রাজশাহীর বাসায় ফিরলেন হাসান আজিজুল হক

ঢাকা, রোববার   ২৮ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৮,   ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

রাজশাহীর বাসায় ফিরলেন হাসান আজিজুল হক

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৬ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ১৯ দিনের চিকিৎসা শেষে রাজশাহীর বাসায় ফিরেছেন প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধা সংবলিত অ্যাম্বুলেন্সে তিনি রাজধানী ত্যাগ করেন। সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

হাসান আজিজুল হকের ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইমতিয়াজ হাসান বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে আমরা বাবাকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছি। পুরোপুরি সুস্থ না হলেও এই মুহূর্তে গুরুতর কোনো সমস্যা নেই। দীর্ঘ সময় তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর পর পরীক্ষা করতে হবে। বাসায় রেখেই আমরা সেসব পরীক্ষার ব্যবস্থা করবো।

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

এর আগে গুরুতর অসুস্থ হলে গত ২১ আগস্ট রাজশাহী থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে হৃদযন্ত্রের সমস্যা তেমন গুরুতর না হওয়ায় ও শারীরিক অন্য জটিলতা থাকায় তাকে বিএসএমএমইউতে স্থানান্তর করা হয়। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. আরাফাতের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল টিম তার চিকিৎসা করেন।

৪৭ এ দেশ ভাগ ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সোচ্চার প্রখ্যাত এই ঔপন্যাসিকের বাংলা অ্যাকাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ দেশে বিদেশে নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

এর আগে করোনার কারণে বাসায় রেখে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।

হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রাজশাহীতে কাটিয়েছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত একনাগাড়ে ৩১ বছর অধ্যাপনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে নগরের চৌদ্দপায়ে আবাসিক এলাকা ‘বিহাস’অনেক বছর ধরে তার ঠিকানা।

১৯৬০ এর দশকে তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন তার মর্মস্পর্শী বর্ণনাভঙ্গির জন্য। জীবনসংগ্রামে লিপ্ত মানুষের কথকতা তার গল্প-উপন্যাসের প্রধানতম অনুষঙ্গ।

১৯৭০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ও ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে তাকে একটি বেসরকারি ব্যাংকের পক্ষ থেকে 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি দেয়া হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম