নিজেদের মধ্যে মারামারি করে কঠোর সমালোচনায় বিএনপি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নিজেদের মধ্যে মারামারি করে কঠোর সমালোচনায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৬ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আন্দোলনে বারবার ব্যর্থ হয়ে এবার নিজেদের মধ্যে মারামারি করে আলোচনায় এসেছে দীর্ঘদিন রাজপথের বাইরে থাকা দল বিএনপি। জানা গেছে, কমিটি গঠন থেকে শুরু করে নির্বাচন ও মনোনয়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দলটির নেতা-কর্মীরা মাঝেমধ্যেই নিজেদের মধ্যে মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছেন। 

চার আসনের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং গুলশান চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে দুই দফা নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটিয়েছে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ দলের সিনিয়র নেতা-কর্মীরা। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের শাস্তি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্দোলনের নামে একের পর এক ব্যর্থতায় বিগত কয়েক বছর ধরে নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ফলে অস্তিত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় সংঘাতপূর্ণ রাজনীতি চলছে দলের ভেতরে ও বাইরে। আন্দোলন করে দলীয় কোনো দাবি আদায় করতে পারেনি বিএনপি। এ পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে আলোচনায় থাকে।

সূত্রটি আরো জানায়, শুধু উপ-নির্বাচনকে ঘিরেই নয় এর আগেও ২০১৯ সালের ২৫ জুন রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়। ওই বছরই ১৬ নভেম্বর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়।

এরও আগে ২০১৬ সালের ১ মে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উল্টো দিকে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মারামারিতে শ্রমিক দল ধানমন্ডি শাখার সাবেক সভাপতি বাবুল সরদার মারা যান।

চলতি বছরের ২২ আগস্ট ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হয় কমপক্ষে ২০ জন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের সিনিয়র ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অবিশ্বাসের জন্ম নিয়েছে। যার ফলে ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষা ও পদ-পদবী টিকিয়ে রাখতে নিজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছেন নেতা-কর্মীরা।

জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবীরা বলেন, কাউন্সিলের অভাব এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিএনপি নেতাদের মধ্যে এ রকম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সিনিয়র নেতাদের ব্যর্থতার কারণে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আবার দলকে চাঙ্গা করার জন্য এটি নতুন কৌশলও হতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/টিআরএইচ