কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন আজ

ঢাকা, শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৩ ১৪২৮,   ০৯ সফর ১৪৪৩

কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন আজ

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:০৪ ২৩ জুলাই ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৩ জুলাই, ১৮৯৮ সালে আজকের এই দিনে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর জন্মেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অমর কবি, উপন্যাসিক, গল্পকার তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়।

তারাশঙ্কর চার দশকের বেশি সময় ধরে সাহিত্য সাধনায় ছিলেন। ১৯২৯-৩০ থেকে ১৯৭১ সালের মৃত্যু অবধি ১টি কাব্যগ্রন্থ, ৬৫টি উপন্যাস, ২০০-এর অধিক ছোটগল্প, ১২টি নাটক, অস্যংখ্য প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা ও আত্মজীবনী রচনা করেন। 

সাহিত্যকম্যের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২), জলসাঘর (১৯৩৮), ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯), কালিন্দী (১৯৪০), গণদেবতা (১৯৪৩), পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪), কবি (১৯৪৪), হাঁসুলি বাঁকের উপকথা (১৯৪৭), আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩) ইত্যাদি।

ধ্রুপদী উপন্যাস লিখে বাংলা উপন্যাস সাহিত্যে তিনি বিশেষ আসন লাভ করেছেন। অনেক গল্পও লিখেছেন। বেদে, পটুয়া, মালাকার, লাঠিয়াল, চৌকিদার, বাগদী, বোষ্টম, ডোম ইত্যাদি সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র তার গল্পে দক্ষতার সঙ্গে অঙ্কিত হয়েছে। ‘রসকলি, ‘বেদেনী ‘ডাকহরকরা’তার প্রসিদ্ধ ছোটগল্প। 

তারাশঙ্করের গল্পের সংকলন তিন খন্ডে সাহিত্য সংসদ কর্তৃক প্রকাশিত (১৯৭৭-১৯৭৯) হয়েছে। দুই পুরুষ, কালিন্দী, আরোগ্য নিকেতন ও জলসাঘর অবলম্বনে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে সৃজনশীল সৃষ্টি কর্মের জন্য তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরস্কারে ভূষিত হন। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শরৎস্মৃতি পুরস্কার’ (১৯৪৭) ও ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ (১৯৫৬) লাভ করেন। এছাড়া তিনি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৫৫), ‘সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার’ (১৯৫৬), ‘জ্ঞানপীঠ পুরস্কার’ (১৯৬৭) এবং ‘পদ্মশ্রী’ (১৯৬২) ও ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

তারাশঙ্করের বিষয় এবং রচনার চরিত্রগুলোর দিক থেকে দুটো ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটা হল গ্রাম্যজীবন ভিত্তিক নিম্নবিত্ত সমাজের ব্রাত্যজনদের সুখ-দুঃখের কাহিনী, দ্বিতীয়টা হলো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লেখা কাহিনী। একটা ভাগ ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’ পর্যন্ত। আর একটা ভাগ ‘মন্বন্তর’ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত। ‘মন্বন্তর’ ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’এর আগে লিখিত হলেও ‘মন্বন্তর’ তাঁর সাহিত্য জীবনের রূপান্তর সূচনা করে। ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’ তারাশঙ্করের প্রথম ধারার শেষ পর্বের মহাকাব্যিক উপন্যাস। এই উপন্যাসে তারাশঙ্কর ভূমি নির্ভর আভিজাত্য বোধে জারিত জীবন ব্যবস্থার মাঝে বিত্ত-মর্যাদা-সচেতন অর্থদৃপ্ত অহমিকার অনুষঙ্গকে উপস্থাপন করেছেন। 

দ্বিতীয় ধারার উপন্যাসের প্রসঙ্গে নাম করতে হয় ‘মন্বন্তর’-এর । এ উপন্যাস অনেকাংশে প্রগতি আন্দোলনের (১৯৩৫-৫০) দ্বারা অনুপ্রাণিত। ‘মন্বন্তর’ উপন্যাসটি গ্রন্থিত আকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে। তিনি রচনা করেন ‘মন্বন্তর’, ‘গণদেবতা’, ‘পঞ্চগ্রাম’ এর মতো রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুষঙ্গে লিখিত উপন্যাসগুলো। তারাশঙ্করের জীবনবোধের প্রথম থেকেই রাজনীতির উপস্থিতির কথা আমরা জানি। এ জীবনবোধের কারণেই তিনি ‘গণদেবতা’, ‘পঞ্চগ্রাম’, ‘ধাত্রীদেবতা’ উপন্যাস ত্রয় রাজনৈতিক মহাকাব্যিক অনুষঙ্গে লিখতে সমর্থ হন বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে। তিনি বারবার এসব উপন্যাসে তাঁর স্বভূমি লাভপুরের গ্রাম্যজীবনের কথাই যেন তুলে ধরেছেন। 

তারাশঙ্কর গল্প-উপন্যাসে যে বহুমাত্রিক অনুষঙ্গের অবতারণা করেছেন তা অন্য লেখকদের মধ্যে খুব কমই দেখা যায়। তার গল্প-উপন্যাসে ভয়ঙ্কর আদিমতান্ত্রিক ঐতিহ্য, প্রেম, অপ্রেম, পরকীয়া, সৌখিনতা, বিলাসিতা, বৈরাগ্য, বৈষ্ণব সহজিয়াভাব, অবহেলা, প্রবঞ্চনা, তঞ্চকতা, দ্বন্দ্ব- সংঘাত, সুখ-দুঃখ, ব্যথা-বেদনা, ভাঙা-গড়ার কাহিনী বিধৃত করেছেন নানা অনুষঙ্গে, নানা আঙ্গিকে, নানা ঘরাণায়। ধ্রুপদ আঙ্গিকের গল্প-উপন্যাস ছাড়াও প্রেম-ভালবাসা, বিরহ-বিচ্ছেদ এবং পরকীয়া প্রেমের গল্প- উপন্যাস লিখেছেন তার উদাহরণ ‘চাঁপাডাঙার বৌ’,‘জলসাঘর’,‘ব্যর্থ নায়িকা’, ‘প্রেম ও প্রয়োজন’, ‘ছলনাময়ী’, ‘মঞ্জরী অপেরা’ ইত্যাদি। তিনি ‘সপ্তপদী’, ‘যতিভঙ্গ’। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম