সাহিত্যে অন্নদাশঙ্কর রায়

ঢাকা, সোমবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২২,   ৩ মাঘ ১৪২৮,   ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সাহিত্যে অন্নদাশঙ্কর রায়

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৪৬ ২৮ অক্টোবর ২০২১  

অন্নদাশঙ্কর রায় ভারতের উড়িষ্যায় ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।

অন্নদাশঙ্কর রায় ভারতের উড়িষ্যায় ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিখ্যাত কবি, লেখক ও ছড়াকার অন্নদাশঙ্কর রায়। তিনি মারা যান ২০০২ সালের ২৮ অক্টোবর। আজ তার ১৯তম মৃতুবার্ষিকী।  

তিনি ভারতের উড়িষ্যায় ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। ওড়িয়া ভাষার সাহিত্যিক হিসেবে তার সাহিত্য জীবন শুরু হয়। ওড়িয়া, হিন্দি, ইংরেজি, সংস্কৃত ভাষা জানলেও বাংলা ভাষাকেই তিনি সাহিত্য সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন।

প্রায় ৭০ বছর ধরে অন্নদাশঙ্কর রায় নানা সাহিত্য সৃষ্টি করে গেছেন। ছোট গল্প, উপন্যাস, মহাকাব্য, গদ্য, পদ্য, ছড়া, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই তিনি অবদান রেখেছেন। তিনিই প্রথম যিনি বাংলায় মহাকাব্যিক উপন্যাস রচনার পথ দেখিয়েছিলেন। 

সাহিত্যকর্মের জন্য অন্নদাশঙ্কর রায় বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া, ১৯৭৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে জগত্তারিণী পদক দেয়। তাকে দেশিকোত্তম সম্মান দেয় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডিলিট) উপাধি প্রদান করে।

মার্কিন কন্যা অ্যালিস ভার্জিনিয়া অনফোর্ডকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তিনি তার নাম দেন লীলা রায়। তার স্ত্রী বহু বই বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। অন্নদাশঙ্করের অনেক লেখা লীলাময় ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়েছিল।

ওড়িয়া থেকে শুরু করে ইংরেজি, হিন্দি ও সংস্কৃত ভাষা জানলেও তিনি বাংলা ভাষাকেই সাহিত্য সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। অন্নদাশঙ্করের সাহিত্য সৃষ্টি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। দীর্ঘজীবনের অভিজ্ঞতায় প্রায় সত্তর বছর ধরে তিনি প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, ছড়া, কবিতা, নাটক, পত্রসাহিত্য, আত্মজীবনীমূলক রচনা প্রভৃতি লিখে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার রচিত উপন্যাসের সংখ্যা ২২টি। 

তার বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে পথে প্রবাসে, অজ্ঞাতবাস, কলঙ্কবতী, অসমাপিকা উল্লেখযোগ্য। উপন্যাসমালার ফাঁকে ফাঁকে তিনি বেশ কিছু ছোটগল্পও লিখেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- প্রকৃতির পরিহাস, দুকান কাটা ১৯৪৪, হাসনসখী, মনপবন, যৌবনজ্বালা, কামিনীকাঞ্চন, রূপের দায়,কথা, কাহিনী ইত্যাদি। 

ছড়াকার হিসেবে অন্নদাশঙ্কর রায়ের জনপ্রিয়তা এবং সাহিত্যপ্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। আধুনিক বাংলা ছড়ায় যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, তার সূত্রপাত করেন অন্নদাশঙ্কর। তাঁর বিখ্যাত ছড়ার বইগুলোর মধ্যে রয়েছে- উড়কি ধানের মুড়কি, রাঙা ধানের খৈ, ডালিম গাছে মৌ, শালি ধানের চিঁড়ে, আতা গাছে তোতা, হৈ রে বাবুই হৈ, রাঙা মাথায় চিরুনি, বিন্নি ধানের খই, সাত ভাই চম্পা, দোল দোল দুলুনি ইত্যাদি। বাংলায় এপিক উপন্যাসের পথিকৃৎ ছিলেন তিনি।

তার অন্যতম জনপ্রিয় ছড়া ‘খুকু ও খোকা’। ছড়াটি দেয়া হলো।

তেলের শিশি ভাঙল বলে
খুকুর পরে রাগ করো
তোমরা যে সব বুড়ো খোকা
ভারত ভেঙে ভাগ করো!
তার বেলা?

ভাঙছ প্রদেশ ভাঙছ জেলা
জমিজমা ঘরবাড়ি
পাটের আড়ত ধানের গোলা
কারখানা আর রেলগাড়ি!
তার বেলা?

চায়ের বাগান কয়লাখনি
কলেজ থানা আপিস-ঘর
চেয়ার টেবিল দেয়ালঘড়ি
পিয়ন পুলিশ প্রোফেসর!
তার বেলা?

যুদ্ধ জাহাজ জঙ্গী মোটর
কামান বিমান অশ্ব উট
ভাগাভগির ভাঙাভাঙির
চলছে যেন হরির-লুট!
তার বেলা?

তেলের শিশি ভাঙল বলে
খুকুর পরে রাগ করো
তোমরা যে সব বুড়ো খোকা
বাঙলা ভেঙে ভাগ করো!
তার বেলা?

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »