আটচল্লিশেও পাঠক ধরে রেখেছে ‘খেলারাম খেলে যা’ 

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৭ ১৪২৮,   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আটচল্লিশেও পাঠক ধরে রেখেছে ‘খেলারাম খেলে যা’ 

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১  

(ফাইল ছবি)

(ফাইল ছবি)

আজ ২৭ সেপ্টেম্বর। ২০১৬ সালের এদিন মারা যান বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি সৈয়দ শামসুল হক। তিনি একাধারে নাটক, ছোটো গল্প ও উপন্যাসেও বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। 

তার একটি আলোচিত ও জনপ্রিয় উপন্যাস হচ্ছে ‘খেলারাম খেলে যা’। যা প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। ২০২১ সালে এসেও বইটি জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।

সৈয়দ হক 'খেলারাম খেলে যা'তে বাবরের মাধ্যমে যে যৌন পরিস্থিতির নির্মাণ করেন, তাতে শেষ পর্যন্ত মূলত এক ধরনের অপ্রেম আর বিবমিষারই প্রমাণ মেলে।

এই উপন্যাসের মূল চরিত্র বাবরকে ঘিরেই। বাবর একজন জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক। তার পুরো নাম বাবর আলী খান। তিনি অবিবাহিত। সবসময় অল্পবয়সী নারীদের দিকেই নজর পড়েছে তার। দেখা হয়েছে লতিফা, মিসেস নাফিস, বাবলি, জাহেদার সঙ্গে। শারীরিক সম্পর্কের বুনোজাল এঁকেছেন এসব নারীর সঙ্গে। কিন্তু কিসের জন্য নারীদের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্কের বুনন হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে শুধুই কি কামনা? নাকি আড়ালে রয়েছে দৃশ্যপটের খণ্ড খণ্ড ভূমিকাংশ। 

পরিণত আর অপরিণত পাঠকের কাছে দুভাবে ধরা দেয় ‘খেলারাম খেলে যা’। অপরিণত পাঠকের কাছে ‘খেলারাম খেলে যা’ বাবরের যৌন-অভিযান। 

‘খেলারাম খেলে যা’ কেবল যৌনতা নিয়ে লেখা উপন্যাস নয়। যৌনতাকে সৈয়দ হক উপন্যাসের ‘টুলস’ হিসেবে স্রেফ ব্যবহার করেছেন। কারণ যৌনতা সেখানে একটা অনুষঙ্গ মাত্র, এর মূলে আছে সেই মানব পরিস্থিতি, যেখানে সে ইতিহাস-রাজনীতির কূটকৌশলের হাতে মানুষ প্রচণ্ড পীড়নের শিকার। 

যখন মানুষ নিজেকে খুঁজে পায় তখন এটা ঘটতে পারে, আর ঘটতে পারে তার নিঃসঙ্গতা থেকে। আমাদের অনেকেরই জানা, যেকোনো মানমানুষের একাকিত্বের অসহায়ত্বই নাকি তার ঈশ্বর, সাহিত্যও তাই। সাহিত্য মানুষের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ বৃত্তির নাম। গ্রাফিত্তি যারা লেখেন তাঁরা সাহিত্যিক নন। 

কিন্তু এর সঙ্গে নাগরিক তথাকথিত নিচুতলার অভদ্র জীবনের নানা মাত্রা উঠে আসে। পাওয়া যায় সমকালের পাঠ, যা অনেক সময় ঢাউস বই পড়েও গড়ে ওঠে না। গ্রাফিত্তিরই বড় আকারে প্রকাশ হয়ে দেখা দেয় তেমনি প্রতিবাদী উপন্যাসে। 

জে পি ডনলেভির ‘দ্য জিনজার ম্যান’ বা হুবার্ট সেলবি জেআরের ‘লাস্ট এক্সিট টু ব্রুকলিন’র কথাও আমরা স্মরণ করতে পারি। 

রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত, দাম্পত্য, যৌন-বিকার সম্পর্কিত বিষয়গুলো মিলেমিশে ওই উপন্যাসগুলোকে সমকালে জনপ্রিয় করে তোলে। বিতর্কিত কম করে না। কিন্তু এগুলো চিরকালের হয়ে ওঠে এর অন্তর্গত বিষাদ, ক্ষয় ও ক্ষরণের দলিল হিসেবে। ‘খেলারাম খেলে যা’র ক্ষেত্রেও ঠিক একই বিষয় ঘটেছে। এ উপন্যাস নিয়েও বিতর্ক কম নেই। তবু এখনো নিষিদ্ধ পাঠের মতো দুর্মর আকর্ষণে পূর্ণ এর প্রতিটি পৃষ্ঠা। 

যৌনতা একে জনপ্রিয় করেছে, কিন্তু এর বিষাদ-ক্রোধ-অস্তিত্বের অসহায়ত্বের বয়ান এঁকে দিয়েছে সময়কে উতরে গিয়ে টিকে থাকার সামর্থ্য। অনেকেই একমত হবেন, এখনো যৌনতাকে শিল্পের পর্যায়ে নিতে যে দক্ষতা ও সাহস নিয়ে অনেক লেখকের সংশয় দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে সৈয়দ হক তা কেচে দিয়ে গেছেন। 

কী আধুনিকতায়, কী আবেদনে তার এ লেখা তাকে তথাকথিত জনপ্রিয়তার গণ্ডি ছাড়িয়ে সত্যিকারের জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম