কবি শামসুর রহমানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ঢাকা, সোমবার   ২৯ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৮,   ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

কবি শামসুর রহমানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩৩ ১৭ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৪:১০ ১৭ আগস্ট ২০২১

১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্ম নেয়া এই কবিকে তার ইচ্ছানুযায়ী ঢাকার বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্ম নেয়া এই কবিকে তার ইচ্ছানুযায়ী ঢাকার বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান। আজ ১৭ আগস্ট তার ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৬ সালের এদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মারা যান তিনি।

কবির জন্ম নানার বাড়িতে। তার বাবা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী ও মা আমেনা বেগম। তাদের বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরায় পাড়াতলী গ্রামে। ১৩ ভাইবোনের মাঝে কবি ৪র্থ। পুরোনো ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছেন ১৯৪৫ সালে। ১৯৪৭ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আইএ পাস করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এই কবি।

আঠারো বছর বয়সে প্রথম কবিতা লেখেন শামসুর রাহমান। নলিনীকিশোর গুহ সম্পাদিত সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় তার প্রথম কবিতা ছাপা হয় ১৯৪৯ সালে। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে বিদ্রুপ করে ১৯৫৮ সালে সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল (পত্রিকা) পত্রিকায় লেখেন ‘হাতির শুঁড়’ কবিতা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন কারাগারে ছিলেন তখন তাকে নিয়ে লেখেন কবিতা ‘টেলেমেকাস’ (১৯৬৬ বা ১৯৬৭ সালে)। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি গুলিস্তানে একটি মিছিলের সামনে একটি লাঠিতে শহীদ আসাদের রক্তাক্ত শার্ট দিয়ে বানানো পতাকা দেখে লিখেন ‘আসাদের শার্ট’ কবিতা। ১৯৭০ সালের ২৮ নভেম্বর ঘূর্ণিদুর্গত দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের দু:খ-দুর্দশায় লেখেন ‘আসুন আমরা আজ ও একজন জেলে’ কবিতা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবার নিয়ে চলে যান নরসিংদীর পাড়াতলী গ্রামে। এপ্রিলের প্রথম দিকে লেখেন যুদ্ধের ধ্বংসলীলায় আক্রান্ত ও বেদনামথিত কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’।

১৯৮৭ থেকে পরবর্তী চার বছরের প্রথম বছরে ‘শৃঙ্খল মুক্তির কবিতা’, দ্বিতীয় বছরে ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কবিতা’, তৃতীয় বছরে ‘সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কবিতা’ এবং চতুর্থ বছরে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কবিতা’ লেখেন। ১৯৯১ সালে এরশাদের পতনের পর লেখেন ‘গণতন্ত্রের পক্ষে কবিতা’। 

১৯৬০ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশিত হয়। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের ক্ষমতা গ্রহণের বিরুদ্ধে বিদ্রুপ করে লেখেন, ‘হাতির শুঁড়’ কবিতা।

শামসুর রাহমানের ষাটের বেশি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়ও শিশুতোষ, অনুবাদ, ছোটগল্প, উপন্যাস, আত্মস্মৃতি, প্রবন্ধ-নিবন্ধের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

সাংবাদিক হিসেবে কবি শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে দৈনিক মর্নিং নিউজ-এ কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক হন। ১৯৮৭ সালে সামরিক সরকারের শাসনামলে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তিনি অধুনা নামের একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শামসুর রাহমান আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন।

স্বাধীনতার পর পঁচাত্তর-পরবর্তী পট পরিবর্তনে আশাহত কবি সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও স্বৈরশাসনের প্রতিবাদে তার কলম চালিয়েছেন নিরন্তর। গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনিমার্ণের আকাঙ্ক্ষায় তিনি ছিলেন সবগুলো আন্দোলন সংগ্রামের শুভ্র পুরুষ।

১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর জন্ম নেয়া কবি শামসুর রহমানের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম