কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক মারা গেছেন

ঢাকা, বুধবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৮,   ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক মারা গেছেন

রাবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০৪ ১৫ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১২:৫১ ১৬ নভেম্বর ২০২১

হাসান আজিজুল হক । ফাইল ছবি

হাসান আজিজুল হক । ফাইল ছবি

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক ও ছোট গল্পের বরপুত্র হাসান আজিজুল হক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার আনুমানিক রাত ৯টা ১৫মিনিটে নিজ বাসভবনে তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান।

তিনি জানান, আজ সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার নিজ বাসভবনে মারা গেছেন।

হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার বর্ধমানের যবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা নিজের গ্রামেই করেন। এরপর ১৯৫৪ সালে যবগ্রাম মহারাণী কাশীশ্বরী উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৫৬ সালে খুলনার দৌলতপুরের ব্রজলাল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। যৌবনের শুরুতেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন হাসান আজিজুল হক।
 
রাজনীতি করার কারণে পাকিস্তান সরকারের রোষানলে পড়তে হয় তাকে। কলেজের অধ্যক্ষ তার মেধাবৃত্তি ফাইলচাপা করে রাখেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে কলেজ ছাড়তে বাধ্য করেন। পরে তিনি ভর্তি হন রাজশাহী সরকারি কলেজে। ১৯৫৮ সালে এই কলেজ থেকে দর্শন শাস্ত্রে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে অধ্যাপনা করেন।

মূলত ষাটের দশক থেকেই ছোটগল্পকার হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন হাসান আজিজুল হক। তবে ১৯৫৪ সালে স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার পরই লিখে ফেলেন প্রথম উপন্যাস। ১৯৫৭ তে লেখেন উপন্যাস শামুক। যা ২০১৫ সালের বই মেলায় প্রকাশিত হয়। উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী রচনা লিখে দেশের সাহিত্যাঙ্গনে নিজের অবস্থান মজবুত করেছেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক।

তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে উপন্যাস- ‘আগুনপাখি’ ও ‘সাবিত্রী উপাখ্যান’। গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ‘সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য’, ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’, ‘জীবন ঘষে আগুন’, ‘নামহীন গোত্রহীন’, ‘পাতালে হাসপাতালে’, ‘বিধবাদের কথা ও অন্যান্য গল্প’ ইত্যাদি।

প্রবন্ধ সাহিত্যের মধ্যে রয়েছে- ‘কথাসাহিত্যের কথকতা’, ‘চালচিত্রের খুঁটিনাটি’, ‘অপ্রকাশের ভার’, ‘অতলের আধি’, ‘লোকযাত্রা আধুনিক সাহিত্য’, ‘একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা’ ইত্যাদি।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ‘ফিরে যাই, ফিরে আসি’, ‘উঁকি দিয়ে দিগন্ত’, ‘এই পুরাতন আখরগুলি’, ‘টান’, ‘লন্ডনের ডায়েরি’।

কর্মমুখর সাহিত্য জীবনে হাসান আজিজুল হক লাভ করেছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৪), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮)। এছাড়া তিনি ১৯৯৯ সালে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’ এবং ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ/জেডএম