দ্য প্লেগ ( পর্ব ১৬)

ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮,   ১০ সফর ১৪৪৩

দ্য প্লেগ ( পর্ব ১৬)

মূলঃ আলবেয়ার কামু

অনুবাদঃ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৯ ৭ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৪:১৯ ৭ জুলাই ২০২১

‘দ্য প্লেগ’র প্রচ্ছদ

‘দ্য প্লেগ’র প্রচ্ছদ

কিন্তু বিমূর্ততার সমান্তরালে কেউ কেউ সত্যকেও দেখতে পেয়েছিল। প্লেগের প্রথম মাস শেষ হলো বেদনার মধ্য দিয়ে। দুইবার মহামারীর পুনঃপ্রকোপের মধ্য দিয়ে। এই সময়ে ফাদার পেনেলাক্স কিছু নাটকীয় ধর্মাপদেশ দিলেন। ইনি হলেন সেই পাদ্রী যিনি বৃদ্ধ মাইকেলকে কাঁধে করে বয়ে এনেছিলেন। যখন রোগের শুরুতে সে খোঁড়াচ্ছিল। ফাদার  পেনেলাক্স ইতিমধ্যেই ওরানের সামাজিক জীবনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন। প্রধানত প্রাচীন ধর্মীয় বাণী বা লিপি ব্যবহার করে। এগুলোর বিষয়ে তিনিই ছিলেন বিধিসংগত কর্তাব্যক্তি। তবে তিনি শুধু ধর্মীয় নয়, সাধারণ জনগণের ভেওরেও তিনি প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হয়েছিলেন। বর্তমান সময়কালের ‘ব্যক্তিস্বাতন্ত্রতা’ বিষয়ে তার সিরিজ বক্তৃতার মধ্যদিয়ে। এগুলোর মধ্যদিয়ে নিজেকে খ্রিস্টীয় মতবাদের সবচেয়ে বড় রক্ষক হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। তার মতে তিনিই সবচেয়ে সঠিক ও আসল মতবাদ প্রচার করতেন, যেগুলো আধুনিকতার দুর্বলতা ও অতীতের অস্পষ্টতা হতে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। এসমস্ত বিষয়ে শ্রোতাদেরকে তিনি শক্তহাতে শাস্তি দিতেও অনুকম্পা বোধ করতেন না। এভাবে তিনি একজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিতেও পরিণত হয়েছিলেন।            

মাসের শেষের দিকে ধর্মীয় যাজকগণ সিদ্ধান্ত নিলেন যথাযথ পদ্ধতি অবলম্বন করে প্লেগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে। তারা সাপ্তাহিক প্রার্থনার আয়োজন করলেন। প্রতি রোববারে সেইন্ট রচ নামের প্লেগ আক্রান্ত পাদ্রীর অধীনে বিশাল ধর্মীয় প্রার্থনার আয়োজন করা হলো। সেখানে ফাদার পেনেলাক্সকে অনুরোধ করা হলো ধর্মোপদেশ বিতরণ করার জন্য। এক পক্ষকাল তিনি সেন্ট অগাস্টিন ও আফ্রিকান চার্চের গবেষণাকাজ থেকে নিজেকে নিবৃত রাখলেন, যা তাকে বর্তমান উচ্চ অবস্থানে আসীন করেছে। একজন আবেগী ও অগ্নিময় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি তার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তার ধর্মোপদেশগুলো তার মুখ থেকে নিঃসৃত হবার পূর্বেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল, যাতে তার বক্তৃতার দিনটি ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকে। সাপ্তাহিক প্রার্থনার দিনগুলোতে বিপুল সংখ্যক মানুষেরা উপস্থিত হলো। এর অর্থ এই নয় যে, সাধারণ সময়গুলোতে ওরান শহরের মানুষেরা স্বভাবগভাবে যথেষ্ট ধর্মপ্রাণ ছিল। উদাহরণ  হিসেবে বলা যায়, প্রতি রবিবারে সাগরে স্নান করা মানুষের সংখ্যা চার্চে গমনকারী মানুষের চেয়ে কখনই কম ছিল না। এটাকে এভাবেও ব্যাখ্যা করা যৌক্তিক হবে না যে, হঠাত করে শহরের  মানুষের মানসিক পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। তবে একটা বিষয় সত্য যে, শহরে চলাচল নিষিদ্ধ এবং পোতাশ্রয়কে আউট অফ বাউন্ড ঘোষণা করার ফলে কেউই স্নান করতে যেতে পারত না। এছাড়াও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সবাই ব্যতিক্রমী মানসিক অবস্থার অধিকারী হবার কারণে যদিও তারা তাদের উপরে আপতিত বিপদের বিশালত্ব অনুধাবন করতে সক্ষম ছিল না, তবুও তারা অনুভব করতে পারছিল যে, কিছু একটা পরিবর্তিত হয়ে গেছে।                

যাই হোক, বেশীরভাগ মানুষই আশা করতে লাগল যে, মহামারী দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে এবং তারা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এই বিপদ থেকে বেঁচে যাবে। ফলে নিজেদের আচরণ ও অভ্যাস পরিবর্তন করার বিষয়ে কোনরূপ বাধ্যবাধকতা অনুভব করল না। প্লেগ তাদের কাছে ছিল একজন অনাহূত দর্শনার্থীর মতো, যে একদিন হঠাত করে চলে যাবে, যেমন করে সে এসেছিল। ভীত হলেও তারা মরিয়া হওয়া থেকে অনেক দূরে ছিল। প্লেগকে তাদের অস্তিত্বের অংশ বলে মনে হচ্ছিল না। সংক্ষেপে তারা আরও ঘটনা ঘটার জন্যে অপেক্ষা করছিল।         

অন্যান্য অনেক সমস্যার মতো ধর্মীয় ক্ষেত্রেও প্লেগ তাদের মধ্যে এক ধরণের কৌতূহলী মানসিক অবস্থার সৃষ্টি করেছিল। এটা উদাসীনতা বা উদ্দীপনা কোনটারই কাছাকাছি ছিল না। এর অবস্থার সবচেয়ে ভালো নাম সম্ভবত হতে পারত ‘নৈর্ব্যক্তিকতা’। সাপ্তাহিক প্রার্থনায় যারা অংশগ্রহণ করত, তারা সবাই (রিও’র শোনা অনুযায়ী) জনৈক চার্চে গমনকারীর নিম্নলিখিত মন্তব্যকেই প্রতিধ্বনিত করত,” যাই হোক না কেন, প্লেগ আমাদের কোন ক্ষতিই করতে পারবে না।“ এমনকি ত্যারু তার নোটবুকে চীনারা প্লেগের সময়ে তাম্বুরা খেলত উল্লেখ করে পর্যবেক্ষন হিসেবে লিখেছিল যে, তাম্বুরা নাকি প্রতিষেধক বেশি কার্যকরী তা বলা সম্ভব নয়। সে শুধু লিখেছিল যে, এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে আমাদের নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন যে, প্লেগ আসলেই আছে কিনা। প্লেগের অস্তিত্বের বিষয়ে আমাদের অজ্ঞতা আমাদের যেকোন মতামতকেই বাতিল করে দিতে সক্ষম।            

যাই হোক, প্রধান গির্জা সাপ্তাহিক  প্রার্থনার পুরো সপ্তাহজুড়ে প্রার্থনাকারীদের দ্বারা পূর্ণ থাকত। প্রথম দুই তিন দিন অনেককেই গির্জার বাইরে অবস্থান করতে হতো। পোর্চের সামনের বাগানের পাম বা ডালিম গাছের নীচে। দূর থেকেই তারা ফুলতে থাকা প্রার্থনার জোয়ারে অংশগহণ করত। এই প্রার্থনার  ধ্বনি-প্রতিধ্বনি মন্দির এলাকা ছাড়িয়ে পাশের রাস্তাগুলো পর্যন্ত ছড়িয়ে যেত। কিন্তু তাদেরকে বাইরে থাকতে নিষেধ করা হলে পরবর্তীতে তারা গির্জার ভেতরে প্রবেশ করে নম্রভাবে প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করত। তারপরেও রবিবারের প্রার্থনায় প্রচুর জনসমাগমের কারণে গির্জার সিঁড়ি ও তৎসংলগ্ন এলাকা লোকারণ্য হয়ে যেত। বিগতরাত থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। দিনের বেলায় মুষলধারে  বৃষ্টি শুরু হলো। উন্মুক্ত মাঠে থাকা সবাই ছাতা খুলে ধরল। গির্জার ভেতরের বাতাস ভারী হয়ে উঠল ধূপ ও ভেজা কাপড়ের গন্ধে। এই সময়ে ফাদার পেনেলাক্স প্রচারবেদীর উপরে উঠে দাঁড়ালেন।           

তিনি ছিলেন একজন মজবুত গঠনের মানুষ। মাঝারী উচ্চতার। প্রচারবেদীর প্রান্তদেশে হেলান দিয়ে তিনি তার বড় হাত দিয়ে কাঠের কাজ করা কিছু একটা আঁকড়ে ধরে ছিলেন। দূর থেকে তার বিশাল কালো অবয়ব দেখা যাচ্ছিল। সেটার উপরে তার স্টিল ফ্রেমের চশমা পরা গোলাপী চিবুক দেখা যাচ্ছিল। তার ভাষণ ছিল খুবই শক্তিশালী ও আবেগী। অনেক দূর পর্যন্ত তা শোনা যাচ্ছিল। তিনি পরিষ্কার ও গম্ভীর স্বরে তার সভার প্রাথমিক শব্দগুলো ছুঁড়ে দিয়েছিলেন,‘‘দুর্যোগ আপনাদের উপরে এসে পড়েছে, ভাইয়েরা আমার। আপনারা এই দুর্যোগ অর্জন করেছেন।’’

তার কথার ঝাপটানি মন্দির অতিক্রম করে বারান্দা ও বৃষ্টির ভেতরে ভিড় করে থাকা মানুষদের পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে গিয়েছিল। 

দ্য প্লেগ (প্রথম পর্ব)

দ্য প্লেগ (দ্বিতীয় পর্ব)

দ্য প্লেগ (তৃতীয় পর্ব)

দ্য প্লেগ (চতুর্থ পর্ব)

দ্য প্লেগ (পঞ্চম পর্ব)

দ্য প্লেগ (ষষ্ঠ পর্ব)

দ্য প্লেগ (সপ্তম পর্ব)

দ্য প্লেগ (অষ্টম পর্ব)

দ্য প্লেগ (নবম পর্ব)

দ্য প্লেগ (দশম পর্ব)

দ্য প্লেগ (একাদশ পর্ব)

দ্য প্লেগ (দ্বাদশ পর্ব)

দ্য প্লেগ ( ত্রয়োদশ পর্ব)

দ্য প্লেগ ( চতুর্দশ পর্ব)

দ্য প্লেগ (পঞ্চদশ পর্ব)

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ