ইচ্ছা অনুয়ায়ী দলকে পরিচালনা করা। দলের চেয়ারম্যানের আদেশগুলোকে মাঠ পর্যায়ে প্রতিফলিত করা, চেয়ারম্যানের কর্মপরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা। 

গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে দেখা যাচ্ছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নির্দেশনাহীন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের যোগ্যতা, সততা এবং দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এদিকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপিতে খালেদা জিয়ার একচ্ছত্র প্রভাব বিদ্যমান ছিল। কিন্তু এরপর থেকেই বিএনপির নেতৃত্বের দুটি ধারা শুরু হয়। একটি খালেদা জিয়ার ধারা, আরেকটি তারেক জিয়ার ধারা। ধীরে ধীরে তারেকের ধারা শক্তিশালী হতে থাকে। সেই সময় মনে করা হয়েছিল যে, তারেকই বিএনপির পরবর্তী নেতা হতে যাচ্ছেন।

তবে তারেকের সীমাহীন দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন এবং একের পর এক অপকর্মের ফলে একজন নেতা হিসেবে তারেকের যে জাতীয় ইমেজ, সেটা বিতর্কিত হতে থাকে। এছাড়া তারেক দল-মতের ঊর্ধ্বে যাওয়ার ফলে প্রশ্নবিদ্ধ হতে শুরু করেন। ২০০৭ -এ তারেকের কতৃত্ব খর্ব হয় বিএনপিতে। বিশেষ করে লন্ডনে যাওয়ার পরে তিনি রাজনীতি করবেন কী করবেন না- এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে নানা রকমের সংশয় ও সন্দেহ ছিল। 

২০১৪ এর নির্বাচন বর্জন করা ছিলো বিএনপির একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিএনপির অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতাই মনে করেন নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তের ফলেই বিএনপির বিভ্রান্তির রাজনীতির সূচনা হয়। নির্বাচনের পর টানা অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর ইত্যাদির মাধ্যমে বিএনপি জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হতে শুরু করে।

খালেদা জিয়া গ্রেফতারের পরই বিএনপিতে নেতৃত্বের প্রশ্ন আসে। আর ২০১৮ এর নির্বাচনে অংশগ্রহণ, মনোনয়ন বাণিজ্য করা এবং টাকার বিনিময়ে একই নির্বাচনী এলাকায় একাধিক প্রার্থী দেয়ার কারণে তারেক জিয়া বিএনপিতে ভিলেনে পরিণত হন। সাধারণ মানুষের কাছে বির্তকিত হলেও দলের মধ্যে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।

২০১৮ এর ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর, তিনি দলেও বির্তকিত হয়ে যান। খালেদা জিয়া ২৫ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়ার পর রাজনীতি থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। বিএনপির ব্যাপারে তিনি কোন নির্দেশনা বা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করছেন না। নেতাদেরকে কোনো গাইডলাইনও দিচ্ছেন না। 

অন্যদিকে তারেক জিয়া শুধু তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া বিএনপির ব্যাপারে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বিএনপিকে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই মনে করেন তারেক। এটা তার অর্থ উপাজর্নের একটি সংগঠন হিসেবেই বিবেচনা করেন বলে মনে করেন বিএনপির একাধিক নেতা।

এ রকম বাস্তবতায় বিএনপিতে এখন শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্বের সংকট প্রবল। ২০১৮ এর নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি থেকে তারেককে মাইনাস করার কথা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে যারা ঘনিষ্ঠ, এ রকম ব্যক্তিরা তারেককে আপাতত রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে অন্য কাউকে বিএনপির চেয়ারপার্সন বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন প্রস্তাব করছেন। 

এছাড়া এখন দল চালানোর মতো অবস্থায় খালেদা জিয়া নেই বলেই মনে করেন বিএনপির অধিকাংশ নেতা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নেতৃত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে তারেককে নিয়ে দলের মধ্যে তীব্র আপত্তি এবং অনাস্থা তৈরি হয়েছে।

এমন বাস্তবতায় তারেক জিয়াকে দিয়ে বিএনপি এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। এমন মত প্রায় বিএনপির অধিকাংশ নেতার। প্রকাশ্যে না বললেও তারা গোপনে এটা স্বীকার করেন। আর এ কারণেই বিএনপিতে নতুন নেতৃত্বের কথা বলা হচ্ছে। তারেককে আপাতত মাইনাস করার কথাও বলা হচ্ছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে দলটির একাধিক সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারেক জিয়ার আপাতত বিএনপির নেতৃত্ব দেয়ার মতো অবস্থা নেই। কারণ প্রথমত, তিনি বিদেশে থাকেন। দ্বিতীয়ত, তার সিদ্ধান্ত ও চিন্তা ভাবনাগুলো সুদূর প্রসারী নয়। এ কারণেই তারককে মাইনাস করে একজন নতুন নেতার হাতে বিএনপির আপদকালীন সময়ের নেতৃত্ব দেয়ার সুপারিশ করছেন তারা। 

তবে শেষ পর্যন্ত তারেক এবং খালেদার বাইরে বা জিয়া পরিবারের বাইরে বিএনপির নেতৃত্ব কারো হাতে যাবে কি না কিংবা সেটি গেলে বিএনপি অখণ্ড থাকবে কি না, এ নিয়েও বিএনপি নেতারা ভাবছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/টিআরএইচ/এইচএন