আহমদ ছফার ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮,   ১০ সফর ১৪৪৩

আহমদ ছফার ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:২২ ২৮ জুলাই ২০২১  

আহমদ ছফা: জন্ম ৩০ জুন ১৯৪৩, মৃত্যু ২৮ জুলাই, ২০০১

আহমদ ছফা: জন্ম ৩০ জুন ১৯৪৩, মৃত্যু ২৮ জুলাই, ২০০১

আজ ২৮ জুলাই, ২০০১ সালের এদিন মারা যান বাংলা সাহিত্যের একজন প্রতিবাদী লেখক, উপন্যাসিক ও সংগঠক আহমদ ছফা। 

১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার দক্ষিণাঞ্চলের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম। চট্টগ্রামে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখান থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

ষাটের দশকে তার সাহিত্য-জীবনের সূচনা। সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ, শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান। বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য-সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেন। বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে তিনি এক সফল লেখক। জীবনের বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে গল্প-উপন্যাসে ফুটিয়ে তুলেছেন।

বাংলা সাহিত্যের গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ, শিশুসাহিত্যে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য-সাময়িকপত্র সম্পাদনাও করেন। বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে তিনি এক সফল লেখক। 

জীবনের বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে তিনি গল্প-উপন্যাস রচনায় কাজে লাগিয়েছেন। তার রচনায় বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা, মুক্তিকামনা ও স্বাধীনতাস্পৃহা এবং সামাজিক অসঙ্গতি ও বৈষম্যের চিত্র রূপায়িত হয়েছে। সাহসী উচ্চারণে ও বুদ্ধির দীপ্তিতে তিনি ছিলেন সমৃদ্ধ। 

সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন আহমদ ছফা। গল্প, গান, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ, ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনী মিলিয়ে রচনা করেছেন ৩০টির বেশি বই। 

১৯৬৭ সালে তিনি লেখেন তার প্রথম উপন্যাস ‘সূর্য তুমি সাথি’। এ ছাড়া তার আরো দুটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো ‘ওঙ্কার’, পুষ্প বৃক্ষ ও বিহঙ্গ পুরাণ।

বাংলাদেশের চিন্তাজগতেও আহমদ ছফা ছিলেন অনন্য। ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ ও ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ নামে দুটি প্রবন্ধের বইয়ে ছফার চিন্তার সেই অনন্যতার প্রতিফলন ঘটেছে। লিখেছেন আরও অনেক প্রবন্ধ। এ ছাড়া তার উল্লেখযোগ্য কবিতার বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘জল্লাদ সময়’, ‘একটি প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা’, ‘লেনিন ঘুমোবে এবার’ ইত্যাদি। ‘নিহত নক্ষত্র’ তার একমাত্র ছোটগল্পের বই। অনুবাদ করেছেন জার্মান কবি গ্যেটের বিখ্যাত কাব্য ‘ফাউস্ট’।

জার্মান কবি গ্যেটের বিখ্যাত কাব্য ফাউস্টের অনুবাদ এবং বার্ট্রান্ড রাসেলের সংশয়ী রচনার বাংলা রূপান্তর ছফাকে অনুবাদক হিসেবেও খ্যাতি এনে দেয়। অবশ্য গবেষক ও প্রাবন্ধিক হিসেবেই তার পরিচিতি সর্বাধিক। 

ছফার চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে দুটি উল্লেখযোগ্য রচনা বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ও বাঙালি মুসলমানের মনে। এ দুটি বিশেষ চিন্তামূলক রচনাসহ দেশ, সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক নিবন্ধাবলি তাকে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী লেখকের মর্যাদাপূর্ণ আসন দিয়েছে।

আহমদ ছফা ছিলেন সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী কণ্ঠ। সাংগঠনিক ক্ষমতাও ছিল প্রচুর। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে আহমদ শরীফের নেতৃত্বে বাংলাদেশ লেখক শিবির গড়ার মুখ্য ভূমিকাও পালন করেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে মানববাদী সংগঠন গড়ে তোলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম