মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা

ঢাকা, বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৫ ১৪২৭,   ১২ সফর ১৪৪২

মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪৪ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে জমা দিয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ। উত্তরের খসড়া তালিকা আরো আগে জমা দেয়া হলেও গতকাল রাতে (সোমবার) মহানগর দক্ষিণের কমিটি করে জমা দেয় মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। 

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান বলেন, কমিটির একটি খসড়া তালিকা করে জমা দেয়া হয়েছে আরো আগেই। এখন শুধু ঘোষণার অপেক্ষা।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, কমিটির একটি খসড়া তালিকা করে জমা দেয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে কমিটি ঘোষণা করা হবে যেন কোনো ভুঁইফোড়, অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাবাদী দলে ঢুকতে না পারে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ নীতিনির্ধারকরা খুবই কঠোর। 

কাউন্সিলরদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু কাউন্সিলর তো থাকবেনই। তবে বড় কোনো পদ-পদবী তাদের দেয়া হবে না।

জানা গেছে, সাবেক কমিটিতে থেকে বাদ পড়তে পারেন কয়েকজন নেতা। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি নতুন-পুরাতন সমন্বয় হবে। দক্ষিণের কমিটিতে নতুন করে ১৬ জন আসতে পারেন। এর মধ্যে ১২ জনই নতুন মুখ। যুবলীগ থেকে চারজন আর সাবেক ছাত্রলীগ থেকে আটজন। কাউন্সিলদের মধ্যে থেকে চারজনের নাম শোনা যাচ্ছে। সেইসঙ্গে নতুন কমিটি চারজন সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হবে।

সবশেষ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন এবং যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন বিতর্কিত এমন কোনো কাউন্সিলরদের মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কমিটিতে না রাখতে নির্দেশনা দেয় আওয়ামী লীগ। সেই নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে বেশকিছু বিতর্কিত কাউন্সিলরা মহানগর কমিটিতে আসতে জোরালোভাবে লবিং করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

যেসব কাউন্সিলর মহানগরে আসার জন্য তোরজোড় চালিয়ে যাচ্ছেন; তাদের মধ্যে ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতন অন্যতম। ক্যাসিনোকাণ্ড থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি দখলসহ ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে তার নামে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের শুরুর দিকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের যে ১০ জন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক, তাদের মধ্যে নাম রয়েছে ফরিদ উদ্দিনের। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিলো ফরিদ উদ্দিনকে।

৪৩ নং কাউন্সিল আরিফুর রহমান ছোটন। বড়ভাই ছাত্র সমাজের কেন্দ্রেীয় নেতা হওয়ার সুবাদে তিনিও দক্ষিণের ছাত্র সমাজ করতেন। এরপর সাদেক হোসেন খোকার হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। অস্ত্র মামলা, ডাকাতি এবং হত্যা মামলায় একাধিক বার গ্রেফতার হন তিনি। পরে দল বদল করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। গত দুই দশকে তিনি এত ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছেন যে, এলাকায় তার চেয়ে বড় নেতারাও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান।

২০১৪ সালে কাউন্সিল নির্বাচনে বিএনপির জামায়াতের সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে, সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী সাঈদের বাড়িতে গুলি ও সন্ত্রাসী হামালা করে আহত করা হয় আওয়ামী লীগের সমর্থীত প্রার্থীকে। 

সূত্রাপুর থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী সাঈদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমাকে গুলি করেছে ছোটন। একাধিকবার বাড়িতে হামলা করেছে। তার নামে থানায় জিডি করেছি। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদেরও বলেছি। ২০১৪ সালের আগে আওয়ামী লীগের কোনো সদস্য ছিলেন না। এখন মহানগরের এক শীর্ষ নেতার হাতধরে পদপদবি ভাগিয়ে নেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সদরঘাট শ্যামবাজারের ফুটপাত, লেগুনা ষ্ট্যান্ড থেকে তার নাম করে চাঁদা তোলা হয়। ইসলামপুরে অবৈধ সিন্ডিকেট থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা নেয়ারও অভিযোগ আছে। বাংলাবাজার পুস্তক সমিতি তার সিন্ডিকেটে চলে।

৭০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতিকুর রহসান আতিকের নামেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার ভাই ডেমরা থানার বিএনপির সভাপতি। এছাড়া আরো কয়েকজন মহানগরের রাজনীতে আসতে চান; তাদের মধ্যে ২৭নং ওয়ার্ডের ওমর বিন আব্দুল আজিজ, ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মারুফ আহমেদ মনসুর, ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান। ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শুভ্র তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল বাশার তিনি আগের কমিটিতে সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়া আরো দুইজন সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিল মহানগর দক্ষিণের কমিটিতে আসতে মরিয়া। 

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কমিটিতে কোনো কাউন্সিলকে রাখতে চাই না। তারপরে বাকিটা দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নেতারা দেখবেন। কাউন্সিলদের ওয়ার্ড কমিটি এবং থানার কমিটিতে রাখা হবে। যেন এলাকার লোকজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি আবু আহমদ মন্নাফি বলেন, কাউন্সিলদের সঙ্গে এলাকার অনেক জনগণ আছেন। তাই সবাইকে নিয়েই আমাদের চলতে হয়। বাকিটা দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নেতারা দেখবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/এমআরকে