দ্য প্লেগ (পর্ব ২৪) 

ঢাকা, শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ২০ ১৪২৮,   ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

দ্য প্লেগ (পর্ব ২৪) 

মূলঃ আলবেয়ার কামু

অনুবাদঃ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৫ ১৯ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৫:৩৭ ১৮ অক্টোবর ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পরেরদিন ত্যারু তার কাজ শুরু করল। কর্মীদের প্রথম দলের নিয়োগ প্রদানের মধ্যদিয়ে। খুব দ্রুতই আরও অনেকে তার দলে যোগ দেবে।

তবে এই স্বাস্থ্যকর্মীদের দলকে যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশী গুরুত্ব দেওয়ার ইচ্ছে আমাদের বর্ণনাকারীর নেই। যদিও সন্দেহ নেই যে, আজকাল বেশীরভাগ মানুষজনই নিজেদের কর্তৃক প্রদত্ত সেবাকে অতিরঞ্জিতভাবে প্রকাশ করতে ইচ্ছুক। তবে বর্ণনাকারীর মতে এই অতিগুরুত্ব প্রদান শেষপর্যন্ত সুফল বয়ে আনে না। কারণ, বাস্তবক্ষেত্রে  সেবাপ্রদানকারীর সংখ্যা খুবই কম থাকে এবং তারা প্রতিবেশের ভেতরে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব রাখতে সমর্থ হয় না। কিন্তু এর বিপরীতে অন্যদের প্রতি সহানুভূতিহীন ও উদাসীন মানুষের সংখ্যাই সমাজে বেশী। বর্ণনাকারীর মতে পৃথিবীতে অশুভ সবকিছুই ঘটে থাকে মানুষের অজ্ঞতা থেকে। এমনকি ভালো উদ্দেশ্যও অনেক সময়ে ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। হিংসা বা বিদ্বেষের মতো। সার্বিকভাবে  অধিকাংশ মানুষই খারাপের চেয়ে ভালো হলেও তাদের বড় সীমাবদ্ধতা হলো অজ্ঞতা। এই কারণে তারা নিজেদেরকে সবজান্তা মনে করে থাকে।  সেকারণেই তারা হত্যা করাকেও অধিকার বলে মনে করে থাকে। অথচ সত্য হলো যে, হত্যাকারীর আত্না হলো অন্ধ। সেখানে কোনো সত্য ভালোত্ব বা সত্য ভালোবাসা থাকতে পারে না।           

সুতরাং ত্যারুর স্বাস্থ্যকর্মীদের দলকে নৈর্ব্যক্তিকতা দিয়ে বিবেচনা ও অনুমোদন করার প্রয়োজন আছে। একারণেই বর্ণনাকারী সাহসিকতা, নিষ্ঠা এই গুনগুলোকে আপেক্ষিকতার সাথে মূল্যায়ন করে থাকে। তবে এটাও ঠিক যে, শহরের মানুষদের সমস্যাকীর্ণ ও বিদ্রোহী সত্ত্বাগুলোকে তাকে বর্ণনা করতে হবে প্লেগের প্রভাবকে বিবেচনায় রেখেই। স্বাস্থকর্মীদের দলে যাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তাদের কারুরই কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা ছিল না। এদের মাধ্যমে শহরের লোকদের একত্রিত করে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল যে, প্লেগ সত্যি সত্যিই আমাদের শহরে এসে গেছে। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব সেটিকে প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা নেওয়া। এটা যে একটা সামষ্ঠিক দুর্যোগ, এই বিষয়টিও তাদেরকে বোঝানো হয়েছিল।       

আমরা কখনই কোনো স্কুল শিক্ষককে ‘দুই যোগ দুই চার হয়’ এই শিক্ষা দেওয়ার জন্যে প্রশংসা করি না। আমরা তাকে শুভেচ্ছা জানাই শিক্ষকের প্রশংসাযোগ্য পেশাকে বেছে নেয়ার জন্যে। সুতরাং  ত্যারু ও তার সহকর্মীদেরকে প্রশংসা করতে পারি এই জন্য যে, তারা ‘দুই যোগ দুই চার হয়’ এই সত্যটিকে প্রমাণ করার দায়িত্ব নিয়েছে। তবে তাদেরকে এটাও জানানো দরকার যে, তাদের ইচ্ছা বা অনুভব  স্কুল শিক্ষকদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবার কারণেই তারা শ্রদ্ধার্ঘ।তারা  স্কুল শিক্ষকের মতো অনুভব করতে সক্ষম হবার কারণেই  তারা মানবজাতির মঙ্গলের জন্যে কাজ করতে সক্ষম।বর্ণনাকারীর বিশ্বাস এটাই। 

তার বিশ্বাসের বিপরীতে বলা যেতে পারে যে, লোকগুলো তাদের জীবনকে বিপদাপন্ন করছে। কিন্তু ইতিহাসে বারবার এমন সময় এসেছে যখন কোনো মানুষ বলেছে “দুই যোগ দুই চার হয়”, তাদেরকেই মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে।  এই সত্য স্কুল শিক্ষকরা খুব ভালো করেই জানেন। প্রশ্নটি জানার জন্যেও নয় যে, এই গণনা করার জন্যে তাকে কী শাস্তি প্রদান করা হতে পারে। প্রশ্নটি হলো জানা যে, আসলেই দুই যোগ দুই চার হয় কিনা। আমাদের শহরের বিপদের মুখে পতিত মানুষদের বিবেচনার বিষয়টি হলো প্লেগ তাদের মধ্যে এসেছে কিনা এবং সেটিকে তারা  প্রতিরোধ করবে কিনা।
বেশকিছু সংখ্যক নতুন নীতিবাদী মানুষ শহরের বুকে প্রচার করে বেড়াচ্ছিল যে, বিরাজমান অবস্থায় কিছুই করার নেই। সবার উচিৎ নিয়তিকে মেনে নেয়া। অপরপক্ষে ত্যারু, রিও ও তাদের সঙ্গীদের শেষ বক্তব্য ছিল প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোনোক্রমেই মাথানত করা যাবে না। তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বেশীসংখ্যক মানুষকে মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা করা এবং তাদের সীমাহীন বিচ্ছিন্নতার সমাপ্তি টানা। এবং এটা করতে হলে তাদের করণীয় ছিল  একটাইঃ প্লেগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এই চিন্তাটির ভেতরে প্রশংসনীয় কিছুই ছিল না। যুক্তি ছাড়া। 

কাজেই বৃদ্ধ ডাক্তার ক্যাসেল কাছে থাকা যন্ত্রপাতি ও প্রবল আত্নবিশ্বাস নিয়ে প্লেগ প্রতিরোধী সিরাম তৈরির কাজে লেগে গেলেন। রিও নিজেও বিশ্বাস করতে শুরু করল যে, স্থানীয়ভাবে রোগজীবাণু পরীক্ষানিরীক্ষা করে উৎপাদিত ভ্যাকসিন বাইরে থেকে আনা সিরামের চেয়ে বেশী কার্যকরী হবে। কারণ, স্থানীয় রোগজীবাণুটি স্বাভাবিক প্লেগের জীবানু থেকে (যা ট্রপিক্যাল রোগের বইতে বর্ণনা করা আছে) কিছুটা ভিন্নতর। এবং ক্যাসেল খুব কম সময়ের মধ্যেই এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারবেন। এবং একারণেই গ্র্যান্ড (যার মধ্যে বীরসূচক কিছুই ছিল না) স্যানিটারি স্কোয়াডগুলোর জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিল।

ত্যারুর গ্রুপগুলোর কয়েকটা শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কাজ করছিল। স্বাস্থ্যসেবার পরিস্থিতিকে উন্নত করার জন্যে। এগুলোর দায়িত্ব ছিল বাসস্থানগুলোতে যথাযথ স্বাস্থ্যকর অবস্থা বজায় রাখা এবং যেসকল চিলেকোঠা বা মাটির নীচের কক্ষগুলো নগর কর্তৃপক্ষের স্যানিটারি দল কর্তৃক জীবাণুমুক্ত করা হয়নি, সেগুলোর তালিকা তৈরি করা। বাকী দলগুলোর সদস্যরা ডাক্তারদের সাথে রোগীদের বাড়িতে যেত। আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসত। এমনকি গাড়ি চালিয়ে রোগীদের ও মৃতদেহগুলোকে বহন করত। গ্র্যান্ড এই কাজগুলোর হিসাব রাখা ও লিপিবদ্ধ করে রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনাকারীর মতে রিও অথবা ত্যারুর চেয়ে গ্র্যান্ড স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে বেশী সাহস ও অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছিল। সে কোনোধরণের ইতস্তত না করে উদারভাবে হাঁ সূচক সিদ্ধান্ত দিয়ে দিত। সে যা চাইত, তা হলো হালকা ধরণের দায়িত্ব পালন করতে। কারণ, কঠিন কাজ করার মতো বয়স তার ছিল না। সে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ছয়টা থেকে আটটা পর্যন্ত সময় দিতে পারত। রিও কখনও তাকে উষ্ণতার সাথে ধন্যবাদ দিলে সে অবাক হতো। বলত, “এটা তেমন কঠিন কী কাজ! এখানে প্লেগ এসেছে এবং আমাদের সবাইকে একত্রিত হয়ে একে প্রতিরোধ করতে হবে। সবকিছুই যদি এমন সহজভাবে হয়ে যেত!” এবং সে তার বাক্যালংকারের ভেতরে ফিরে যেত। কখনও কখনও প্রতিবেদন ও হিসাব শেষ করার পর সে রিও’র সংগে গল্প করতে বসত। কয়েকদিনের মধ্যেই ত্যারুও এসে তাদের আলাপচারিতায় যোগ দিতে লাগল। গ্র্যান্ড মহাআনন্দের সাথে তার এই দুই সঙ্গীর কাছে নিজের ভাবনা চিন্তাগুলোকে অনাবৃত করত। তারাও প্লেগের সমান্তরালে গ্র্যান্ডের পরিশ্রমসাধ্য সাহিত্যিক কাজের বিষয়ে আগ্রহ দেখাত। আসলে এই আলাচারিতার মধ্যে তারাও নিজেদের মনের অবরুদ্ধ ভাবকে হালকা করতে পারত।               
“তোমার সেই ঘোড়ার পিঠের যুবতী মেয়ের খবর কি?” ত্যারু জিজ্ঞেস করত। প্রায় সময়েই একটা নির্বিকার হাসি দিয়ে গ্র্যান্ড উত্তর করত,”কদমতালে এগিয়ে যাচ্ছে! কদমতালে এগিয়ে যাচ্ছে!” একদিন বিকেলে গ্র্যান্ড ঘোষণা করল যে, ইদানীং এই নারীর  নামের বিপরীতে ‘মার্জিত’ বিশেষণটি বাদ দিয়ে সে ‘ছিপছিপে গড়নের’ বিশেষণটি ব্যবহার করতে ইচ্ছুক। 
“এটাই তার জন্যে ঠিক,” সে ব্যাখ্যা করল।
এবং কিছুক্ষণ পরই সে তার এই দুই বন্ধুর কাছে বাক্যটির নতুন সংস্করণ উপস্থাপন করলঃ 
“মে মাসের এক সুন্দর সকালে ছিপছিপে গড়নের যুবতীটিকে কে দেখা গেল একটি সুদর্শন পিঙ্গলবর্ণের ঘোড়ায় উপবিষ্ট হয়ে পুষ্পশোভিত Bois de Boulogne সড়ক দিয়ে যাচ্ছে।”
“তোমাদের কি মনে হয় না যে, তাকে এভাবে বর্ণনা করলেই ভালো হয়? আমি ‘মে মাসের এক সুন্দর সকালে’ লিখেছি এই কারণে যে, মে মাসেই ঘোড়া কদম তুলতে শিখে। নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছ আমি কী বলতে চেয়েছি।”   

এরপর সে তাদেরকে বলল কীভাবে সে ‘সুদর্শন’ শব্দটি লিখতে গিয়ে অস্থিরতায় ভুগেছে। তার মতে এই শব্দটি দিয়ে সে ভালোভাবে যা প্রকাশ করতে চেয়েছিল তা পারেনি। সে চাচ্ছিল এমন একটি বিশেষণ, যেটি তাৎক্ষণিকভাবে তার মনের চোখদিয়ে দেখা সেই অপূর্ব ঘোড়ার একটি প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলবে। ‘হৃষ্টপুষ্ট’ শব্দটি যথাযথ হবে না।  এটা শুনতে কিছুটা মর্যাদাহানিকরও মনে হয় এবং শব্দটিতে কিছুটা অশ্লীলতার ছায়াও আছে।         
“সযত্নে লালিত” এই শব্দটি তাকে মুহূর্তের জন্যে প্রলুব্ধ করেছিল। তবে তার মতে এটি কিছুটা কর্কশ প্রকৃতির। বাক্যের ছন্দ হারিয়ে যায় এর ব্যবহারে। তারপর একদিন সে বিজয় উল্লাসের সাথে ঘোষণা করল যে সে পেয়ে গেছেঃ 
“একটি কালো পিঙ্গল ঘোড়া।“ সে ব্যাখ্যা করল, “কালো রঙ মার্জিত ও ঐশ্বর্যশালীর আভাষ দিয়ে থাকে।“
“এটা যথাযথ হবে না,” রিও বলল।
“কেনো নয়?” 
“কারণ, পিঙল বলতে রঙ বোঝায়; ঘোড়ার প্রকার নয়।“
“কী রঙ?” 
“আমি জানি না। তবে সেটি কালো নয়।“ গ্র্যান্ডকে খুবই সমস্যা জর্জরিত বলে মনে হলো। 
“তোমাকে ধন্যবাদ,” সে উষ্ণভাবে বলল। “কী সৌভাগ্য যে তোমরা আমাকে সাহায্য করছ। তবে বুঝতে পারছ নিশ্চয়ই যে, আমার কাজটা কতটা কঠিন।”
“চকচকে কেমন হয়,” ত্যারু প্রস্তাব করল। 
গ্র্যান্ড খুব নিবিড়ভাবে তার দিকে তাকাল। চীৎকার করে বলল, “ খুবই চমৎকার।” একটা হাসি ধীরেধীরে তার সারা  মুখে ছড়িয়ে পড়ল।

কয়েকদিন পর সে স্বীকার করল যে ‘পুষ্প শোভিত’ শব্দটি তাকে চিন্তার ভেতরে ফেলে দিয়েছে। যেহেতু সে ওরান ও মন্টেলিমার এই দুই শহর ছাড়া আর কোনো শহর দেখেনি, সেহেতু সে তার বন্ধুদেরকে জিজ্ঞেস করেছিল যে, Bois de Boulogne সড়কে কী কী ধরণের ফুল ফুটে থাকে। তারা কিছুই বলতে পারেনি। আসলে রিও অথবা ত্যারু কেউই ভাবেনি যে একটা সড়ক ‘পুষ্প শোভিত’ হতে পারে। কিন্তু তারা এবিষয়ে  গ্র্যান্ডের দৃঢ় বিশ্বাস দেখে বিষয়টি তারা মেনে নিয়েছিল। এই পর্যায়ে তাদের অনিশ্চয়তা দেখে গ্র্যান্ড অবাক হলো। “শুধুমাত্র শিল্পীরাই জানে তাদের দৃষ্টিকে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়,” এই ছিল তার উপসংহার। কিন্তু একদিন বিকেলে ডাক্তার তাকে খুবই উত্তেজিত অবস্থায় দেখতে পেল। কারণ “পুষ্প শোভিত” শব্দটিকে সে “পুষ্প বিছানো” শব্দ দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছিল। সে তার হাত ঘষছিল।
“শেষ পর্যন্ত আমি সেগুলোকে দেখতে ও সেগুলোর সুগন্ধ পাচ্ছি! আমার সালাম জেনো তোমরা!” বিজয়ানন্দে সে বাক্যটি পড়ে শোনালঃ 
“মে মাসের এক উজ্জ্বল সকালে ছিপছিপে গড়নের মেয়েটিকে সম্ভবত দেখা গিয়েছিল একটি চকচকে পিঙ্গলবর্ণের ঘোড়ায় উপবিষ্ট হয়ে পুষ্প বিছানো  Bois de Boulogne সড়ক দিয়ে যেতে।“ 
কিন্তু চিৎকার করে বলতে গিয়ে প্রকাশের সময়ে অনেকগুলো অক্ষর বিকৃতভাবে উচ্চারিত হলো এবং সে তোতলাতে লাগল। এই পর্যায়ে সে হতাশ হয়ে বসে পড়ল। ডাক্তারকে বলল যে সে চলে যেতে পারে কিনা। সেসময়ে গভীর কিছু নিয়ে সে চিন্তা করছিল।

এইদিনের পর থেকে অফিসে গ্র্যান্ডের ভেতরে অমনোযোগিতা দেখা যেতে লাগল। কিন্তু তার এই অমনোযোগিতাকে নগর কর্তৃপক্ষ সহজভাবে নিল না। কারণ, তারা কাজের চাপ বেশী হওয়া সত্ত্বেও কমসংখ্যক কর্মচারী নিয়ে কাজ করছিল। তাদেরকে নতুন নতুন কাজও দেওয়া হচ্ছিল। তার অফিসের প্রধান কর্মকর্তা খুব কঠিনভাবে জানিয়ে দিলেন যে, তাকে বেতন দেওয়া হয়ে থাকে নির্দিষ্ট কাজের জন্যে। কিন্তু কাজগুলো করতে সে ক্রমাগতভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

“আমাকে বলা হয়েছে যে, তুমি স্বাস্থকর্মীদের দলে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছ। তুমি অফিস সময়ের বাইরে এটা করতে পার। সেটা আমার জন্যে বিবেচনার কোনো বিষয় হবে না। কিন্তু এই কঠিন সময়ে তোমার উচিত হবে নিজের উপরে অর্পিত দায়িত্বগুলোকে সঠিকভাবে পালন করা। নতুবা তোমার সকল কাজই হবে মূল্যহীন।“     
“তিনি সঠিক,” গ্র্যান্ড রিওকে বলল। 
“হ্যা, তিনি সঠিক,” ডাক্তার স্বীকার করল।       
“কিন্তু আমি আমার চিন্তাকে স্থির করতে পারছি না। বিশেষকরে বাক্যটির শেষাংশ আমাকে উদ্বিগ্ন করছে। আমার মনে হয় না আমি সেটিকে সমাধা করতে পারব।“ 
শব্দগুলো তার কানে বাজছিল। কিন্তু সে কোনোভাবেই সেগুলোকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিশব্দ দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে পারছিল না এবং সেই ‘পুষ্প বিছানো’, যা তাকে প্রথম লেখার সময়ে খুবই আনন্দিত করেছিল, সেটিকেও তার কাছে অসন্তোষজনক বলে মনে হতে লাগল। কীভাবে সে লিখতে পারে যে ফুলগুলো বিছানো অবস্থায় ছিল, যখন সে সেগুলোকে সড়কের পাশে লাগানো অবস্থায় দেখেছে। অথবা সেগুলো প্রাকৃতিকভাবেই সেখানে জন্মেছে ও বড় হয়েছে। কিছু কিছু বিকেলে তাকে দেখতে খুবই ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত বলে মনে হচ্ছিল। রিও’র চেয়েও।

হ্যা, এই অপ্রতিরুদ্ধ অন্তহীন অনুসন্ধান কখনই তার মন থেকে সরে যাচ্ছিল না। এটাই তাকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল। যাই হোক, স্বাস্থ্যকর্মীদের দলের কাজের হিসাব লিপিবদ্ধ করার কাজটি সে নিয়মিতই চালিয়ে যাচ্ছিল। খুব ধৈর্যসহকারে প্রতিদিন বিকেলে সে হিসাবগুলোকে আপ-টু-ডেট করত। সেগুলোকে গ্রাফ দিয়ে ব্যাখ্যা করত। মাথা খাটিয়ে তথ্যগুলোকে সঠিকভাবে ভুলছাড়া উপস্থাপন করার চেষ্টা করত। এরপর প্রায়ই সে রিওকে হাসপাতালে দেখতে যেত। সেখানে তার অফিস বা ডিসপেনসারিতে বসার জন্যে একটা টেবিল চাইত। সেখানে সে কাগজপত্র নিয়ে বসত। ঠিক মিউনিসিপ্যাল অফিসের মতো। এরপর প্রতিটা সম্পন্নকৃত ওয়ার্কশীট হাত দিয়ে নাড়াত। গরম বাতাসে শুকানোর জন্যে। এই সময়গুলোতে সে প্রবলভাবে চেষ্টা করত তার “অশ্বারোহীনি নারী” সম্পর্কে চিন্তা না করতে এবং নিজের করণীয় কাজে মনোযোগ দিতে।

দ্য প্লেগ (প্রথম পর্ব)

দ্য প্লেগ (দ্বিতীয় পর্ব)

দ্য প্লেগ (তৃতীয় পর্ব)

দ্য প্লেগ (চতুর্থ পর্ব)

দ্য প্লেগ (পঞ্চম পর্ব)

দ্য প্লেগ (ষষ্ঠ পর্ব)

দ্য প্লেগ (সপ্তম পর্ব)

দ্য প্লেগ (অষ্টম পর্ব)

দ্য প্লেগ (নবম পর্ব)

দ্য প্লেগ (দশম পর্ব)

দ্য প্লেগ (একাদশ পর্ব)

দ্য প্লেগ (দ্বাদশ পর্ব)

দ্য প্লেগ ( ত্রয়োদশ পর্ব)

দ্য প্লেগ ( চতুর্দশ পর্ব)

দ্য প্লেগ (পঞ্চদশ পর্ব)

দ্য প্লেগ (ষোড়শ পর্ব)

দ্য প্লেগ (সপ্তদশ পর্ব)

দ্য প্লেগ (অষ্টদশ পর্ব)

দ্য প্লেগ  (ঊনবিংশ পর্ব)

দ্য প্লেগ  (বিংশ পর্ব)

দ্য প্লেগ  (একবিংশ পর্ব)

দ্য প্লেগ  (দ্বাবিংশ পর্ব)

দ্য প্লেগ  (ত্রয়োবিংশ পর্ব)

 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ