কোমল নীরব এই হেমন্ত

ঢাকা, রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৮ ১৪২৭,   ২৭ শা'বান ১৪৪২

কোমল নীরব এই হেমন্ত

মাজহার মনি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫০ ২৬ ডিসেম্বর ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিলের ওপারে কুসুম রংয়ের কোমল সূর্যটা ডুবে যাওয়ার আগে আগে যেন কুয়াশা মেশানো একটু হিমেল ছড়িয়ে গেছে বাতাসে। সদ্য রোপন করা বেগুনের চারার কচি ডগায়  জমতে শুরু করেছে মুক্তোদানার মতো শিশির বিন্দু। নবান্নের ধান কাটা শূন্য মাঠ থেকে উঠে আসছে ভেজা মাটির হেমন্তি সুভাস। প্রকৃতি নানাভাবে জানান দিচ্ছে হেমন্তের নীরব উপস্থিতি। 

হেমন্তের আগমণে যেন নীরবতা এবং কোমলতা ছুঁয়ে যায়  প্রকৃতিকে। হেমন্তের রাঙা সূর্যটা পূব আকাশে উদিত হয় স্বপ্নিল সোনালি রং নিয়ে যেনো তাপ দিতে নয় শুধু সোনালি রং ছড়াতে। সকালের কোমল রোদ গিয়ে পড়ে সদ্য শুকিয়ে যাওয়া খালের উপর দণ্ডায়মান অকর্ম সাঁকোর শিশিরভেজা বাঁশের গায়ে। 

হেমন্তের রোদ শুধু সাকোর হাতলের শিশিরটুকুই শুষে নেয়। পথিকের পায়ের স্পর্শে সৃষ্টি হওয়া সাকোর নিচের সরু পথটি শুকায় পথিকের পায়ের ছুঁয়াতেই। হেমন্তের ঝিম ধরা দুপুর শুষে নেয় চারদিকের কোলাহল আর সকল অস্থিরতা। ব্যস্ত কৃষকের ব্যস্ততা আর সোনালী ধানের সঙ্গে একাকার হয়ে যায় হেমন্ত। দুপুর গড়াতে গড়াতেই সোনালী রোদের উপর শুভ্র আভার প্রলেপ পড়ে যায়। 

দুপুর গড়িয়ে আসে হেমন্তের বিকাল। ধীরে ধীরে প্রকৃতি সিক্ত হতে থাকে কুয়াশার আদ্র ছোঁয়ায়। তার সঙ্গে গায়ের বধূর চোখের কোণ সিক্ত হয় দূর গাঁয়ের বাপের বাড়ির কথা ভেবে। বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়, সন্ধ্যার পর রাত। আকাশে উঁকি দেয় স্নিগ্ধ চাঁদ। 

হৈমন্তি চাঁদ স্নিগ্ধ আলোয় ভিজিয়ে রাখে সারা রাত। রাত শেষে আসে ভোর। ভোরের পাখিরা বিশেষ করে চড়ুই আর শালিক যেনো এই সময়টাতে একটু  আগেই জেগে উঠে। আনন্দ চিত্তে জোর গলায় জানান দেয় হেমন্ত এসে গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম