জাদু গল্পের সিরিজ ‘হ্যারি পটার’ লেখকের জন্মদিন আজ 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৯ সফর ১৪৪৩

জাদু গল্পের সিরিজ ‘হ্যারি পটার’ লেখকের জন্মদিন আজ 

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৪ ৩১ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৫:০৬ ৩১ জুলাই ২০২১

জে কে রাওলিং ১৯৬৫ সালের ৩১ জুলাই ইংল্যান্ডের দক্ষিণে গ্লুসেস্টারশায়ারের ছোট্ট একটি শহরে জন্মগ্রহণ করেন

জে কে রাওলিং ১৯৬৫ সালের ৩১ জুলাই ইংল্যান্ডের দক্ষিণে গ্লুসেস্টারশায়ারের ছোট্ট একটি শহরে জন্মগ্রহণ করেন

‘হ্যারি পটার’ সিরিজ। নাম শুনলে বেশ চমকাতেই হয়। কারণ ইংরেজি ভাষায় জাদু বিষয়ক গল্পের সিরিজের নাম এই ‘হ্যারি পটার’। প্রথম এই বই লেখার পর কোনো প্রকাশকই প্রকাশ করতে চায়নি। বারবার বিভিন্ন প্রকাশকের কাছে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন লেখক। 

তবে শেষ পর্যায়ে এক প্রকাশক সিরিজের বইগুলো প্রকাশ করতে রাজি হয়। এরপরতো রীতিমতো ইতিহাস সৃষ্টি হয় বিশ্বজুড়েই। এই ‘হ্যারি পটার’ই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বইয়ের একটি। 

‘হ্যারি পটার’ সিরিজের লেখকের নাম জে কে রাওলিং । এটি তার ছদ্মনাম। তার আসল নাম জোয়ানে ‘জো’ রাওলিং । ১৯৬৫ সালের ৩১ জুলাই ইংল্যান্ডের দক্ষিণে গ্লুসেস্টারশায়ারের ছোট্ট একটি শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

‘হ্যারি পটার’ লিখে ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যের জীবিত লেখকদের মধ্যে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ’ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন রাওলিং। হ্যারি পটার ২০০ দেশে ৭৯টি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বে প্রায় ৪৫ কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। এই সিরিজ লিখে এ যাবৎ ৭৪ কোটি ৩০ লাখ ইউরো আয় করেছেন তিনি। বিশ্বের ধনী লেখকদের মধ্যে রাওলিং অন্যতম।

১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে হ্যারি পটার সিরিজের মোট সাতটি উপন্যাস। প্রতিটি কিস্তিতে বলা হয়েছে হ্যারির জাদুর স্কুলের একেকটি বছরের কথা। 

স্ট্যাটিসটিকব্রেইন নামের একটি পরিসংখ্যান সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই সিরিজের সিনেমাগুলো বিশ্বজুড়ে ৭২০ কোটি ডলার আয় করেছে। বই বিক্রি হয়েছে প্রায় ৭৭০ কোটি ডলারের। আর হ্যারি পটার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে আয় হয়েছে ৭৩০ কোটি ডলার।    

রাওলিং পড়াশোনায় খুব একটা ভালো ছিলেন না। বয়স যখন ২৩ মাস, তখন তার ছোটবোনের জন্ম হয়। কিছুটা বড় হওয়ার পর থেকেই ছোটবোন তার কাছে প্রতিদিন গল্প শুনতে চাইতো। ছোটবেলায় রাওলিং তাই অনেক গল্প লিখে ছোটবোনকে পড়ে শোনাতেন। ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন ছিল তিনি উপন্যাস লিখবেন। কিন্তু তার এই ব্যাপারে তার বাবা-মা সমর্থন করতো না। 

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে টেস্ট দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এক্সিটর ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশেনা শেষ করেন। পড়া শেষ করার পর তেমন কোনও ভালো কাজ না পেয়ে এক সময়ে পর্তুগালে চলে যান। পরে ১৯৯০ সালে একদিন পাতাল ট্রেনে করে ম্যানচেস্টার থেকে লন্ডনে যাওয়ার সময়ে তার চিন্তা আসে নতুন কোনো গল্প লেখা যায় কি না সেটা নিয়ে। আর সেখান থেকেই তাঁর মাথায় আসে ‘হ্যারি পটার’ গল্পের ধারণা। 

পড়াশোনা শেষে এক সময় পর্তুগাল চলে আসেন রাওলিং। সেখানে গিয়ে বিয়ে করলেও জীবনসঙ্গী ভালো না হওয়ায় ১৯৯৩ সালে ৩৮ বছর বয়সে একমাত্র মেয়ে জেসিকাকে নিয়ে তিনি আবার ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন এবং বোনের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। 

১৯৯৫ সালে তিনি হ্যারি পটারের প্রথম বইটি লেখা শেষ করেন। বইটি ১২ বা ১৪টি প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশ করতে রাজি হয়নি সেসময়। ১৯৯৬ সালে প্রকাশনা সংস্থা ‘ব্লুমসবারি’ বইটি প্রকাশ করার জন্য রাজি হয়। ১৯৯৭ সালে হ্যারি পটারের প্রথম বই প্রকাশের পর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পরে পুরো বিশ্বে। 

পাঁচ মাস পরেই সেটি জিতে নিয়েছিল সেরা শিশুসাহিত্যের পুরস্কার। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় বই ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অফ সিক্রেটস’, আবারো পুরস্কার জিতে নেয়। ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয় তৃতীয় বই ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অফ আজকাবান’। সিরিজের প্রথম এই তিনটি বই-ই একসঙ্গে দখল করে নিয়েছিল নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্টসেলার তালিকায়। পরপর তিনবার পুরস্কার জেতার রেকর্ড গড়েন তিনি। পরিচিতিও মেলে একজন একজন বড় লেখক হিসেবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম