‘In dreams begin the responsibility’

ঢাকা, শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ২ ১৪২৮,   ০৮ সফর ১৪৪৩

‘In dreams begin the responsibility’

অনুবাদ: মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ (ছবিঘর আসাদ) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫৮ ২১ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৫৯ ২১ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

এডলফ আইখম্যানের বিচারের উপরে একটা বই হাতে পেয়েছিলাম। নাৎসি যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তার সম্পর্কে আমার অস্পষ্ট ধারণা ছিল। তবে তাকে জানার বিশেষ আগ্রহ আমার কখনই ছিল না।

বইটা আমার সামনে পড়তেই আমি সেটি হাতে তুলে নিয়েছিলাম। পড়া শুরু করার পর অবাক বিস্ময়ে জানতে পেরেছিলাম, কীভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পর জার্মান সিক্রেট সার্ভিসের এই সম্পূর্ণ বাস্তববাদী লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মেটাল ফ্রেমের চশমা ও ক্রমশ হালকা হওয়া মাথার চুল নিয়ে নাৎসি সদরদপ্তর হতে ইহুদীদেরকে পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে নির্মূল করে দেয়ার পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। আমি এটাও জেনেছিলাম কীভাবে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক নির্ধারণ করেছিলেন এই নির্মূল কার্যক্রম সম্পন্ন করার শ্রেষ্ঠতম উপায় সমূহ।

বইটি পড়ার পর এই নিষ্ঠুরতম কাজের সাথে নৈতিকতার সম্পর্কের বিষয়টি তাকে কখনোই নাড়া দিয়েছিল বলে আমার মনে হয়নি। মনে হয়েছে যে, তিনি শুধুমাত্র চিন্তিত ছিলেন দায়িত্ব সম্পন্ন করা নিয়ে। অর্থাৎ কীভাবে অর্পিত দায়িত্বকে অর্থাৎ ইহুদীদেরকে সবচেয়ে কম সময়ে, ন্যূনতম খরচে ও সুচারুরূপে নির্মূল করা যায়!

শুধুমাত্র কয়েকজন বা কয়েক শত ইহুদীদের বিষয় ছিল না সেটা। এই প্রকল্পের অধীনে তৎকালীন ইউরোপের ১১ মিলিয়ন ইহুদীদেরকে সম্পুর্ণরুপে নির্মূল করার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো।

ছবি: সংগৃহীত

উদ্দেশ্যকে সফল করতে আইখম্যান বিভিন্ন ধরণের নিরীক্ষা পরিচালনা করেছিলেন। নিরীক্ষা করে দেখেছিলেন যে, সর্বোচ্চ কতজন ইহুদীকে একসাথে একটা রেলের কামড়ায় ঢোকানো সম্ভব। এদের কতজন এই প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করবে এবং কতজন বেঁচে থাকবে। তিনি  পুরো অপারেশন সর্বনিম্ন কত জনবল দিয়ে পরিচালনা ও মৃতদেহ সমূহকে কত সস্তা উপায়ে সৎকার করা সম্ভব, তাও নিরীক্ষা করে দেখেছিলেন। পুড়িয়ে; নাকি মাটির তলে চাপা দিয়ে; নাকি গলিয়ে ফেলে।

নিজের ডেস্কে বসে আইখম্যান সারাক্ষণ এই বিষয়গুলো চিন্তাভাবনা করতেন। পরিশেষে অপারেশনে নামার পর সবকিছুই তার পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পাদিত হয়েছিল। ফলে যুদ্ধ শেষ হবার পূর্বেই ছয় মিলিয়ন ইহুদিদেরকে পৃথিবীর বুক হতে নিশ্চিহ্ন করে দিতে সমর্থ হয়েছিলেন তিনি।

আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, এই লোক কখনোই অনুতপ্ত হননি। এমনকি তেল আবিবের বুলেটপ্রফ গ্লাসের পেছনের আদালতে বসে থাকা আইখম্যানকে দেখে কখনই কারও মনে হয়নি যে, তিনি নিজের দোষ ধরতে পেরেছেন। বরং মনে হতো, তিনি বুঝতে সক্ষম নন কেন তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে? কেনই বা সারা পৃথিবীর মানুষের মনো্যোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন তিনি?

নিজের সম্পর্কে তার যুক্তি ছিলো তিনি ছিলেন শুধুমাত্রই একজন প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন মানুষ, যিনি আবিষ্কার করেছিলেন তার উপরে অর্পিত দায়িত্ব কীভাবে ত্রুটিহীন ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। তিনি দাবী করতেন যে, একজন ভালো ব্যুরোক্র্যাট সাধারণত যা করে, তিনি তাই করেছিলেন। সুতরাং অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করে কেন তাকে অভিযুক্ত করা হবে?

- নির্জন বনের ভেতরে পাখির কাকলী শুনতে শুনতে আমি এই বাস্তব জ্ঞানের মানুষটার সম্পর্কে পড়ছিলাম। বইটার পেছনে ‘ওশিমা’ পেনসিল দিয়ে হস্তাক্ষরে নীচের নোটটি লিখে রেখেছিল।

এটা আসলে হলো কল্পনার প্রশ্ন। যে কোনো দায়িত্বের শুরু হয় আমাদের কল্পনা করার শক্তি হতে। কবি ইয়েটস একে প্রকাশ করেছেন এভাবে- “স্বপ্নের ভেতরেই দায়িত্বের শুরু। এই কথাটি বুঝতে পারলেই শুধু তুমি অনুধাবন করতে সক্ষম হবে যে, যেখানে কল্পনা করার শক্তি নেই, সেখান থেকে দায়িত্বের শুরু হতে পারে না।"

যেমনটা আমরা পর্যবেক্ষন করি আইখম্যানের ক্ষেত্রে। আইখম্যানের কোন কল্পনাশক্তি ছিল না।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ