মাই স্টারস।। আফিয়া জাহিন সিদ্দিকী

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৮,   ১৯ সফর ১৪৪৩

মাই স্টারস।। আফিয়া জাহিন সিদ্দিকী

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫৬ ২৯ জুলাই ২০২১   আপডেট: ২০:৫৭ ২৯ জুলাই ২০২১

আফিয়া জাহিন সিদ্দিকী

আফিয়া জাহিন সিদ্দিকী

সবার ভেতর ভয়-চিন্তা-উত্তেজনা আর কৌতুহলের মিশ্র অনুভূতি। শীতকাল, তবু অডিটোরিয়ামের এয়ার কন্ডিশনারের মধ্যে বসেও একেকজন ঘেমে-নেয়ে একাকার। ক্যান্ডিডেটদের অনেকেই এরই মধ্যে জ্ঞান হারিয়েছেন। কেউ কেউ নিজ ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা করছে।

এত কিছুর পরও অডিটোরিয়ামে পিনপতন নীরবতা। সবার ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে, সব অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটিয়ে উপস্থাপক বললেন- The Award of Young Generation’s Doctor of 2021 goes to… Mehrima Islam from Bangladesh.

মুহূর্তই করতালির জোয়ার বয়ে গেল অডিটোরিয়ামে। স্পটলাইট এসে পড়ল বাঁ পাশের পঞ্চম সারির সাত নম্বর সিটের ওপর। মেয়েটি সিট থেকে উঠে ধীর পায়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। তার পরনে হাল্কা গোলাপি রঙের লং গাউন। মঞ্চে উঠে উপস্থাপকের সঙ্গে হাসিমুখে হাত মিলিয়ে পুরস্কারটা নিল সে।

উপস্থাপক বললেন- Now I’ll request Ms. Mehrima to share some feelings with us.

মেয়েটি মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলা শুরু করল- সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, শীতকালের এই বিশেষ সন্ধ্যায় আমি মেহরিমা ইসলাম আপনাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাচ্ছি। ধন্যবাদ সবাইকে।

সঙ্গে সঙ্গে আরেক দফা করতালি।

-প্রত্যেক মানুষের সফলতার পেছনে নিজের অবদান আগে থাকে। নিজস্ব আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। এরপর মা-বাবা, আপনজন-আত্মীয়দের। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এমনটা নয়। আজ আমার এ সফলতার পেছনে তাদের অবদান- যাদের সঙ্গে আমার কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই। যারা আমার কাছে আকাশের তারার মতোই উজ্জ্বল। আমার জীবন কেটেছে বাংলাদেশের একটি অনাথ আশ্রমে। যেখানে আমার মতো আরো চারটি তারা ছিল। জীবনের প্রতিটি উত্থান-পতনে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। একজনের হাসিতে বাকিরা একসঙ্গে হেসেছি। আবার একজনের কান্নায় কেঁদেছি। কেউ কারো হাত এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়িনি। কিন্তু দু্র্ভাগ্য... আজ আমার সঙ্গে কেউ নেই। স্মৃতিটুকু ছাড়া।

এইটুকু বলে থামল মেহরিমা। তাকিয়ে দেখল অডিয়েন্সের সিটে বসে থাকা সবার চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছে। আবার বলা শুরু করল...

-ওরা সবসময় আমার মনে আমার সঙ্গেই ছিল। আজ আমি বলতে চাই My stars. I love you more than anything else in the world. I’m missing you. Please come back to me.

-আবারো সবাইকে ধন্যবাদ। সবার সুস্থতা কামনা করে বিদায় নিচ্ছি।

থামল মেহরিমা। কিন্তু অডিয়েন্সের কারো যেন জ্ঞান নেই। সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে কথাগুলো শুনছিল। যে যার জায়গায় স্তব্ধ হয়ে আছে। হওয়ারই কথা- এখানে উপস্থিত সবাই অনেক কঠিন যুদ্ধের পর এ পর্যন্ত এসেছে, তাই মেহরিমার অনুভূতি একটু হলেও বুঝতে পারছে। কয়েকজন সম্বিত ফিরে পেতেই উঠে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে তালি দিতে থাকল। তাল মিলিয়ে বাকিরাও দাঁড়িয়ে পড়ল। করতালি আর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল গোটা অডিটোরিয়াম।

উপস্থাপক চোখ মুছে বললেন- We are grateful to Ms. Mehrima for making our special evening more special. We are touched by her life story. We will pray to get her stars back again. You can now go back to your seat Ms...

অনুষ্ঠান শেষে অনেকেই মেহরিমার সঙ্গে হাত মেলাল, অভ্যর্থনা জানাল, অটোগ্রাফ নিল। এতোক্ষণ ঠিক থাকলেও মেকআপ রুমে এসে মেহরিমার শূন্য শূন্য লাগতে শুরু করল। অ্যাওয়ার্ডটা হাতে নিয়ে নিঃশব্দে কেঁদে উঠল। বলতে লাগল- কোথায় তোরা? আমায় না প্রমিজ করেছিলি আজকের দিনে আমার পাশে থাকবি। এভাবে দূরে ঠেলে দিয়ে ভুলে গেলি?

কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো। অনেক রিপোর্টার এসেছে। ও সেগুলো কাটিয়ে যেই না গাড়িতে উঠবে- পেছন থেকে একটি পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো। মেহরিমার বিশ্বাস হচ্ছে না। এতগুলো বছর পর সত্যি ফিরে এসেছে তারা? নাকি ও স্বপ্ন দেখছে?
আবার শুনল- কী রে মেহরিমা! আমরা কিন্তু প্রমিজ রেখেছি। ঠিকই তোকে অ্যাওয়ার্ড নিতে দেখেছি।

না, কল্পনা নয়। এটা সত্যি! মেহরিমা পেছন ফিরেই জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো আর বকতে লাগল তার প্রিয় তারাদের। তাকেও জড়িয়ে ধরল সবাই। এক আবেগঘন পুনর্মিলনে নতুন করে শুরু হলো মেহরিমা ও তার চারটি তারার বন্ধুত্বের গল্প।

‘ভালো থাকুক পৃথিবীর সব তারা’

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর