বিএনপিতে ড্রয়িং রুম পলিটিশিয়ান যারা

ঢাকা, বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭,   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিএনপিতে ড্রয়িং রুম পলিটিশিয়ান যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৩ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৩১ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিএনপিতে এমন অনেক নেতা আছেন, যাদের রাজপথের আন্দোলনে দেখা যায় না, সব সময় বাড়ির ড্রয়িং রুমের ঝলমলে আলোতে থাকতে পছন্দ করেন। তারা মিটিং-মিছিলে খুব একটা আগ্রহী নন, তবুও তাদের গুরুত্ব দলে কখনো ভাটা পড়ে না। বিএনপির রাজনীতিতে এসব নেতারা ড্রয়িং রুম পলিটিশিয়ান হিসেবেই পরিচিত।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির বেশকিছু নেতা রাজপথের আন্দোলন না করে শুধু ড্রয়িং রুম রাজনীতি করেই দলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত পেয়েছেন।

ড. আব্দুল মঈন খান:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। রাজনীতিতে এসেছেন বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার ধারা থেকেই। তিনি এক সময় বাম রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিএনপিতে এসে তিনি নির্ভর হয়ে পড়েন ড্রয়িং রুম রাজনীতির ওপর এবং আস্তে আস্তে বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন। 

বিএনপির রাজনীতিতে ড্রয়িং রুম পলিটিশিয়ান হিসেবে পরিচিত এই নেতার আন্দোলন ও সংগ্রামে তেমন আগ্রহ না থাকলেও দলের হয়ে বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেন। মাঝে মাঝেই তারা ড. আব্দুল মঈন খানের ড্রয়িং রুমের সন্ধ্যার ককটেল আর চিয়ার্স পার্টির অতিথি হন। 

নজরুল ইসলাম খান:

বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি রাষ্ট্রদূতের চাকরি পেয়েছিলেন। সেখানেও তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তবুও বিএনপিতে তার কদর কখনো কমেনি।

নেতার প্রতি অনুগত থাকা এবং নেতার তল্পিবাহক হয়ে থাকাই তার রাজনীতির কৌশল। তার না আছে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, না আছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অতীত। কর্মীদের উজ্জীবিত করার মতো কোনো ক্যারিশমা তার নেই। নেই তার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা, এমনকি নেই নিজস্ব ভোট ব্যাংক। এছাড়া নিজস্ব কর্মীবাহিনীও নেই। 

দলের ভেতর তার জনপ্রিয়তাও বলতে গেলে তেমন আলোচনার বিষয় নয়। কিন্তু এরপরেও তিনি বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য। দলে তার ভূমিকা বা তিনি কী কাজ করেন সেটা দলের মধ্যেই আলোচনা হয় এবং দলের মধ্যেই এ নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক আছে। এক সময় বিএনপির রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করায় বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের তার বাসায় আনাগোনা রয়েছে। যার ফলে বিএনপির রাজনীতিতে তাকেও ড্রয়িং রুম পলিটিশিয়ান হিসেবে ধরা হয়। 

আব্দুল আওয়াল মিন্টু: 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু। নেতার চেয়ে রাজনীতিতে ব্যবসায়ী হিসেবে বেশি পরিচিত তিনি। তার নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকুক বা না থাকুক, বিএনপির বড় একজন ডোনার হিসেবেই তার একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। অনেকের মতে, আন্দোলন সংগ্রামে না থাকলেও আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিএনপির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। যার ফলে তাকে বিএনপির ড্রয়িং রুম পলিটিশিয়ান হিসেবে ধরা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/টিআরএইচ/এসআই/এইচএন