দ্য প্লেগ (পঞ্চম পর্ব)

ঢাকা, শনিবার   ২৭ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৮,   ২০ রবিউস সানি ১৪৪৩

দ্য প্লেগ (পঞ্চম পর্ব)

মূল: আলবেয়ার কামু

অনুবাদ: মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৩৯ ৩০ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৩:২৫ ৬ মে ২০২১

দ্য প্লেগ

দ্য প্লেগ

জ্যা ত্যারুর পরিচয় সম্পর্কে আমরা ইতিপূর্বেই জেনেছি। ঘটনাচক্রের কয়েক সপ্তাহ পূর্বে সে ওরানে এসেছিল এবং শহরের কেন্দ্রস্থলের একটা বড় হোটেলে উঠেছিল। আপাতভাবে কোনোরূপ ব্যবসার সাথে সে জড়িত না থাকলেও শহরের প্রায় সবার সঙ্গেই সে দ্রুত পরিচিত হয়ে উঠছিল। অবশ্য শহরের কেউই জানতে পারেনি সে কোথা থেকে এবং কি উদ্দেশ্যে ওরানে এসেছিল। প্রায়ই তাকে জনাকীর্ণ শহরের ভিড়ের ভেতরে ঘুরতে দেখা যাচ্ছিল। বসন্তকালের শুরুতে তাকে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছিল বেলাভূমিতে। সৈকতের জলে সাঁতার কাটতে। সে ছিল রসিক প্রকৃতির। সারাক্ষণ মুখে হাসি লেগে থাকতো। স্বাভাবিক আনন্দের বিষয়গুলো তাকে নেশাতুর করলেও কখনোই সেগুলো তাকে দাসে পরিণত করতে পারেনি। এছাড়াও তাকে প্রায়ই দেখা যেত শহরে বসবাসরত স্পেনীয় ডান্সার ও মিউজিসিয়ানদের সাথে চলাফেরা করতে। এই শহরে এদের সংখ্যা ছিল যথেষ্টই।  

জ্যা ত্যারুর নোটবইটি ছিল বৈচিত্র্যময়। জীবনের অদ্ভুত সব ঘটনাবলীর বর্ণনায় পরিপূর্ণ ছিল। অবশ্য কোনো ঘটনারই বিস্তারিত বর্ণনা ছিল না তাতে। সব বর্ণনাই ছিল সংক্ষিপ্ত। কিন্তু এই বর্ণনাগুলো হতে আমরা তার একটা বিচিত্র স্বভাব সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম। চারপাশের মানুষজন ও ঘটনাপ্রবাহকে অন্যদের চেয়ে ভিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা। অনেকটা দূরবীনের উল্টোপ্রান্ত দিয়ে দেখার মতো। সেই দুর্যোগের দিনগুলোতে সে যেসব ঘটনাবলী লিপিবদ্ধ করেছিল, সেগুলো সাধারণত ঐতিহাসিকগণ এড়িয়ে যান। প্রাথমিকভাবে এই অদ্ভুত ঔৎসুক্য ও খেয়ালী ইচ্ছাকে আমাদের কাছে যথাযথ অনুভূতির অভাব বলে মনে হতে পারে। মনে হতে পারে যে, নোটবইটি খামাখাই অপ্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে ভরে রেখেছিল সে। কিন্তু আসলে সেখানে বর্ণিত ওই সময়কার আপাততুচ্ছ বিষয়গুলো অগুরুত্বপূর্ণ ছিল না। অন্তত এই তথ্যগুলোর খাপছাড়া বৈশিষ্ট্য পাঠকদেরকে দ্রুত কোন উপসংহারে পৌঁছতে বাঁধা দিত।  

জ্যা ত্যারু’র প্রথমদিকের লিপিবদ্ধ করা তথ্যসমূহ তার ওরানে আগমনের সাথে সম্পর্কিত ছিল। এই সময় থেকেই সে আপাত বৈপরীত্য দিয়ে এই শহরের অন্তর্গত কুৎসিত রূপকে প্রকাশ করেছিল। এগুলোর ভেতরে উল্লেখযোগ্য ছিল মিউনিসিপ্যাল অফিসের সামনের দুটো ব্রোঞ্জের তৈরি সিংহ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ, শহরে গাছপালার অনুপস্থিতি ও বাসস্থানগুলোর বীভৎস রূপ সম্পর্কে মন্তব্য এবং হাস্যকর ও অদ্ভুত নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে তার মতামত। বর্ণনাগুলোকে সে বিস্তৃত করেছিল হঠাৎ শুনে ফেলা রাস্তার উপরের বা গাড়ির ভেতরের কোন আলাপচারিতার খণ্ডাংশ যোগ করে। এগুলোর সাথে সে কখনই নিজের কোন মন্তব্য যোগ করেনি। যেমন, নিম্নের দুইজন গাড়ির কন্ডাকটরের মধ্যকার কথোপকথন: 

‘তুমি কি জানতে না, ক্যাম্পস?’ একজন জিজ্ঞেস করল। 
‘ক্যাম্পস, সেই কাল গোঁফওয়ালা লম্বা লোকটি?’
‘হ্যাঁ, আমি তার কথাই বলছি। সে একজন সুইচম্যান ছিল।’
‘হ্যাঁ, মনে পড়ছে এখন।’
‘সে মারা গেছে।’
‘কখন?’
‘ইঁদুরদের সেই ঘটনার পর।’
‘কি রোগে মারা গেল সে?’
‘আমি নিশ্চিত বলতে পারব না। এক ধরণের জ্বরে। তার বাহুর নীচে ফোঁড়া হয়েছিল। সম্ভবত সেটা থেকেই।’
‘কিন্তু তাকে দেখতে তো কখনই অসুস্থ বলে মনে হয়নি।’
‘আমি অবশ্য তা বলব না। তার ফুসফুস দুর্বল ছিল। সে শহরের ব্যান্ডদলের trombone বাদক ছিল। তার দুর্বল ফুসফুস নিয়ে ওটা বাজানো কঠিনই ছিল।’
‘ঠিক বলেছ। ফুসফুস দুর্বল থাকলে এই ধরণের বড় যন্ত্র বাজানো শরীরের জন্যে আসলেই ভাল না।’

সংলাপটি লিপিবদ্ধ করার পর ত্যারু কল্পনা করার চেষ্টা করেছিল যে, স্বাস্থ্যের জন্যে খারাপ হওয়া সত্ত্বেও ক্যাম্পস কেন ব্যান্ডদলে যোগ দিয়েছিল। কেনই বা সে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রবিবার সকালের প্যারেডে অংশগ্রহণ করেছিল।

ত্যারু তার হোটেলকক্ষের জানলার বিপরীত দিকে অবস্থিত একটি বাসস্থানের ব্যালকনিতে প্রাত্যহিকভাবে ঘটে যাওয়া একটি ছোট্ট দৃশ্য দেখে খুবই প্রভাবিত হয়েছিল। তার কক্ষটির অবস্থান ছিল একটি ছোট পার্শ্বরাস্তার বিপরীত দিকে। সেখানে একটি দেয়ালের ছায়ায় কয়েকটি বিড়াল প্রতিনিয়ত মধ্যে ঘুমাত। প্রতিদিন দুপুরের আহারের পর শহরের বেশীরভাগ লোকজন ঘরের ভেতরে মধ্যাহ্নকালীন নিদ্রা উপভোগ করার সময়ে সপ্রতিভ স্বভাবের ক্ষুদ্রদেহী একজন বৃদ্ধ ব্যালকনি দিয়ে বেরিয়ে এসে রাস্তা অতিক্রম করে অন্যদিকে আসত। তার চেহারা ছিল সৈনিকদের মত। সোজা শরীর। মিলিটারি স্টাইলে সে পোশাক পরিধান পরত। বরফের মত সাদা চুলগুলোকে মসৃণ করে আঁচড়ে রাখত। ব্যালকনির উপরে হেলান দিয়ে সে একই সাথে সে কর্কশ ও স্নেহময় কণ্ঠে ডাকত- ‘পুসি! পুসি!’

বিড়ালগুলো তার দিকে ঘুম জড়ানো চোখে পিটপিট করে তাকাতো, তবে নড়াচড়া করত না। তারপর সে কিছু কাগজ ছিঁড়ে রাস্তার উপরে ছুঁড়ে দিত। উড়ন্ত সাদা প্রজাপতির ঝাঁক মনে করে বিড়ালগুলো তখন তাদের নখ বাড়িয়ে কাগজের টুকরাগুলোকে ধরার চেষ্টা করত। এই সময়ে সতর্কভাবে লক্ষ্য নিয়ে বৃদ্ধলোকটি প্রবল বেগে বিড়ালগুলোর দিকে থুথু ছুড়ে মারত। সেই নিক্ষিপ্ত তরল বিড়াল দলের উপরে পড়তেই সে আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে উঠত। 

সার্বিকভাবে ত্যারু’র নিকটে শহরের বাণিজ্যিক চরিত্রটা যথেষ্টই আকর্ষণীয় বলে মনে হয়েছিল। যদিও সেটার সকল কার্যক্রম, এমনকি আনন্দও ব্যবসায়িক বিবেচনাপ্রসূত ছিল। শহরের এই চারিত্রিক মুদ্রাদোষ ত্যারু উষ্ণভাবেই অনুমোদন করেছিল। বিষয়টা বোঝা যায় তার একটি প্রশংসাসূচক মন্তব্য থেকে। আসলে ত্যারু’র  লিপিবদ্ধ করা বর্ণনাগুলো ছিল তার ব্যক্তিগত অনুভূতির পরিচায়ক। এগুলোর গুরুত্ব ও আন্তরিকতা সাধারণ পাঠকের অমনোযোগী পাঠে দৃষ্টি এড়িয়ে যেতেই পারে। উদাহরণ হিসেবে মৃত ইঁদুরের আবিষ্কার কিভাবে হোটেলের ক্যাশিয়ারের বিল তৈরি কার্যক্রমে ভুলের সৃষ্টি করেছিল, তা উল্লেখ করা যেতে পারে। ত্যারু এ বিষয়ে লিখেছিল-

‘প্রশ্ন: কিভাবে আমরা সময়ের অপচয় বন্ধ করতে সক্ষম হবো?
উত্তর:  সারাক্ষণ সতর্ক থেকে।

কিভাবে এটা করা যেতে পারে- দাঁতের ডাক্তারের ওয়েটিং রুমে দিনের পর দিন অপেক্ষা করে; ব্যালকনিতে রোববারের বিকেল কাটিয়ে; অজানা কোনো ভাষায় বক্তৃতা শুনে; সবচেয়ে অসুবিধাজনক ট্রেনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘতম ভ্রমণ করে; সিনেমার টিকেটের লাইনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও টিকেট না কিনে এবং এ ধরণের আরো কাজ করে।’
ত্যারু’র এই খামখেয়লীপূর্ণ চিন্তা ও ভাবের প্রকাশ অনুসরণ করে আমরা শহরের যানবাহন সার্ভিসের একটা বিস্তারিত বর্ণনা পাই। এই বর্ণনায় গাড়িগুলোর আকৃতি, অনির্ধারিত রঙ, অপরিচ্ছন্নতা সবকিছুই লিপিবদ্ধ করা ছিল। এমনকি তার বর্ণনার উপসংহারে একটা পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ ছিল ‘খুবই অদ্ভুত’, যেটার কোনো ব্যাখ্যা দেয়া ছিল না।
ইঁদুরদের বিষয়ে ত্যারু’র মন্তব্য ছিল নিম্নরূপ-

‘বিপরীতদিকের বৃদ্ধলোকটিকে আজ খুবই বিষণ্ণ বলে মনে হল। দেয়ালের ছায়ার নীচে কোনো বিড়াল ছিল না। নগরের রাস্তার উপরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা ইঁদুরগুলোকে দেখে হয়ত বা তাদের শিকারের ইচ্ছা জাগ্রত হয়েছিল বলে সেখানে তাদেরকে দেখা যাচ্ছিল না। আমার ধারণা ছিল যে বিড়ালেরা মরা ইঁদুর খায় না। আমি দেখেছিলামও যে, মৃত ইঁদুরগুলো থেকে বিড়ালগুলো মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল। পরিবর্তে সম্ভবত তারা ভূগর্ভস্থ কুঠুরিতে শিকার করছিল। আমি খেয়াল করলাম যে, অন্যদিনের মত লোকটির মাথার চুল আঁচড়ানো নেই। তার দৃষ্টিও তেমন সতর্ক নয়, এবং তার ভেতরের সামরিক ভাবটা একেবারেই অনুপস্থিত। তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে, সে খুবই উদ্বিগ্ন। কিছুক্ষণ পর বৃদ্ধ লোকটি তার কক্ষে চলে গিয়েছিল এবং যাবার পূর্বে থুথু ছুঁড়ে মেরেছিল শূন্য রাস্তার উপরে।’

‘শহরের রাস্তায় আজ একটি গাড়িকে থামানো হয়েছিল। সেটার ভেতরে একটা মৃত ইঁদুর পাওয়া গিয়েছিল।
(প্রশ্ন: ওটা গাড়ির ভেতরে কিভাবে ঢুকেছিল?)
দুই তিনজন মহিলা গাড়িটি থেকে নেমে এসেছিল এবং ইঁদুরটিকে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। তারপর গাড়িটা চলে গিয়েছিল।’

‘হোটেলের রাত্রিকালীন পাহারাদার আমাকে নিশ্চিত করেছিল যে, ইঁদুরগুলোর চলে যাওয়ার অর্থই হল শহরে কোনো বিপদ আসছে।’

আমি তাকে বলেছিলাম, ‘যখন ইঁদুরেরা জাহাজ পরিত্যাগ করে সেটাকে সৌভাগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কিন্তু এই শহরের ক্ষেত্রে এখনো তা দেখা যাচ্ছে না।’

কিন্তু পাহারাদার তার বক্তব্যে অটুট থাকলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কি ধরণের বিপদের মুখোমুখি আমরা হতে পারি। সেটা সে বলতে না পারলেও আমাকে জানিয়েছিল যে, দুর্বিপাক সব সময়ে পূর্বাভাস দিয়ে আসে না এবং সে সত্যিই অবাক হবে না যদি কোন ভূমিকম্প হয়। আমি স্বীকার করেছিলাম যে, ভূমিকম্পের সম্ভাবনাকে আমরা কখনোই উড়িয়ে দিতে পারি না। তখন সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল ভূমিকম্পকে আমি ভয় পাই কিনা।’

‘আমি একটা পরিবারকে পেলাম যারা এই হোটেলে নিয়মিত আহার করে থাকে। পরিবারের পিতা দীর্ঘদেহী ও শীর্ণ একজন মানুষ। সবসময়েই কাল পোশাক পরে থাকে। তার মাথার উপরিভাগে টাক। দুই পাশে দুই গুচ্ছ বাদামী চুল ঝুলে আছে। গুটিকা সদৃশ চোখ ও সরু নাক। মুখটা সমতল হবার কারণে তাকে দেখতে বড় একটি পেঁচার মত লাগে। হোটেলের প্রবেশদ্বারে সেই প্রথমে আসে। পরিবারের অন্যান্যরা আসলে সে পাশে সরে দাঁড়ায় এবং স্ত্রীকে প্রথমে ভেতরে ঢুকতে দেয়। স্ত্রী মহিলাটি যথেষ্টই ছোট। দেখতে একটা কাল বিড়ালের মত। এরপর সে তার দুই সন্তানকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। সার্কাসের কুকুরছানার মত পোশাক পরা। স্ত্রী টেবিলে বসার পূর্ব পর্যন্ত লোকটি দাঁড়িয়ে থাকে। ততক্ষণ পর্যন্ত বাচ্চারাও দাঁড়িয়ে থাকে। পরিবারের সদস্যদের সাথে সে কোনো স্নেহমূলক কথা বলে না। বরং নম্রভাবে তির্যক মন্তব্য ছুঁড়ে দেয় স্ত্রীর প্রতি। মুখের উপরে সন্তানদেরকে বলে দেয়, যা সে তাদের সম্পর্কে ভাবে। ‘নিকোলে, খুবই অসভ্য আচরণ করছ, তুমি।’ তার কথা শুনে ছোট মেয়েটির চোখে অশ্রু চলে আসে। ছেলেটি উত্তেজনার সাথে ইঁদুর সম্পর্কে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। ‘ফিলিপ, খাবার টেবিলে কেউ ইঁদুর নিয়ে কথা বলে না। ভবিষ্যতে এই শব্দটি ব্যবহার করতে আমি তোমাকে নিষেধ করছি।’
‘তোমার বাবা ঠিকই বলেছে,’ ইঁদুরমুখী স্ত্রীটি অনুমোদন করে। দুই ক্ষুদ্র কুকুরের বাচ্চা প্লেটে নাক ডুবিয়ে খেতে শুরু করে। পেঁচা মানুষটি তখন চাঁচাছোলা ও ভাসাভাসা কণ্ঠে বলতে থাকে-

‘শহরের সবাই ইঁদুর নিয়ে কথা বলছে। স্থানীয় পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছে। শহর বিষয়ক কলামে নগর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সমালোচনা চলছে। আমাদের নগরপিতারা কি জানে যে, এই পচনশীল ইঁদুরগুলো থেকে নগরের মানুষদের জন্যে বিশাল বিপদের সৃষ্টি হতে পারে?’

‘হোটেলের ম্যানেজার এ সম্পর্কে ইঁদুর সম্পর্কে কিছুই বলতে পারল না। তবে এ বিষয়ে তার একটি ব্যক্তিগত ক্ষোভ আছে। তা হল মৃত ইঁদুরগুলোকে থ্রি-স্টার হোটেলের লিফটের ভেতরে পাওয়া যাচ্ছে। এর চেয়ে খারাপ বিষয় আর কিছুই হতে পারে না।

আমি তাকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্যে বললাম, ‘কিন্তু, আমরা সকলেই তো এখন একই নৌকায়।’

‘ঠিক বলেছ,’ সে উত্তর করল। ‘আমাদের সকলের অবস্থা এখন একই রকমের।’

এই লোকটিই আমাকে আমাকে প্রথম জানিয়েছিল যে, নগরে অদ্ভুত ধরণের একটা জ্বর শুরু হয়েছে এবং তা রীতিমত ভীতির সঞ্চার করেছে। তার এক পরিচারিকাও জ্বরে ভুগছে।

‘তবে আমি মনে করি যে, এটা সংক্রামক নয়,’ সে তাড়াতাড়ি করে আমাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিল।

‘আমি জানি, আমার মত তুমিও একজন অদৃষ্টবাদী মানুষ,‘ আমি তাকে বলেছিলাম।

তবে সত্য হল যে আমি কোন অদৃষ্টবাদী মানুষ নই।

এরপর ত্যারু’র লেখাগুলোতে কিছু বিস্তারিত বর্ণনা ছিল সেই অদ্ভুত জ্বর সম্পর্কে। তার বর্ণনা হতে আমরা জানতে পারি অন্তত ডজন খানেক জ্বরের রোগীর কথা, যাদের সকলেরই অবসান ঘটেছিল মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

দ্য প্লেগ (প্রথম পর্ব)

দ্য প্লেগ (দ্বিতীয় পর্ব)

দ্য প্লেগ (তৃতীয় পর্ব)

দ্য প্লেগ (চতুর্থ পর্ব)

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআর/আরএইচ