এই দিনে আমরা হারিয়েছিলাম বিদ্যাসাগরকে

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৮,   ১৯ সফর ১৪৪৩

এই দিনে আমরা হারিয়েছিলাম বিদ্যাসাগরকে

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৮ ২৯ জুলাই ২০২১  

ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর (ফাইল ছবি)

ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর (ফাইল ছবি)

২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে ৭১ বয়সে মারা যান ঊনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর। আজ তার ১৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। 

ছোটোবেলায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর। গ্রামের পাঠশালায় লেখাপড়ায় হাতেখড়ি হলেও কলকাতার সংস্কৃত কলেজে ১৮২৯ সালের ১ জুন পড়াশোনা শুরু করেন। তার অসাধারণ প্রতিভা এবং শিক্ষার প্রতি অপূর্ব অনুরাগ দেখে শিক্ষকরা পর্যন্ত মুগ্ধ হয়েছিলেন। মাত্র একুশ বছর বয়সেই পড়াশোনা শেষ করেন। সেসময় সংস্কৃত সাহিত্য, ব্যাকরণ, ন্যায় বেদান্ত, স্মৃতি অলঙ্কার ইত্যাদি বিষয়ে অগাধ পান্ডিত্য অর্জন করেন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। 

১৮৩৯ সালের ২২ এর্প্রিল হিন্দু ল’ কমিটির পরীক্ষা দেন ঈশ্বরচন্দ্র। এই পরীক্ষাতে তিনি যথারীতি কৃতিত্বের সহিত উত্তীর্ণ হয়ে ল’কমিটির কাছ থেকে বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। আর এর পর থেকেই তাঁর নামের সাথে বিদ্যাসাগর যুক্ত হয়।

বিদ্যাসাগরের জীবনের আর একটি বড় কীর্তি ছিল সমাজ সংস্কার। আমাদের দেশের সামাজিক কুপ্রথার উচ্ছেদ করার জন্য বিদ্যাসাগর আপ্রান চেষ্টা করেছিলেন। বাল্যবিবাহের হাত থেকে নারীদের উদ্ধারের জন্য ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই ভারত সরকারের ব্যবস্থাপক সভায় ‘বিধবা বিবাহ’ নামে যে আইন পাস হয় তার প্রস্তাবক ছিলেন বিদ্যাসাগর। তিনি তার নিজের ছেলে নারায়ন চন্দ্রের সাথ এক বিধবা কণ্যার বিয়ে দিয়ে এই আইন প্রচলনের ভিত্তি মজবুত করেন তিনি বহু বিবাহের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন। 

কর্মজীবনে প্রবেশের পর তিনি সংসারের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। বিদ্যাসাগর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তার বিস্ময়কর আত্মমর্যাদাবোধ। কোন অবস্থাতেই তিনি তাঁর আত্মমর্যাদাবোধ ক্ষুন্ন হতে দেননি। সংস্কৃত সম্পাদক রমেশ দত্তের সঙ্গে তার মতবিরোধের কারণে তিনি সেই সময়ে মাসিক পাঁচশ টাকা বেতনের চাকরি ছেড়ে দেন। কর্মজীবনে প্রবেশ করার পাশাপাশি তিনি সাহিত্য জীবনে প্রবেশ করেন। 

তিনি বাংলা সাহিত্যে গদ্যের জনক। পত্রপত্রিকা সম্পাদনা ও পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিদ্যাসাগরের ভূমিকা সুবিদিত। এ প্রসঙ্গে বলতে হয়, ‘সর্ব শুভকরী’, ‘তত্ত্ববোধিনী’, ‘সোম প্রকাশ’ ও ইংরেজি ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’-এর মতো পত্রিকাগুলো বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। বিদ্যাসাগর এসব পত্রিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। বহু নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার ছিল অগ্রণী ভূমিকা। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘হিন্দু মেট্রোপলিটন’ স্কুলের প্রতিষ্ঠা, যা তারই একান্ত উদ্যোগে অচিরেই রূপান্তরিত হয়েছিল কলেজে।

উল্লেখযোগ্য রচনা : ‘বেতাল পঞ্চ বিংশতি’, ‘বাংলার ইতিহাস’, ‘জীবন চরিত’, ‘বোধোদয়’, ‘উপক্রমণিকা’, ‘খজুপাঠ’, ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’, ‘শকুন্তলা উপাখ্যান’, ‘বিধবা বিবাহ’, ‘বর্ণ পরিচয়’ (১ম ও ২য় ভাগ), ‘আখ্যান মঞ্জরী’ ও ‘ভ্রান্তি বিলাস’। ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে ঈশ্বরচন্দ্র মারা যান ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই। বাংলা ভাষার উন্নতি সাধনে; বাঙালির আত্ম-মর্যাদাবোধ জাগাতে, দানে, দয়ায় ও মনুষ্যত্বে আজো বিদ্যাসাগর স্মরণীয়।

ঈশ্বরচন্দ্র ১৮২০ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের বীর সিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ঠাকুর দাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভগবতী দেবী।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম