ষাটের দশকের ‘হাঙরি জেনারেশনের’ কবি

ঢাকা, সোমবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২২,   ৩ মাঘ ১৪২৮,   ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ষাটের দশকের ‘হাঙরি জেনারেশনের’ কবি

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০১ ১৩ নভেম্বর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বেলাল চৌধুরীকে বলা হয় ষাটের দশকের ‘হাঙরি জেনারেশনের’ কবি। তিনি বাংলা সাহিত্যের বোহেমিয়ান কবি হিসেবেও পরিচিত। এর বাইরে এ কবি সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও সম্পাদক হিসেবেও খ্যাতিমান ছিলেন।   

তার জন্ম ফেনীর শর্শদীতে ১৯৩৮ সালের ১২ নভেম্বর। বাবা রফিকউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও মা কবি মনিরা আখতার খাতুন চৌধুরীর ৯ সন্তানের জ্যেষ্ঠ তিনি। 

১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় জেলে যান তিনি। সাংবাদিকতা, জেল খাটা ও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার বিচিত্র পর্ব পেরিয়ে ১৯৬৩ সালে কলকাতায় পাড়ি জমান বেলাল চৌধুরী। সেখানেই তার সাহিত্যজগতের পূর্ণ আবির্ভাব ঘটে। যুক্ত হন সাহিত্য পত্রিকা কৃত্তিবাস সম্পাদনায়। পরে বিভিন্ন সময় সম্পাদনা করেছেন পল্লীবার্তা, সচিত্র সন্ধানী, ভারত বিচিত্রা। সম্পাদনা করেছেন বন্ধু সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বিবাহ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকাও।

১৯৭৪ সালে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন ওতপ্রোতভাবে। জাতীয় কবিতা পরিষদ ও পদাবলি কবিতা সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

তিনি দীর্ঘ পাঁচ দশক কবিতা, সাংবাদিকতা, গবেষণা, প্রবন্ধ, রচনা, অনুবাদসহ বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের পত্রিকা ‘ভারত বিচিত্রা’র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া সাপ্তাহিক সন্দ্বীপ, সচিত্র সন্ধানী সম্পাদনা করেন। বেশ কিছুকাল তিনি ভারতের কলকাতায় বসবাস করেন। সে সময়ে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা, অমৃত বাজার, যুগান্তর, সাপ্তাহিক দেশ ও কৃত্তিবাসে লেখালেখি করেন।

প্রকাশিত গ্রন্থ: কবিতা: নিষাদ প্রদেশে (১৯৬৪); বেলাল চৌধুরীর কবিতা (১৯৬৮); আত্মপ্রতিকৃতি, স্থিরজীবন ও নিসর্গ (১৯৭৫) ; স্বপ্নবন্দী (১৯৮৪); সেলাই করা ছায়া (১৯৮৫) ; কবিতার কমলবনে (১৯৯২); যাবজ্জীবন সশ্রম উল্লাসে (১৯৯৮); বত্রিশ নম্বর (১৯৯৮)। প্রবন্ধ-গভেষণা; কাগজে-কলমে (১৯৯৭); স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল (২০০১)। ভ্রমণ কাহিনী : সূর্যকরোজ্জ্বল বনভূমি (১৯৬৪)। শিশুসাহিত্য: সবুজ ভাষার ছড়া (ছড়া, ১৯৮১): বত্রিশ দাত (১৯৮১); সাড়ে বত্রিশ ভাজা। সম্পাদনা: বিশ্বনাগরিক গ্যেটে; জলের ভেতরে চাঁদ ও অন্যান্য গল্প; লঙ্গরখানা; পদাবলী কবিতা সংকলন। অনুবাদ: মৃত্যুর কড়ানাড়া (১৯১৭); ত্রান্তোরা (নাটক)। পুরষ্কার: বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৪); অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৭); নীহাররঞ্জন পুরস্কার (১৯৯২)।

২০১৭ সালের আগস্টে কিডনিজনিত সমস্যার কারণে বেলাল চৌধুরী হাসপাতালে ভর্তি হন। তারপর থেকেই শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হতে থাকে। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল এবং ২৪ এপ্রিল বেলা ১২টায় ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে মারা যান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »