একটা মগ্ন দুপুরের কার্নিশে ঝুলে ছিল আমার আকুতি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

একটা মগ্ন দুপুরের কার্নিশে ঝুলে ছিল আমার আকুতি

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২০ ১৮ নভেম্বর ২০২০  

একটা মগ্ন দুপুরের কার্নিশে ঝুলে ছিল আমার আকুতি- ফাইল ছবি।

একটা মগ্ন দুপুরের কার্নিশে ঝুলে ছিল আমার আকুতি- ফাইল ছবি।

নিঃশব্দ বেড়ালের মত তোমার পায়ের কাছে বসে ছিলাম যেন
তোমার চুলের বিন্যাশে বিলি কাটছিল একটা মায়াবী রোদের ছবি
তোমার নাসপাতি গালে খেলা করছিল শতাব্দীর মোনালিসা হাসি

তুমি বললে- -আমি কুয়াশার ক্যানভাসে ভেসে থাকা জলছবির মত তোমার সাথেই আছি । অথবা আকাশের ব্যালকনিতে ঝুলে থাকা কেউ – 

অথচ আমার উন্মীল হ্রদয়ে শুনি যার আকাশ ভাঙ্গা বাতাসের লক্ষ পদক্ষেপ
তার এই জলছবির ভঙ্গুরতা নিয়ে অথবা ঝুলে থাকা নিয়ে আমার আশংকা ক্রমশঃ ভয় হয়ে যেতে থাকে 
এই হারানোর ভয়ে রাত্রিজুড়ে বিষন্নতা পাশ বালিশের মত পাশে ঘুমায় আমার ।

আমি কাঁপা কাঁপা হাতে সবুজ পাতায় লিখে যাই অমর মহাকাব্য
আমার খাতা ভরা থাকে অর্বাচীন রক্তিম হারানোর ভয়ে ।
গহীন নদীর বাঁকে বাঁকে, ম্যাপল ট্রির পাদানিতে মহাকালের অন্ধকার বসে থাকে । রাত্রির খিলান জুড়ে আমার জানা-অজানা, চেনা-অচেনার নানাবিধ সংক্রামক আক্রমনে হতবিহ্বল আমি । অচেনারে চিনতে যেয়ে হাত থেকে পড়ে যায় সাধের গন্ধম আর আমি পাপবিদ্ধ হই ।

মাথা পেতে সে শাস্তি নিয়ে ঘুরতে থাকি ভূমন্ডলের পাহাড়ে পর্বতে।
আর তাই অজানার গহ্বরে নবজাতক শিশুর মত বালখিল্যতায় কাটিয়ে দিই সুরম্য শয়ান ।কিন্ত এক চিলতে রোদ নাচে আমার শয়ান কক্ষের পাশে।

সেই রোদের ভাষায় জন্ম নেয় স্পন্দিত এক নদী , তার উদার কল্লোল, কথোপকথনের সঙ্গীত, খুনসুটির ইতিহাস, অভিমান বিদ্যা কিম্বা কবিতার প্রয়াস

আমি জানি সেই এক চিলতে রোদ্দুরের মতই তুমি আছো সমস্ত মখমল সময়ে
তোমার রঙে রঙ্গিন হয়ে আছে রংধনু দিন, শারদীয় শিউলী সকাল
শিশির ভেজা সফেদ ঘাস
তোমার সেই আলোময় মুহুর্তের জন্য আমি যেন শতদলে ফুটে আছি
মেলে আছি শুভ্র পাঁপড়ি
বিছিয়ে আছি কোমল মেঘ তোমার সিথানে
তোমার মোহময় উপস্থিতিতে এক সুগন্ধী বাতাস ঘিরে রাখে আমায় এবং এই সমাজকে 
আর 
নিমগ্নতায় ডুবে যায় চরাচর,
ধুসর মেঘ, 
নিবিড় জোছনা- - --সব ডুবে যায় একান্ত ভালোবাসায়

এমন সতেজ স্বপ্নের কোন মন্ত্রের অধিকারী তুমি?
কি এমন তপমন্ত্রে সাজিয়েছো বিশ্ববাগান?
কি এমন আকাশ সরোবর দিয়েছ উপুড় করে? 
কেন চরাচরের নিসংগতা ভুলে একাগাদা মানুষ আকাশ পানে তাকিয়ে থাকে!!

রে অচেনা,
মধুলিপ্ত আকাশেই বুঝি স্বপ্নের খিলান দেখা যায় ????

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ