কবিতায় আসাদ মান্নান

ঢাকা, সোমবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২২,   ৩ মাঘ ১৪২৮,   ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কবিতায় আসাদ মান্নান

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৮ ৪ নভেম্বর ২০২১  

আসাদ মান্নান, ছবি: (সংগৃহীত)

আসাদ মান্নান, ছবি: (সংগৃহীত)

আসাদ মান্নান, বাংলা সাহিত্যে কবিতায় একজন সুপরিচিত নাম। তিনি সত্তর দশকের অন্যতম প্রধান এই কবির ৩ নভেম্বর ছিলো জন্মদিন। ১৯৫৭ সালের এদিন চট্রগ্রামের সন্দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাসাহিত্যে অনার্স, এমএ করেছেন। 

রচনাবলী: ১৪টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তার। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: ‘সুন্দর দক্ষিণে থাকে’, ‘সূর্যাস্তের উল্টোদিকে’, ‘সৈয়দ বংশের ফুল’, ‘দ্বিতীয় জন্মের দিকে’, ‘ভালোবাসা আগুনের নদী’, ‘তোমার কীর্তন’, ‘যে-পারে পার নেই সে-পারে ফিরবে নদী’, ‘হে অন্ধ জলের রাজা’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘প্রেমের কবিতা’  

কবিতার পাশাপাশি বেশ কিছু গদ্যও রচনা করছেন। ‘সুন্দর দক্ষিণে থাকে’, ‘হে অন্ধ জলের যাত্রা’, ‘সৈয়দ বংশের ফুল’, ‘ভালোবাসা আগুনের নদী’, ‘ভালোবাসার কবিতা’ প্রভৃতি তার অন্যতম কাব্যগ্রন্থ। 

কর্মজীবন: ১৯৮১ সালে কর্মজীবনে তিনি প্রবেশ করেন স্কুল কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ টেলিভিশনে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার যোগদানের পরে অনুষ্ঠান, সংবাদ, নাটক ও অন্যান্য শাখায় ব্যাপক পরিবর্তন আনার নিরন্তর চেষ্টা করেছেন।

সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বসহ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, তথ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, সরকারের সচিব হিসেবে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন-এর একজন সদস্য হিসেব দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রাপ্তি ও পুরস্কার: তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠান উদযাপনের মাধ্যমে বিটিভি’র ৫০ বছরের পুরোনো কলাকুশলী ও দর্শক শুভান্যুধায়ীদের সম্মিলন করে একটি মিলনমেলা করে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সালে শ্রেষ্ঠ তরুণ কবি হিসেবে পরপর দুবার ‘বাংলাদেশ পরিষদ সাহিত্য পুরস্কার’, ২০০৭ সালে জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার, ২০১২ সালে কবিকুঞ্জ পদক ও সম্মাননাসহ বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।

“বিদেশেী কুত্তার পিঠে বিদেশী শকুন
বেশ্যার ছেলের হাতে ইতিহাস খুন
আগুন লেগেছে তাই যমুনার জলে
আগে আগে হনুমান রাম পিছে চলে
সীতাকে হরণ করে রাক্ষস রাবণ
টুঙ্গিপাড়ায় হবে বঙ্গভবন।”

১৯৭৭ সালের সেই সাড়া জাগানো কবিতার একটি স্তবক। যে কবিতার জন্য শুধূ পূরুষ্কার অর্জন নয়, তরুণ বয়সে বাংলা সাহিত্যে কবিকে প্রতিষ্টিত করতে বড় রকমের সহায়ক ছিল।

“আমি কোনো বৈদ্য নই অনবদ্য কবিতা লিখি না
শব্দের সামান্য দাস ইচ্ছে হলে লিখি টুক টাক
গাউস কুতুব যারা উহাদের ভাগ্যে লিখা থাক
খ্যাতির সালসা মধু মদালস রূপসী সখিনা।”

জবাব দেবে না কেউ

এ অস্থির পৃথিবীতে আজ
শিশুরা আনন্দে নেই
ফুলেরা আনন্দে নেই
পাখিও আনন্দে নেই
নদীও আনন্দে নেই
চারিদিকে নেই নেই...
সবখানে দেখি শুধু আনন্দহীনতা
তার সঙ্গে যুক্ত আছে
খুন
হত্যা
লম্পটের আস্ফালন
ধর্ষিতার নিঃশব্দ বিলাপ।
আজ হরিণীর মাংস খেয়ে মানুষ গিয়েছে বনে
বাঘ কিংবা বাঘিনী শিকারে; মনে জাগে অদ্ভুত বাসনা
বাঘিনীর স্তন কেটে যদি খুঁজে পাওয়া যায়
মানুষের রক্তচিহ্ন ; হায়!
এতটা নৃশংস কেন আজ মানব প্রজাতি!
মানুষ যদি না হয় প্রকৃত মানুষ
তবে কি সভ্যতা বাঁচে?
আনন্দের লেশ মাত্র থাকে?
এ সবের জবাব কে দেবে? -- জবাব দেবে না কেউ--
মৃতদের জবান থাকে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »